• বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
  • " />

     

    ভুটানের বিপক্ষে এবার বাংলাদেশকে পথ দেখালেন ইয়াসিন

    আক্রমণে বাংলাদেশের বড় অস্ত্র সেট পিস আর লম্বা থ্রো। ডিফেন্ডাররা উচ্চতার কারণে তাই সুযোগও পান বেশি। ভুটানের বিপক্ষে সেই কৌশল কাজে দিয়েছে শতভাগ। ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান দিয়েছেন দুই গোল। দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভুটানকে বাংলাদেশও হারিয়েছে ২-০ ব্যবধানে।

    বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাইপর্বে কাতারের মুখোমুখি হওয়ার আগে ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি তাই শেষ হলো বাংলাদেশের। এর আগে প্রথম প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ৪-১ ব্যবধানে।

    আগের ম্যাচ থেকে তিন পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশের একাদশ সাজিয়েছিলেন জেমি ডে। সুশান্ত ত্রিপুরা, রবিউল হাসান ছিলেন আর গোলরক্ষক হিসেবে এদিন নেমেছিলেন শহীদুল আলম। ডিফেন্ডার সুশান্ত যাত্রা ৭ মিনিটের বেশি টেকেনি। ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছেড়ে রায়হান হাসানকে নামার সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি। সেই রায়হানই বড় অবদান রেখেছিলেন বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ায়।

    ভুটান কোচ প্রেমা প্রথম ম্যাচে ৪-১ গোলে হারের পর জানিয়েছিলেন তার দলের সামর্থ্যের ছাপ পড়েনি মাঠে,  বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের কাদা মাঠকে দুষেছিলেন। এদিন মাঠ ছিল শুকনো, শুকনো মাঠে ভুটান দেখাল তারা খুব বেশি পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের চেয়ে। প্রথম বিশ মিনিট বাংলাদেশকে কঠিন সময়ই পার করতে হয়েছে।

    বাংলাদেশের ওপর চাপ কমেছে ২৩ মিনিটে। রায়হানের বাম প্রান্ত থেকে নেওয়া লম্বা থ্রোতে গতি ছিল, বক্সের ভেতর থাকা ইয়াসিন খান এরপর লাফিয়ে উঠে উচ্চতার পুরোটাই কাজে লাগিয়ে গোল করে এগিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশকে।  

    গোলটা তখন দরকার ছিল বাংলাদেশের। ভুটান এরপর মনোবল হারিয়েছে কিছুটা। বাংলাদেশ প্রথমার্ধে সুযোগ তৈরি করেছে অল্প। জীবন ভালো একটা সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু হেড করতে পারেননি। তার চেয়ে বড় স্বস্তি বাংলাদেশ পেয়েছে শহীদুলের সেভে। দাওয়া শেরিংয়ের ১৪ গজ দূর থেকে করা নিচু শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক।

    একটা সময় বাংলাদেশকে বিরতির অপেক্ষা করতে হয়েছে। জেমি হাফ টাইমে খেলোয়াড়দের কী বলেছেন সেটা জানার উপায় নেই। তবে দ্বিতীয়ার্ধে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার খানেক মানুষ যে তৃপ্তি পেয়েছে তাতে ডের ‘পেপ টকের’ বড় অবদান আছে। পরের ৪৫ মিনিট বাংলাদেশ দেখিয়েছে শুকনো হোক, কর্দমাক্ত হোক- ভুটানের বিপক্ষে সুযোগ তৈরি করতে পারে তারা।

    বদলি মিডফিল্ডার মাহবুবুর রহমান সুফিল দারুণ এক ঝলক দেখিয়েছিলেন। ভুটানের এক ডিফেন্ডারকে অসহায় করে এগিয়ে গিয়েছিলেন গোলের দিকে। সব ঠিক করেও দুর্বল শট মেরে গোল পাওয়া হয়নি আর সুফিলের। জামাল ভুইয়াও গোল পেতে পারতেন, বক্সের মাথা থেকে নেওয়া জামালের শটে গতি ছিল, দিক-নিশানাও ঠিক ছিল। কিন্তু এবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে গোলরক্ষক এনওয়াং জাম্পেল ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশকে। এরও আগে রায়হানের থ্রো ভীতি চড়িয়েছিল আরেকবার ভুটানের বক্সে। তখন নাবিব নেওয়াজ জীবনের শট গোললাইন থেকে ঠেকিয়ে দেয় ভুটান। জীবন বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার পরই দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যায় বাংলাদেশ ৬৬ মিনিটে।  

    যেভাবে আক্রমণ করছিল লাল-সুবজরা তাতে গোল পাওয়ারও কথা ছিল। আরিফুর রহমান মাঠে নেমেই দারুণ পাসে বক্সের ভেতর খুঁজে পেয়েছিলেন ইব্রাহিমকে। তিনি ক্রস করতে চেয়েছিলেন না সোজা গোলেই শট করেছিলেন সেটা তিনিই জানেন। ইয়াসিন ছিলেন জায়গামতো, আরও একবার হেডে গোল পেয়ে যান তিনি।   

    বাকি সময়ে বাংলাদেশ জয়ের ব্যবধান বড় করতে পারত। কখনও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ভুটান গোলরক্ষক। কখনও বাংলাদেশ সুযোগ হাতছাড়া করে হেলায়। ইব্রাহিমকে দারুণ শটে গোলবঞ্চিত করেছিলেন জাম্পেল। আর ইয়াসিন হ্যাটট্রিক পাননি অল্পের জন্য। রায়হানের লম্বা থ্রো আরেকবার টোটকা হতে পারত। কিন্তু সেবার অপ্রস্তুত ইয়াসিন বুঝে ওঠার আগেই বল লুফে নিয়েছে ভুটান।

    সুশান্ত নতুন করে ইনজুরিতে পড়ায় বাংলাদেশের রক্ষণের মোটামুটি সবাইকেই বাজিয়ে দেখেছেন কোচ। শেষ দিকে মাঠে নেমেছিলেন অনুর্ধ্ব-১৮ সাফ খেলে ফেরত আসা ইয়াসিন আরাফাত। ছয়টি পরিবর্তনের সবগুলোই করিয়েছেন কোচ। এদের ভেতর ইব্রাহিম আর সুফিল ছিলেন সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল।

    অক্টোবরের ১০ তারিখ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ খেলবে কাতারের বিপক্ষে। এর পাঁচদিন পর কলকাতায় বাংলাদেশের গ্রুপ 'ই'-এর তৃতীয় ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে।