• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    • ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

    নাটক জমিয়ে সিটির শিরোপা উদযাপন

    মৌসুমে শুরুতে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার ধরা হয়েছিল এই দুই দলকেই। নভেম্বর পর্যন্ত অবশ্য চেলসিও টেক্কা দিল। কিন্তু এরপর রঙ হারিয়ে ছিটকে পড়ল তারা। তখন থেকেই দ্বিমুখী লড়াই শিরোপার জন্য। সেই লড়াইটা গড়াল শেষদিন পর্যন্ত, শিরোপার নিষ্পত্তি হলো ৩৮ তম সপ্তাহে এসে। এর মধ্যে ৩২ বার শীর্ষ স্থানে জায়গা অদল-বদল করলো লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার সিটি। শেষদিনেও নাটক, একটা সময় পর্যন্ত লিভারপুলই এগিয়ে থাকল। কিন্তু ম্যান সিটির কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতেই হয়েছে তাদের। ১ পয়েন্টের দূরত্ব ফারাক হয়ে ঠেকেছে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে পেপ গার্দিওলার দল। 



    কিন্তু এমন শিরোপার লড়াই ম্যাড়মেড়ে ভাবে শেষ করতে চাইল না সিটি। প্রিমিয়ার লিগের ১৭ তম দল ব্রাইটন। তাদের বিপক্ষে জয়টা খুব বেশি কঠিন হওয়ার কথা ছিল না সিটির। কিন্তু সহজ কাজটা শেষে কঠিন বানিয়ে সম্পন্ন করেছে গার্দিওলার দল। 

    অ্যানফিল্ডে উলভসের বিপক্ষে সাদিও মানে যখন গোল করেছেন তখনও প্রথম গোলের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন আগুয়েরো, স্টার্লিংরা। মানের গোলে অ্যানফিল্ডে তাই রঙ চড়ল। বিশ্বাসটা আরও বেড়ে গেল ব্রাইটন গোল করার পর। ২৭ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করে গ্লেন মারি সিটির শিরোপা আয়োজনে পানি ঢেলে দিতে বসেছিলেন। সেই খবর অ্যানফিল্ডে পৌঁছাল বিদ্যুৎ গতিতে। বাকি ৬৩ মিনিটে সিটিজে করতে হবে দুই গোল। তাহলেই ২৮ বছর পর শিরোপা ছুঁয়ে দেখবে লিভারপুল। 

    অস্বস্তিটা খুব বেশিক্ষণ দলের ওপর ভর করতে দিলেন না সার্জিও আগুয়েরো। শেষদিনে শিরোপা ছিনিয়ে আনার কৌশল তাঁর চেয়ে ভালো আর কে জানে! এর আগের বার শেষ গোলটা করেছিলেন। এবার শুরুটা করে দিলেন তিনি। ৮৩ সেকেন্ড সময় নিলেন তিনি। দারুণ এক গোলে সিটিকে প্রাণ ফিরিয়ে দিলেন আর্জেন্টাইন। 

    বিরতির সময়েও ১-১ গোলে থাকলে চাপে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল সিটির। চাপটা আর বাড়তে দিতে চাইল না সিটি। দশ মিনিট পর কর্নার নিলেন রিয়াদ মাহরেজ। আইমেরিক লাপোর্তের হেড, সেটাই পরিণত হলো গোলে। অ্যামেক্স স্টেডিয়ামে তখন শোনা গেল শুধু সিটি সমর্থকদের গর্জনই। 

    মাহরেজকে একাদশে রেখে চমক দিয়েছিলেন গার্দিওলা। ম্যাচের আগে বলেছিলেন, তাঁর মতো লড়াকু খেলোয়াড় এমন ম্যাচের জন্যই মুখিয়ে থাকেন। সিটির রেকর্ড সাইনিং, নিজেকে প্রমাণের জন্যও হয়ত এই দিনটাই আলাদা করে রাখলেন।  ডিবক্সের ঠিক সামনে বল পেয়েছিলেন। একবার কাটিয়ে ব্রাইটন ডিফেন্ডার ডাঙ্ককে ছিটকে ফেলেছেন। সামনে খালি হয়ে গেল খানিকটা জায়গা। ডান পায়েই নিলেন জোরালো শট। ৬৩ মিনিটের ওই গোলে নিশ্চিত হয়ে গেল শিরোপাটা হারাচ্ছে না সিটি। 

     

     

    ইলকে গুন্ডোয়ানের অবদান প্রায়ই ঢাকা পড়ে যায় সিটির খেলায়। ফার্নান্দিনহো ইনজুরিতে পড়ার পর পুরোটা সময় দারুণ খেলেছেন তিনি। শিরোপা উঁচিয়ে ধরার দিনে নিজের দিনে পাদপ্রদীপের আলো নিজের দিকেও টেনে নিলেন গুন্ডোয়ান। ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে বল জড়ালেন টপ কর্নারে। ৭২ মিনিটে ৪-১ গোলে এগিয়ে গেল সিটি। 

    অ্যানফিল্ড থিতিয়ে গেছে ততোক্ষণে। নিজেদের ভাগ্য মেনে নেওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই তাদের। সাদিও মানে আরেক গোল করে জয় নিশ্চিত করলেন। নিশ্চিত করলেন ৯৭ পয়েন্টও। প্রিমিয়ার লিগে এই পয়েন্ট নিয়ে আগের ২৬ বার লিগ জিততে পারত লিভারপুল। নিজেদের সেরাটা দিয়েও শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরতে হলো তাদের। এর বেশিকিছু কি করার ছিল লিভারপুলের? হয়ত না। দুর্দান্ত সিটির সঙ্গে তাদের ব্যবধান মাত্র ১ পয়েন্টের, দিনশেষে এইটুকু তৃপ্তি সম্বল ইয়ুর্গেন ক্লপের দলের।