• বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
  • " />

     

    বাংলাদেশকে আশা দেখিয়ে গেলেন ইনফান্তিনো

    সারাদিনের সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এসেছিলেন বাংলাদেশের জার্সি পরে। সংক্ষিপ্ত সফরে এসে বাংলাদেশকে আশা দেখিয়ে গিয়েছেন ইনফান্তিনো। বলেছেন ক্রিকেট নয়, সামনের দিনগুলোতে ফুটবল হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। 

    বৃহস্পতিবার ১৬ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ইনফান্তিনো বলেছেন বাংলাদেশের ফুটবলকে ঘিরে আগ্রহ বিস্মিত করেছে তাকে, "আমি ভেবেছিলাম এখানের লোকজন ফুটবল দেখে কিন্তু অতোখানি দেখে না। কারণ এখানের সংস্কৃতির সঙ্গে আলাদা খেলা আছে। কিন্তু আমি যা দেখলাম যে এখানের মানুষ ফুটবল শুধু খেলেই না, এখানের মানুষ ফুটবল নিয়ে বাঁচে।" 

    "ভারতের বিপক্ষে ফল নিয়ে সবাই কথা বলছে। যে আগ্রহ দেখেছি সেটা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে তাতে আমার মনে হয় সামনের দিনে ক্রিকেটের কোনো সুযোগ নেই।" 


     

    শেষের কথাগুলো হাসতেই হাসতেই বলেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট। গতরাতে বাংলাদেশে পা রেখেই সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে সফরসূচি শুরু করেছিলেন। এরপর দুপুর নাগাদ বাফুফে ভবন পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলন থেকেই দেশ ত্যাগ করার কথা তাঁর লাওসের উদ্দেশ্যে।

    বাংলাদেশে ইনফান্তিনোর এটি প্রথম সফর। বাংলাদেশ সম্পর্কে জানা-শোনা অল্প থাকলেও  জামাল ভুঁইয়াকে চেনেন তিনি। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত লেস্টা সিটি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর নামও মনে করেছেন তাঁর আফ্রো চুলের স্টাইলের ইঙ্গিত দিয়ে।

    ২০১৬ সালে ফিফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তখন ঘোষণা দিয়েছিলেন বিশ্বকাপে দল বাড়ানোর। মেয়েদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা এবারই ২৪ থেকে ৩২ দলের উন্নীত করা হয়েছে। ছেলেদের বিশ্বকাপও ৪৮ দলের করার কথা চলছে।

    ইনফান্তিনো  বলছেন, "এশিয়ায় আপনি যদি জাপান বা ইরান বা কোরিয়া না হন তাহলে এখান থেকে আপনার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ নেই বললেই চলে। কিন্তু চার দলের বদলে যখন সংখ্যাটা আট হবে তখন আরও বেশি দলের আগ্রহ বাড়বে।" বয়সভিত্তিক ফুটবলে বিনয়োগের জন্যও এটা জরুরী বলে দাবি করছেন তিনি। 

    মেয়েদের ফুটবল আরও জনপ্রিয় করতে বাংলাদেশে টুর্নামেন্টের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফিফা ও বাংলাদেশের ভেতর আরও বেশি কাজ করার ইঙ্গিত ইনফান্তিনোর কণ্ঠে "ফিফা আরও বেশি কাজ করবে এই দেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল উন্নয়নে। আমরা নতুন পরিকল্পনা দেব, ছেলেদের জন্য, মেয়েদের জন্য, বাচ্চাদের জন্য যাতে সবাই অংশ নিতে পারে।"

    প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে এসেছিলেন ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল ম্যাথিয়াস গ্রাফস্টর্ম, চীন অফ অপারেশনস অনফ্রে কস্তা, এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে ফিফার ডিরেক্টর সাঞ্জিবান বালাসিঙ্গাম এবং ফিফার সুপ্রিমো অফিসার ফ্রেডেরিকো রাফিংলিয়নো।