• বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
  • " />

     

    • বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব

    কাতার, ভারতের সঙ্গে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে এক গ্রুপে বাংলাদেশ

    বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাইয়ের মূলপর্বে গ্রুপ 'ই' তে পড়েছে বাংলাদেশ। ওমান, ভারত, আফগানিস্তান ও কাতার এই গ্রুপে হয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গী। চার দেশের সঙ্গে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে লেগের ভিত্তিতে রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে বাংলাদেশ মোট ৮ টি ম্যাচ খেলবে। এ বছরের সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখ থেকে শুরু হয়ে বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্ব চলবে ২০১৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত।

    মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এএফসি হাউজে অনুষ্ঠিত ড্রয়ে নির্ধারণ হয়েছে এশিয়া অঞ্চলের শীর্ষ ৪০ দেশের ভাগ্য। ড্র সঞ্চালনায় সহায়তা করেছেন সাবেক এভারটন ও অস্ট্রেলিয়া স্ট্রাইকার টিম কেহিল।

    এশিয়া অঞ্চলে ফিফা র‍্যাংকিং অনুযায়ী শীর্ষে থাকা ৩৪ দেশের সঙ্গে পরে যোগ হয়েছে প্রাক বাছাই উতরে আসা আরও ৬ দেশ। প্রাক বাছাইয়ে লাওসকে হারিয়ে মূল পর্ব নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। ৪০ দেশকে মোট ৮ গ্রুপে ভাগ করে অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় পর্বের ড্র।

    বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে অবশ্য কাতার সরাসরিই খেলবে বিশ্বকাপে। কিন্তু বাছাইপর্বেও অংশ নেবে তারা। পট ১ থেকে বাংলাদেশের ভাগ্যে পড়েছে স্বাগতিক দেশই। পট দুই থেকে ওমান। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান ৮৬ তম। গ্রুপের বাকি দুই দল অবশ্য বাংলাদেশের চেনা প্রতিপক্ষ। ভারত ও আফগানিস্তান। যদিও সেই ভারতের ফিফা র‍্যাংকিংয়ে অবস্থানও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ওপরে। আপাতত তারা আছে ১০১ নম্বরে। আর আফগানদের অবস্থান ১৪৯ এ। ফিফা র‍্যাংকিংয়ের সবশেষ অবস্থান অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৩ তে।

    আট গ্রুপের আট চ্যাম্পিয়ন ও শীর্ষ চার রানার্স আপ নিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের তৃতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। কাতার সরাসরি বিশ্বকাপ খেলায় তারা থাকবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের হিসাবের বাইরে। অর্থাৎ কাতার যদি নিজেদের গ্রুপ থেকে শীর্ষ স্থান অর্জনও করে এই গ্রুপ, এরপরও 'ই' গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় হওয়া দল সরাসরি উঠে যাবে পরের রাউন্ডে।

    দ্বিতীয় পর্ব উতরানো মোট ১২ দলের ২০২৩ চীন এশিয়া কাপেও খেলা নিশ্চিত হবে। আর তৃতীয় পর্বের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৬ দলকে আলাদা করে ভাগ করা হবে দুই গ্রুপে। দুই গ্রুপ থেকে চারটি দল খেলবে বিশ্বকাপে। আর দ্বিতীয় পর্ব পেরুতে না পারা দেশগুলো অংশ নেবে এশিয়া কাপ বাছাই পর্বের অন্যান্য ধাপে।

    তাই আপাতত গ্রুপের একেবারে তলানীতে শেষ করলেও এশিয়া কাপে বাছাই করার সুযোগ তখনও থাকবে বাংলাদেশের সামনে। আট গ্রুপের চতুর্থ হওয়া সেরা চার দল অংশ নেবে তৃতীয় রাউন্ডের এশিয়া কাপ বাছাই পর্বে। আর বাকি চার চতুর্থ হওয়া দল  ও পঞ্চম হওয়া দলগুলো একে অপরের বিপক্ষে খেলবে এশিয়া কাপের বাছাই পর্বের প্লে-অফে।

    কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশ খেলেছে মোট তিনবার। ১৯৭৯ সালে প্রথমবার কাতারের মুখোমুখি হয়ে সেবার ড্র করেছিল বাংলাদেশ। বাকি দুইবারই বাংলাদেশকে হারতে হয়েছে বড় ব্যবধানে। ভারত আর বাংলাদেশ একে অপরের বিপরীতে খেলেছে মোট ২৮ বার। এর মধ্যে ভারতই জিতেছে ১৫ বার। ভারতের সঙ্গে সবশেষ দুই দেখায় অবশ্য অপরাজিত ছিল বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে আন্তজার্তিক প্রীতি ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল দুই দলের সবশেষে ম্যাচ।

    গতবার অবশ্য তুলনামূলক আরও কঠিন গ্রুপে পড়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া, তাজিকিস্তান, কিরগিস্তান,জর্ডানের সঙ্গে সব মিলিয়ে ৮ ম্যাচ খেলে মাত্র একটি পয়েন্ট অর্জন করতে পেরেছিল লাল সবুজের দল। সে তুলনায় এবারের ড্রকে সহজ বলার উপায় না থাকলেও প্রতিপক্ষ দলগুলো বাংলাদেশের পরিচিতই। সাফ ফুটবলের কল্যাণে ভারত ও আফগানিস্তানের সঙ্গে নিয়মিতই দেখা হয়েছে বাংলাদেশের। এসব ম্যাচে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে নেই।



    গ্রুপ এ : চীন, সিরিয়া, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ, গুয়াম
    গ্রুপ বি : অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, চাইনিজ তাইপে, কুয়েত, নেপাল
    গ্রুপ সি : ইরান, ইরাক, বাহরাইন, হংকং, কম্বোডিয়া
    গ্রুপ ডি : সৌদি আরব, উজবেকিস্তান, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সিঙ্গাপুর
    গ্রুপ ই : বাংলাদেশ, ওমান, ভারত, আফগানিস্তান, কাতার
    গ্রুপ এফ : জাপান, কিরগিস্তান, তাজিকিস্তান, মায়ানমার, মঙ্গোলিয়া
    গ্রুপ জি : সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া
    গ্রুপ এইচ : দক্ষিণ কোরিয়া, লেবানন, উত্তর কোরিয়া, তুর্কমিনিস্তান, শ্রীলঙ্কা