• " />

     

    আয়ারল্যান্ডকে ইতিহাস গড়তে দিলেন না ফোকস-কারান

    একমাত্র ওয়ানডে, মালাহাইড
    আয়ারল্যান্ড ১৯৮ অল-আউট, ৪৩.১ (৪৫) ওভার (স্টার্লিং ৩৩, এডেয়ার ৩২, প্লাঙ্কেট ৪/৩৫, কারান ৩/৩৫) 
    ইংল্যান্ড ১৯৯/৬, ৪২ (৪৫) ওভার (ফোকস ৬১*, কারান ৪৭*, লিটল ৪/৪৫, মারটাহ ১/২৯)
    ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী 


    অভিষেকেই বেন ফোকসের দারুণ ফিফটির সঙ্গে টম কারানের ৪৭ রানের অপরাজিত ইনিংসে আয়ারল্যান্ডকে হতাশ করেছে ইংল্যান্ড। ১৯৯ রান তাড়ায় অভিষিক্ত জশ লিটলের বোলিং ও আইরিশদের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে ইংল্যান্ড ৬৬ রানেই হারিয়েছিল ৫ উইকেট। তবে দারুণ চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন ফোকস, কারানের সঙ্গে ৭ম উইকেটে তার ৯৮ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত হয়েছে ইংল্যান্ডের। গত মৌসুমে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে নিজেদের ওয়ানডে-মৌসুম শুরু করেছিল ইংল্যান্ড, এবারও আয়ারল্যান্ড কাঁপিয়ে দিল তাদের। তবে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় গ্রীষ্ম’-এর শুরুটা তাদের হলো জয় দিয়েই। 

    মালাহাইডে এক ম্যাচের এই লড়াইটা ছিল অভিষিক্তদের। ফোকসের সঙ্গে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয়েছে ডেভিড মালান ও বহুল প্রতিক্ষীত জফরা আর্চারের। আইরিশদের হয়ে অভিষেক হয়েছে লরকান টাকার, মার্ক এডেয়ার ও লিটলের। লিটল ও এডেয়ার মিলেই আয়ারল্যান্ডকে দেখিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও নিজেদের মাটিতে প্রথম জয়ের স্বপ্ন, তবে ফোকসে ম্লান হয়ে গেছে সেটা। 

     

    অভিষেকে দারুণ ছিলেন ফোকস

    রানতাড়ায় ভিনস ও মালান শুরুটা করেছিলেন আক্রমণাত্মই। খানিক বাদেই সব আলো কেড়ে নিলেন জর্জ ডকরেল। লিটলকে জোরের ওপর পুল করেছিলেন চার বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা ভিনস, শর্ট মিডউইকেটে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচটা নিয়েছেন ডকরেল। টিম মারটাহর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছেন জো রুট, লিটলের লাফিয়ে ওঠা বলে খোঁচা দিয়েছেন ওইন মরগান। এরপর আবার আরেকটি দারুণ ক্যাচ, উইকেটকিপার গ্যারি উইলসন বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে একহাতে নিয়েছেন মালানের ক্যাচ। জো ডেনলি পুল করতে গিয়েছিলেন বয়েড র‍্যাঙ্কিনকে, শর্ট মিডউইকেটে ধরা পড়েছেন কেভিন ও’ব্রায়েনের হাতে। 

    আয়ারল্যান্ড তখন ম্যাচে ছিল দারুণভাবেই। মারটাহ ও ডকরেল রান চেক দিলেন দারুণভাবে। তবে পরের গল্পটা নিজের করে নিলেন ফোকস। প্রথমে ডেভিড উইলি সঙ্গ দিলেন তাকে, দুজনের জুটিতে এলো ৩৫ রান। লম্বা ব্যাটিং লাইন-আপ থাকলেও এমন রানতাড়ায় ইংল্যান্ডের নিচের ব্যাটসম্যানরা কী করেন, দেখার বিষয় ছিল সেটা। উইলির ধৈর্য্যর বাঁধ ভাঙলো লিটলের লেগসাইডের বলে, ফ্লিক করতে গিয়ে ধরা পড়লেন ডিপ ফাইন লেগে। একটা ব্রেকথ্রু পেতেই লিটলকে এনেছিলেন আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। 

     

     

    ফোকসের সঙ্গে যোগ দিলেন কারান, তাকে দারুণ অভ্যর্থনা দিলেন লিটল। লেগসাইডে গ্লাভসে লেগে যাওয়া বলটা ঠিকঠাক যায়নি উইলসনের গ্লাভসে, পরের বলেই বাউন্সারে ভড়কে গেলেন কারান। ইংল্যান্ড তখন উত্তাপটা টের পাচ্ছে বেশ। আয়ারল্যান্ড অবশ্য এরপর মিস করে গেছে বড় একটা সুযোগ। দলীয় ১৩৭ ও নিজের ৩৭ রানে মারটাহর বলে এলবিডব্লিউ হতে পারতেন ফোকস, আয়ারল্যান্ড নেয়নি রিভিউ। এরপর থেকে সেভাবে সুযোগ পায়নি আর আয়ারল্যান্ড, একদম শেষে গিয়ে অবশ্য কারানের একটা ক্যাচ পড়েছে। তবে ততক্ষণে ইংল্যান্ডকে নিরাপদেই নিয়ে গেছেন ফোকস আর কারান। ্লিটলের নো-বলে চার মেরে ম্যাচ শেষ করেছেন ফোকস, অভিষেকে ৫ উইকেট নেওয়া হয়নি আয়ারল্যান্ড পেসারের। অবশ্য ৪৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডের হয়ে অভিষেকে দ্বিতীয় সেরা বোলিং করলেন লিটল।

     

    বহুল প্রতিক্ষীত অভিষেকটা করেই ফেললেন আর্চার

    এর আগে বৃষ্টিতে ৪৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচের প্রথম ইনিংসও অবশ্য ইঙ্গিত দেয়নি, সেটা হতে যাচ্ছে এমন রোমাঞ্চকর। পোর্টারফিল্ড ও পল স্টার্লিং শুরুটা করেছিলেন দেখেশুনে, ওপেনিংয়েই উঠেছিল ৫৫ রান। মিড-অনে আর্চারের হাতে কারানের বলে ধরা পড়ার আগে স্টার্লিং করেছিলেন ৩৩। এরপর আয়ারল্যান্ড ইনিংসে নেমেছিল ছোটখাট ধস, ৫৫ রানে ০ থেকে তার পরিণত হয়েছিল ৭৭ রানে ৪ উইকেটে। 

    গ্যারি উইলসনকে নিয়ে কিছুক্ষণ লড়াই চালিয়েছেন অ্যান্ডি ব্যালবার্নি, তবে তাকে স্টাম্পড হতে হয়েছে ফোকসের দারুণ চালাকিতে। ডেনলির বল মিস করে গিয়েছিল ব্যালবার্নি, ফোকস অপেক্ষা করে ছিলেন তার পা ওপরে ওঠার। তার আগেই রশিদের বলে ফিরেছেন উইলসন। 

    ডকরেলের ২৪ রানের পর এডেয়ারের ৩০ বলে ৩২ রানের ক্যামিওতে আয়ারল্যান্ড গিয়েছিল ১৯৮ রান পর্যন্ত, ৪৩.১ ওভারে। এডেয়ারকে দারুণ ইয়র্কারে বোল্ড করে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম উইকেটটা নিয়েছিলেন আর্চার। তখন পর্যন্ত আলোচনার বিষয় ছিল সেসবই। 

    লিটল-ফোকসই বদলে দিলেন গল্পটা, যেটা আয়ারল্যান্ডের জন্য ঐতিহাসিক হতে হতেও হলো না শেষ পর্যন্ত।