• লা লিগা
  • " />

     

    কিক অফের আগে: মেসির 'প্রিয়' সেভিয়া এবং লোপেতেগির ন্যু ক্যাম্পে 'ফেরা'

    কবে, কখন

    বার্সেলোনা-সেভিয়া

    লা লিগা ২০১৯-২০; ন্যু ক্যাম্প; ৭ অক্টোবর, রাত ১টা; ফেসবুক লাইভ


    ইন্টার মিলানের বিপক্ষে গোল করতে না পারলেও ম্যাচসেরা হয়েছিলেন তিনি। দুর্দান্ত এক একক প্রচেষ্টায় তার পাস থেকেই জয় নিশ্চিত করেছিলেন লুইস সুয়ারেজ। ইনজুরি কাটিয়ে লিওনেল মেসি ফিরেছেন বার্সার একাদশে- গড়পড়তা ২০১৯-২০ মৌসুমে এটিই যেন এখন পর্যন্ত বার্সেলোনার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। লিগে সাত ম্যাচের মধ্যে দু’বার হেরে গেছে বার্সা, কিন্তু শেষ তিন ম্যাচ জিতে কিছুটা ছন্দে ফিরেছে তারা। প্রতিপক্ষ সেভিয়া, বার্সার সমান ১৩ পয়েন্ট নিয়ে যারা আছে টেবিলের ছয়-এ।

    সুয়ারেজ, আঁতোয়া গ্রিযমান, আনসুমান ফাতি, উসমান ডেম্বেলে, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং- মেসিকে ছাড়াও বার্সার একাদশে প্রতিভার অভাব নেই এতটুকু। কিন্তু অধিনায়ককে ছাড়া কেমন যেন অচেনাই মনে হয় এর্নেস্তো ভালভার্দের দলকে। বার্সা ম্যানেজার নিজেও মানছেন; মেসি থাকলে দলের অন্যরাও আত্মবিশ্বাসটা খুঁজে পান বেশি, “লিওর মত একজন স্কোয়াডে থাকলে অবশ্যই তার অনুপস্থিতি আপনাকে ভোগাবে। সে যেভাবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে, তা আসলেই অসাধারণ। গোল না করলেও ম্যাচে তার প্রভাব অন্যরকম; ইন্টারের বিপক্ষেই প্রমাণিত হয়েছে সেটা।” ইনজুরি নিয়ে মৌসুম শুরু করার পর আবারও মাঠের বাইরে ছিটকে যেতে হয়েছিল মেসিকে।

     

     

    ভালভার্দে জানিয়েছেন; সময়টা কঠিন হলেও একদমই ভেঙে পড়েননি মেসি, “ইনজুরি থেকে ফেরার পরপরই আবার মাঠের বাইরে চলে যেতে হলে ব্যাপারটি বেশ হতাশাজনক। লিওর ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছিল। কিন্তু ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ইনজুরি থেকে ইন্টারের বিপক্ষে ফেরা পর্যন্ত- এক মুহূর্তের জন্যও সে এতটুকু বিচলিত হয়নি। বরং ফেরার জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছে প্রতিদিন। এখন সে সম্পূর্ণ ফিট, আমরাও তাকে দলে পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। সেভিয়া দুর্দান্ত দল, কিন্তু লিও ফেরায় আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তাছাড়া তাদের বিপক্ষে আমাদের সাম্প্রতিক রেকর্ডও বেশ ভাল।”

    শেষ যেবার ন্যু ক্যাম্পে প্রতিপক্ষের ম্যানেজার হিসেবে এসেছিলেন হুলেন লোপেতেগি, সে ম্যাচের পরদিনই বরখাস্ত হতে হয়েছিল তাকে। গত মৌসুমেই ন্যু ক্যাম্পে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছিলেন তিনি। তবে অতীত নয়; লোপেতেগির ভাবনা জুড়ে কেবল সেভিয়াই, “আমি জানি সংবাদপত্রে এসব বিষয় নিয়ে লিখলে পাঠকের নজরে আসা যায়। কিন্তু গত মৌসুমে বা রিয়ালের হয়ে বার্সার বিপক্ষে কেমন করেছি; এসব নিয়ে একদমই ভাবছি না আমি।"

     

     

    "সেভিয়ার মত দলের ম্যানেজার হয়ে অতীত নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই। ন্যু ক্যাম্পে কোনও প্রকার প্রতিশোধের চিন্তাভাবনা নিয়ে আসছি না আমরা। শেষ দুই ম্যাচ জেতায় আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গেই আছে ছেলেরা। ন্যু ক্যাম্পে জয়ের জন্যই লড়ব আমরা।”

     

    দলের খবর

    সেভিয়ার বিপক্ষে রক্ষণ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ভুগতে হচ্ছে বার্সাকে। ইন্টারের পর সেভিয়ার বিপক্ষেও জর্দি আলবা এবং জুনিয়র ফিরপোকে পাচ্ছেন না ভালভার্দে। ‘নেরাজ্জুরি’দের বিপক্ষে ম্যাচের মত তাই হয়তো আবারও নেলসন সেমেদোকেই দেখা যাবে সেখানে। গেটাফের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় থাকছেন না সেন্টারব্যাক ক্লেমেন্ত লংলেও। স্যামুয়েল উমতিতি ইনজুরিতে পড়ায় জেরার্ড পিকের সাথে হয়তো দেখা যাবে তরুণ জা-ক্লদ তোদিবোকেই। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা ডেম্বেলে এবং ফাতিকে হয়তো দেখা যাবে বেঞ্চেই।

    বার্সার মত অবশ্য দল বাছাই নিয়ে এত ভাবতে হচ্ছে না লোপেতেগিকে। ইনজুরিতে পড়ায় কেবোল দানিয়েল কারিসোকে পাচ্ছে না সেভিয়া, তার জায়গায় হয়তো নামবেন জুলস কোঁদে।

     

     

    সম্ভাব্য একাদশ

    বার্সেলোনা (৪-৩-৩): টের স্টেগান; রবার্তো, পিকে, তোদিবো, সেমেদো; বুস্কেটস, ডি ইয়ং, আর্থার; মেসি, সুয়ারেজ, গ্রিযমান

    সেভিয়া (৪-৩-৩): ভাচলিক; নাভাস, কার্লোস, কোঁদে, রেগুলিয়ন; বানেগা, ফার্নান্দো, জর্দান; ওকাম্পোস, ডি ইয়ং, নোলিতো

     

    সংখ্যায় সংখ্যায়

    • ২০১৫-এর অক্টোবরের পর লা লিগায় বার্সাকে হারাতে পারেনি সেভিয়া
    • গত সাত মৌসুমে ন্যু ক্যাম্পে প্রতিবারই সেভিয়াকে হারিয়েছে বার্সা
    • মেসির সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ সেভিয়া, ক্যারিয়ারে আন্দালুসিয়ানদের বিপক্ষে গোল করেছেন ৩৬টি

     

    প্যাভিলিয়ন প্রেডিকশন: বার্সেলোনা ৩-১ সেভিয়া