• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    আর্সেনালে কেমন করবেন পেপে?

    নিজেদের ট্রান্সফার রেকর্ড ভেঙ্গে ৮০ মিলিয়ন ইউরোতে আইভরি কোস্ট উইঙ্গার নিকোলাস পেপেকে দলে নিয়েছে আর্সেনাল। পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াং এবং আলেকজান্ডার লাকাজেতের সাথে দুর্ধর্ষ এক আক্রমণত্রয়ীই হয়তো গড়ে তুলবেন তিনি। দানি সেবায়োস, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি এবং উইলিয়াম সালিবার পর চতুর্থ সাইনিং হিসেবে উনাই এমেরির দলে যোগ দিলেন পেপে। সর্বকালের সবচেয়ে দামী আফ্রিকান ফুটবলারও এখন তিনিই।

    পেপের আগে ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে উইলফ্রেড যাহাকে কিনতে চেয়েছিল আর্সেনাল। কিন্তু আর্সেনালের দেওয়া ৪০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব নাকচ করে যাহার জন্য ক্রিস্টাল প্যালেস দাবি করে বসেছিল ৮০ মিলিয়ন ইউরো। প্রায় সম পরিমাণ অর্থই খরচ করছে আর্সেনাল। তবে সেটা যাহার জন্য নয়, পেপের জন্য। এরপর তাই যাহাকে আর দলে ভেড়ানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।


     


     

    কে এই পেপে? 
    ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া আইভরি কোস্ট ফুটবলার উঠতি তরুণদের ভেতর বেশ নাম করে ফেলেছেন গত মৌসুমে। ফ্রেঞ্চ লিগে লিলের হয়ে গত মৌসুমে ২৩ গোল করেছেন পেপে, অ্যাসিস্টও আছে ১০টি। বাম পায়ের ফুটবলার, রাইট উইং থেকে কাট করে ভেতরের  দিকে ঢোকা তাঁর খেলার সহজাত প্রবৃত্তি। পেপের মূল অস্ত্র তাঁর ক্ষীপ্র গতি ও বলের ক্লোজ কন্ট্রোল। অফ দ্য বা ও অন দ্য বল- দুই মুভমেন্টেই দারুণ। অফ দ্য বল মুভমেন্টে গোলস্কোরার ভূমিকা পালন করেন সাধারণত। পেপের বুদ্ধিদীপ্ত রান যে কোনো ডিফেন্সের জন্যই চিন্তার কারণ। বিশেষ করে হাই ডিফেন্সিভ লাইনে খেলা প্রতিপক্ষের জন্য বেশ কার্যকর তিনি। উইঙ্গার হলেও দুর্দান্ত ফিনিশ তাঁর। লিগ ওয়ানে কিলিয়ান এমবাপ্পের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া স্বাক্ষর রাখছে সেটার। 

    সৃজনশীল ভূমিকাতে অবশ্য আরও ভালো পেপে। তবে স্পেস দরকার হয় কিছুটা, সে কারণে প্রায়ই নিচে নেমে এসে খেলার বিল্ড আপে সাহায্য করেন। আর গতি থাকায় বেশ সাহায্যও পান। তবে দুর্বলতাও আছে তাঁর। বাম পায়ের ওপর একটু বেশিই নির্ভরশীল। প্রতিপক্ষ পেপেকে ডান পায়ে খেলতে বাধ্য করলে তাই ঝামেলাতেই পড়ে যেতে হয় পেপেকে। 

    আর্সেনালে কেমন করবেন পেপে?
    উনাই এমেরির দলে ৪-৩-৩ ফর্মেশনের ডানপ্রান্তেই খেলার কথা তাঁর। সঙ্গী হবেন পিয়ের এমেরিক অবামেয়াং ও অ্যালেক্সান্ডার লাকাজেত। উইঙ্গার হলেও তাঁর উচ্চতা ৬ ফুট, তাই লং বলে প্রিমিয়ার লিগের ধাঁচের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যাওয়ার কথা পেপের। তবে রক্ষণে তেমন একটা মনোযোগী নন তিনি। আর আর্সেনালের সবচেয় বড় সমস্যাও এটাই। গোল নিয়ে এমেরির দলকে তেমন একটা ভুগতে হয়নি গত মৌসুমে, যতটা ভুগিয়েছে নড়বড়ে রক্ষণ। তাই পেপেকে নতুন কিছু কৌশলও রপ্ত করতে শিখতে হবে এমেরির দলে।

    দানি সেবায়োস দলে আসায় মিডফিল্ডে আরেকটু ভারসাম্য আশা করতে পারে আর্সেনাল। তবে সঙ্গে পেপের অবদান না থাকলে ঘুরে ফিরে পুরনো ঝামেলাতেই পড়তে হতে পারে গানারদের।