• বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
  • " />

     

    প্লেয়ার রেটিং : ভারতের বিপক্ষে সাদ, ইব্রাহিম ও ইয়াসিন থাকছেন সবার ওপরে

    কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ফিরছে বাংলাদেশ। শেষে গোল হজম করে পুরো তিন পয়েন্ট পাওয়া না হলেও নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়ে এসেছে জেমি ডের দল। গ্রুপ 'ই'-তে এই ম্যাচ থেকেই বাংলাদেশ পেয়েছে প্রথম পয়েন্ট, পেয়েছে প্রথম গোলও। আশি হাজার প্রতিপক্ষ সমর্থকদের বিপক্ষে রেখে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের  কে কেমন খেললেন?  

    আশরাফুল ইসলাম রানা ৭/১০
    ম্যাচের একেবারে শুরুতে সুনীল ছেত্রির ভলি ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন নিমষেই। পজিশনিং ঠিক ছিল, বলেও চোখ ছিল। সেভটা যতখানি সহজ দেখতে মনে হয়েছে তার চেয়ে কিছুটা কঠিনও ছিল। এরপর রানা ব্যস্ত সময় পার করেছেন। প্রথমার্ধে ব্যাক হেডে ভারতকে গোল পেতে দেননি দারুণ এক সেভ করে। দ্বিতীয়ার্ধেও আব্দুল সেহেলের নিচু শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন ঝাঁপ দিয়ে।

    ভুল একটাই করেছিলেন। লাফিয়ে উঠে লুফে নিতে গিয়ে হাত ফস্কে গিয়েছিল বল। নিজেই আবার শুধরে নিয়েছিলেন, তাই বিপদ হয়নি।


    রায়হান হাসান ৫/১০

     

    বাংলাদেশ রাইটব্যাকের মূল কাজ আসলে লম্বা থ্রো নেওয়া। লম্বা থ্রোতে এদিন বাংলাদেশ সুবিধা করতে পারেনি। সময়ের সাথে মিলিয়ে গেছে তার খেলা। বদলি হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন।


    ইয়াসিন খান ৮/১০
    আরও একবার দুর্দান্ত খেলেছেন পুরো ম্যাচে। নিরবিচ্ছিন্ন মনোযোগের পর আদিল খানের কাছে গোল খেয়ে হতাশ হওয়ার কথা দিনশেষে। ভারতের ওই কর্নারের সময় আদিল খানের পেছনে ছিলেন ইয়াসিন। তবে সবমিলিয়ে এর চেয়ে ভালো করতে পারতেন না হয়ত। একের পর এক ইন্টারসেপ্ট করে গেছেন ভারতের ক্রস। ৫০ মিনিটে উদান্তা সিংয়ের গোলমুখী শট দারুণ এক ব্লকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।


    রিয়াদুল হাসান ৭.৫/১০
    ইয়াসিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে আরও একবার তরুণ ডিফেন্ডার নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছেন। ৬৬ মিনিটে উদান্তা সিংয়ের ডানদিক থেকে করা ক্রস মানভির সিংকে খুঁজে পেত। তিনি ছিলেন ফাঁকায়। রিয়াদ গেম রিড করেছেন, উদান্তার ক্রসও রিড করেছেন। ওই ক্রস পৌঁছাতেই দেননি মানভির পর্যন্ত। ৮৭ মিনিটে আরেকবার সুনীল ছেত্রির শটের দিকও গোলের সামনে থেকে হেড করে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তিনি।


    রহমত মিয়া ৭/১০

    প্রথমার্ধে রাহুল বেহেককে ফারপোস্টে আগলে রেখে ভারতের একটি আক্রমণ আটকে দিয়েছিলেন। রহমতকে প্রথমার্ধে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। রাইট উইং দিয়েই আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল ভারত। বাংলাদেশের রক্ষণ দৃষ্টিকটু ভুল করেনি। রহমতও করেননি। তবে আক্রমণে একেবারেই সাহায্য করতে পারেননি দলকে। 


     জামাল ভূঁইয়া ৭/১০
    বাংলাদেশের গোলে জামালের ফ্রি-কিকটি ছিল দুর্দান্ত। গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিংকেও বোকা বানিয়েছে সেটা। সাদ উদ্দিন পরে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। রক্ষণেও কাজ করেছেন জামাল। সুনীল ছেত্রির ফ্রি-কিকে মাথা লাগিয়ে আশরাফুল ইসলামকে অধিনায়ক স্বস্তি দিয়েছিলেন দ্বিতীয়ার্ধে।


    সোহেল রানা ৬/১০
    সোহেল রানা ম্যাচে খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। রক্ষণে বেশি মনোযোগী ছিলেন। সেকেন্ড বলগুলো উদ্ধার করে আক্রমণে সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন দুই, একবার।


    বিপলু আহমেদ ৫.৫/১০
    কাতারের পর ভারতের বিপক্ষেও দারুণ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন গোলের। প্রথমার্ধে আদিলকে ভুল করাতে বাধ্য করেছিল তার প্রেস।  এরপর বল নিয়ে বক্সে ঢুকে গিয়ে, সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন। বক্সে সতীর্থ ছিল, ছিল একজন ভারত ডিফেন্ডার। কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে গোল করার চেষ্টা করেছিলেন বিপলু। সেটা ভারত গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিয়েছেন। বিপলু নিখুঁত হলে আদিলকে শাস্তিটা বুঝিয়ে দিতে পারত বাংলাদেশ অনেক আগেই।


    মোহাম্মদ ইব্রাহিম ৮/১০
    একেবারে শুরুতেই ভারতের বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছিলেন। পেতে পারতেন পেনাল্টিও। রেফারির সাড়া অবশ্য মেলেনি। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুর্দান্ত ছিলেন ইব্রাহিম। নাবিব নেওয়াজ জীবনকে ভারতের দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক দিয়ে দেখার মতো একটি থ্রু বল দিয়েছিলেন। এরপর নিজেও বারপোস্টের কারণে গোলবঞ্চিত হয়েছেন। ইব্রাহিমের অবদান এখানেই শেষ নয়, গোললাইন থেকে ভারতের নিশ্চিত গোল আটকে দিয়েছিলেন তিনি হেড করে ক্লিয়ার করে।


    সাদ উদ্দিন ৮/১০
    অভিষেক গোল পেয়েছেন। ভারতের রক্ষণ ম্যাচে বেশকিছু ভুল করেছে, ভুল করেছেন তাদের গোলরক্ষকও। সেটার ফায়দা একমাত্র নিতে পেরেছেন সাদ। তার গোলে ভর করেই জয়ের স্বপ্ন বুনেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে সাদ মন দিয়েছিলেন রক্ষণে। রায়হানের কভার হিসেবে কাজ করেছেন নিজের অর্ধের ডানদিকে।


    নাবিব নেওয়াজ জীবন ৫/১০
    বলের দেখা এদিন কমই পেয়েছেন। কিন্তু মিডফিল্ডারদের কাছ থেকে দারুণ বলের যোগানও পেয়েছিলেন। ইব্রাহিমের কাছ থেকে পাওয়া বলে ফিনিশিং নিখুঁত হলে দুর্দান্ত এক গোল পেয়ে যেত বাংলাদেশ। খেলার ওই সময়ে দ্বিতীয় গোল পেলে ভারতকে একেবারে কোনঠাসা করে তখন জয়টাও হয়ত নিশ্চিত হয়ে যেত জেমি ডের দলের।


    বদলি


    বিশ্বনাথ ঘোষ ৬/১০
    রায়হানকে উঠিয়ে লাইক ফর লাইক সাবস্টিটিউশন করেছিলেন বাংলাদেশ কোচ। ফ্রেশ লেগ কাজে দিয়েছে বাংলাদেশের। শেষ ২০ মিনিটে দলকে সাহায্য করেছেন ভালোভাবেই।

    মাহবুবুর রহমান সুফিল ৫/১০
    আরও একবার জীবনের বদলি হয়ে নেমেছিলেন। নেমেই আরও একবার সুযোগও পেয়েছিলেন গোলের। কিন্তু তিনিও ভারতের রক্ষণের ভুলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

    রবিউল হাসান
    ৭৯ মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন। এরপর তেমন কিছু করার সুযোগ পাননি