• বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
  • " />

     

    ছয় মাসে কী বদলাবে, নিশ্চিত নন জেমি ডে

    তাজিকিস্তান থেকে ফিরে বাংলাদেশ স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন শুনিয়েছেন আশার কথা। আফগানিস্তানের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে আসার পর বাংলাদেশ স্ট্রাইকার বলছেন ঢাকায় ফিরতি লেগে কয়েক গোলের ব্যবধানে হারানো সম্ভব আফগানদের।

    তাজিকিস্তানে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাইয়ে আফগানদের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে তেমন একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। সেরা সুযোগটি এসেছিল ম্যাচের শেষ মুহুর্তে, সেটা থেকে গোল করতে পারতেন জীবন। পেতে পারতেন পেনাল্টিও। কোনোটাই শেষে কপালে জোটেনি। গোলের জন্য হাহাকার করে ফেরা বাংলাদেশের ছয় মাস পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাঠে খেলবে দ্বিতীয় লেগ। কী এমন বদলাবে যাতে আফগানদের কয়েক গোলের ব্যবধানে হারানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে জীবনদের? বাংলাদেশ কোচ জেমি ডের কাছেও সে জবাব নেই। গোল পেতে তিনি বলছেন সামগ্রিক উন্নতির কথা।

    "আমি জানি না ছয় মাসে কী পরিবর্তন হবে, আমার কাছে জবাব নেই। আমরা শুধু কঠোর পরিশ্রম করতে পারি। আমরা ডিফেন্সিভ ও অ্যাটাকিং শেপ নিয়ে কাজ করব। আমি জানি ম্যাচ জিততে হলে গোল করতে হবে। আমার কাছে কোনো জাদু নেই যেটা দিয়ে খেলোয়াড়দের নিয়মিত ১০/২০ গোল করাতে পারব। এটা হতাশার মাঝেমধ্যে। কিন্তু আমার খেয়াল রাখতে হবে যতক্ষণ আমরা সুযোগ পাচ্ছি, সেগুলোই কাজে লাগাতে হবে।" 

     

     

    শেষ ৫ ম্যাচ বাংলাদেশ মোট গোল করেছে তিনটি। এর ভেতর দুইটি করেছেন মিডফিল্ডার রবিউল হাসান আরেকটি আত্মঘাতী। ওই তিনটি ম্যাচেই জিতে ফিরেছে ডের দল। তবে সুযোগ তৈরিতে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা মেনে নিচ্ছেন কোচও, "আপনারা যদি আমাদের ফরোয়ার্ডদের দেখেন, তারা কেউ ক্লাবের হয়ে এই পজিশনে খেলে না। আপনার ফরোয়ার্ড যদি ক্লাবের হয়ে ডিফেন্সে খেলে তাহলে আপনি কখনোই ওয়ান ভি ওয়ানে সফল হবেন না। ডাইরেক্ট অ্যাপ্রোচেও যেতে পারবেন না। এটা কঠিন, খুবই কঠিন। আমি আগেও এসব নিয়ে কথা বলেছি। আমরা যদি জাতীয় দলকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই, আর আমাদের খেলোয়াড়দের উন্নতি করাতে চাই- আমাদের লিগের কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে বিদেশীদের ভূমিকায়।" 

    বাফুফে ভবনে বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে অবশ্য কপালকেও দুষেছেন তাজিকিস্তান থেকে খালি হাতে ফেরার জন্য, "আফগানিস্তানে ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল না। জীবনকে পেছন থেকে ফাউল করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রেফারির চোখ এড়িয়ে গেছে সেটা। খালি হাতে ফেরাটা হতাশাজনক।" 

    খেলোয়াড়দের নিবেদন নিয়ে অবশ্য সংশয় নেই ডের। বাস্তবতাটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি আরেকবার, "খেলোয়াড়দের নিবেদন নিয়ে আমার কোনো সংশয় নেই। সবাই জাতীয় দলের হয়ে নিজের সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করেছে। পার্থক্য হচ্ছে যোগ্যতার দিক দিয়ে ওরা আমাদের চেয়ে এগিয়ে। আমরা যেটা করতে পারি নিজেদের সেরাটা দিতে পারি। আমাদের এখান থেকে শিখতে হবে। এটাই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনে।" 

    ফিফা র‍্যাংকিংয়ে গ্রুপ 'ই'-তে বাংলাদেশ তলানির দল সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন ডে। ভুল থেকেই শিখতে চান বাংলাদেশ কোচ, "আফগানিস্তানের ৭ জন খেলোয়াড় ইউরোপে খেলে। ওরা প্রতিনিয়ত সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলে। বল পায়ে যখন আমাদের খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমে যায়, তখন তারা ভুল করে। আমরা ভুল করবই, আমাদের এটা মেনে নিতে হবে আমরা ভুল করব। আমার খেলোয়াড়দের ইউরোপে পাঠান, তাহলে ওরাও নিয়মিত বল পজেশন রেখে খেলতে পারবে। আমরা কি উন্নতি করতে পারব এখান থেকে? হ্যাঁ আমরা আশা করি উন্নতি করব। কিন্তু আমাদের চেয়ে ভালো দলের বিপক্ষে আমরা ভুল করবই।"