• " />

     

    মোহামেডানের অবনতির জন্য লোকমানকে দুষছেন সাবেকরা

    বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। শিরোপা ছাড়া মৌসুমই যাদের কাছে ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত হত এককালে। সেই মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১৭ বছর ধরে লিগ শিরোপা ছুঁয়ে দেখে না। সাম্প্রতিককালে অবস্থা আরও বেগতিক। অবনমন অঞ্চলে ঘোরাফেরা। শেষবার লিগেও তারা শেষ করেছে আট নম্বরে থেকে।

    এসবের বাইরে মোহামেডানের ওপর দিয়ে বইছে নতুন ঝড়। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে গেছেন ক্লাবটির ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। ক্লাবের অফিসে ক্যাসিনো ভাড়া দিয়ে কামানো ৪১ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের কথাও স্বীকার করেছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনির কাছে আটক হওয়ার পর।

    মাঠের ব্যর্থতার বাইরে নেতিবাচক কারণে শিরোনাম হওয়ার পর শনিবার প্রেসক্লাবে সাবেক মোহামেডান খেলোয়াড়েরা দাবি তুলেছেন লোকমানের পাচারকৃত অর্থ ক্লাবের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার।  সাবেক মোহামেডান অধিনায়ক ও স্থায়ী সদস্য বাদল রায় ক্লাবের বেহাল দশার জন্য লোকমানকেই দুষেছেন সংবাদ সম্মেলনে, "আমি এতো বছর মোহামেডানে খেলেছি, অথচ আমরা হারতে জানতাম না। আর এখন মোহামেডানের খেলা হলেই ভয় হয়, এই বুঝি হারে। এই বোধ হয় রেলিগেশনে পড়ে যায়। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ে আজ হাজির হয়েছি আপনার সামনে।"

    "লোকমান সাহেব দাবি করেছে ক্যাসিনো ভাড়া দিয়ে প্রতিদিন ৭০ হাজার টাকা ক্লাবের ফান্ডে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ক্লাবের ফান্ডে এমন টাকা গেছে তা আমাদের জানা নেই।"

    লোকমান ভূঁইয়া মোহামেডানের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও সদস্য। ২০১১ সালে মোহামেডান লিমিটেড কোম্পানিতে রুপান্তরিত হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে লোকমান ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হন। দুই বছর পর একই পদে নির্বাচিত হন তিনি, কিন্তু এরপর থেকেই আর নির্বাচন হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি থেকেও তার বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন সাবেক মোহামেডান খেলোয়াড়েরা। 

    "গতকাল আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি, উনি (বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান) বলেছেন উনার বন্ধু লোকমান। উনার আবাহনী ক্লাব তো ভালোভাবেই চলছে। কিন্তু আমাদের মোহামেডান ক্লাব ধ্বংস হচ্ছে। এর জন্য লোকমানই দায়ী।"

    "টাকা পাচারের কথা নিজেই স্বীকার করেছে। এখনও কেন তাকে বিসিবির পদ থেকে সরানো হচ্ছে না? আমরা চাই তাকে সেখান থেকে বহিষ্কার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।"

    বাদল রায় দাবি করেছেন ক্লাবে তাস খেলা হত, এ ব্যাপারে তারা জানতেন। কিন্তু সেটা যে ক্যাসিনো পর্যায়ে চলে গিয়েছিল তা জানা ছিল না তাদের। প্রাণের ক্লাবকে এভাবে নেতিবাচক কারণে শিরোনাম হতে দেখে ঘরে থাকার উপায় ছিল না বলে জানিয়েছেন বাদল।  

    ক্লাবের এই দুঃসময়ে সাবেকরা চাইছেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে। ক্লাবের শুভানুধ্যায়ীরা এখনও হাল ধরতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক মোহামেডান খেলোয়াড়েরা। ১ অক্টোবর থেকে দলবদল শুরু হচ্ছে ফুটবলে। যদিও তাতে মোহামেডান অংশ নেবে কী না সেটা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কেউ। বাদল রায় ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইমতিয়াজ সুলতান জনি, আব্দুল গাফফার, ওয়ালী সাব্বির, ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব, ছাইদ হাসান কানন, ফজলুর রহমান বাবুলসহ আরও অনেকে।