• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    শুরুটা ইউনাইটেডের, শেষটা লিভারপুলের

    দুই মেরুতে দাঁড়িয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচ শুরু করেছিল দুইদল। সাম্প্রতিক রেকর্ড যতটাই বিপরীতে থাক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড লিভারপুলকে হতাশ করে যাচ্ছিল। শেষে অবশ্য নিজেরাই হতাশ হয়েছে ইউনাইটেড। ম্যাচ শেষের ৫ মিনিট বাকি থাকতে অ্যাডাম লালানার গোলে হার এড়িয়েছে লিভারপুল। দুই দল ম্যাচ শেষ করেছে ১-১ গোলে। 

    ৮ ম্যাচের হিসাবে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের সবচেয়ে বাজে শুরু করেছিল ইউনাইটেড। প্রতিপক্ষ লিভারপুল বলেই হয়ত শুরু থেকে গোছালো ইউনাইটেডের দেখা মিলল ওল্ড ট্রাফোর্ডে। ডেভিড ডি গিয়ার থাকার কথা ছিল না, একাদশে তাঁর ফেরাটা চমক ছিল। সেটা সাহস যুগিয়েছিল ওলে গানার সোলশারকে। আবার শেষ মুহুর্তে অ্যালেক্স তুয়ানজিবি ইনজুরিতে পড়ায় মার্কোস রোহোকে নামিয়ে একটা পরিবর্তনও ইউনাইটেড ম্যানেজারকে আনতে হলো ম্যাচ শুরুর আগেই। 

    ইউর্গেন ক্লপের দলের ইনজুরি শঙ্কা ছিল না। অ্যালিসনও ফিরেছিলেন গোলের নিচে। কিন্তু ম্যাচের আগে তিনিই পড়লেন মহা ঝামেলায়। মোহাম্মেদ সালাহকে হারালেন। ডিভক অরিগি শুরু করলেন। তাতে লিভারপুল আক্রমণে ধুঁকল শুরু থেকেই। রবার্তো ফিরমিনো যা একটু আশা দেখিয়েছিলেন প্রথমার্ধে। 

    প্রথমার্ধটা অবশ্য হয়ে থেকেছে বিতর্কিত। যে গোলে জয়ের আশা দেখছিল ইউনাইটেড- সেটার বিল্ড আপেই মিশে থাকল বিতর্ক। মিডফিল্ডে বল জিতে নিয়ে ড্যানিয়েল জেমস এগিয়ে গিয়েছিলেন ডান প্রান্ত ধরে। এরপর নিখুঁত এক ক্রস করেছেন বক্সের ভেতর। মার্কস র‍্যাশফোর্ডকে পাহারায় রেখেছিলেন জোয়েল মাটিপ। র‍্যাশফোর্ড কয়েকবার দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগে মাটিপের পেছনে থাকার সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন। 

    সেই সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল। ৩১ মিনিটে ক্রসের শেষ মাথায় পৌঁছে এরপর লাফিয়ে উঠে ডান পায়ের শটে গোল করেন র‍্যাশফোর্ড। গোলের এই চিত্রে কোনো বিতর্ক নেই। বিতর্ক আছে বলটা যেভাবে ইউনাইটেড জিতেছিল- সেটা নিয়ে। ভিক্টর লিন্ডেলফ ডিভক অরিগির পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জিতেছিলেন। লিন্ডেলফের ট্যাকেলে তখন পড়ে গিয়েছিলেন অরিগি। রেফারি মার্টিন অ্যাটকিনসনের মতো ভিএআরও তাতে ভুল দেখেনি।  

    ভিএআরের সিদ্ধান্ত আরও একবার ইউনাইটেডের পক্ষে গেছে প্রথমার্ধে। সেটা নিয়ে অবশ্য কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। সাদিও মানে জালে বল জড়িয়েও তাই গোল পাননি হ্যান্ডবলের কারণে। বিরতির সময় তাই যেটা লিভারপুলকে মাঠ ছাড়তে হয় পিছিয়ে থেকেই। 

    সোলশার মৌসুমে প্রথমবারের মতো থ্রি ম্যান ব্যাকলাইন নামিয়ে রক্ষণ শক্ত করতে চেয়েছিলেন। দুই উইংব্যাকও ভালো সমর্থন দিয়ে গেছেন রোহো-লিন্ডেলফ-ম্যাগুয়েরদের। লিভারপুলের কাছেই বল পজেশন ছিল সব, কিন্তু সেটা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল না ইউনাইটেডের জন্য। প্রতি আক্রমণে জেমস আর র‍্যাশফোর্ডের গতি দিয়ে লিভারপুলকে ঝামেলায় ফেলার চেষ্টা করে যাচ্ছিল ইউনাইটেড। 

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবশ্য ভালো সময় পার করছিল লিভারপুল। যদিও গোলের বেশ আগেই ফিরতে হচ্ছিল তাদের। সেই সুযোগে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মার্কোস র‍্যাশফোর্ড ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট চলে যায় বাইরে দিয়ে। এরপর খেলা হয়েছে এক ধারায়। ইউনাইটেড রক্ষণে ব্যস্ত, লিভারপুলের একের পর এক আক্রমণ।  

    প্রথমার্ধে বেশিরভাগ সময় লিভারপুলের দুই ফুলব্যাক অ্যান্ড্রু রবার্টসন আর অ্যালেক্সান্ডার আর্নল্ড নিজেদের জায়গা অদল-বদল করে খেলছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধেও বেশ কিছুক্ষণ একই ধাঁচে খেলেও ফল না পেয়ে আবার নিজেদের জায়গায় চলে যান দুইজন। বদলি অ্যাডাম লালানা আর সঙ্গে এরপর রবার্টসনের জুটি হার এড়াতে সাহায্য করেছে লিভারপুলকে।  

    ৮৫ মিনিটে বাম দিক থেকে করা রবার্টসনের নিচু ক্রস কাছের পোস্টে লিন্ডেলফকে ফাঁকি দিয়ে দুরের পোস্টে চলে যায় লালানার কাছে। এরপর শুধু বলটা পুরতে হত ডি গিয়ার জালে। সেই কাজটা করে লালানা ওল্ড ট্রাফোর্ড স্তব্ধ করে দেন। 

    এরপর বাকি সময়ে লিভারপুল অনুমিতভাবেই চোখ রাঙিয়েছে ইউনাইটেডকে। আরেক বদলি অ্যালেক্স অক্সলেড চেম্বারলেইনের শট অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে গেলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচে ঘরের দল। ওল্ড ট্রাফোর্ডে শেষ বাঁশির সঙ্গে শেষ হয়েছে লিভারপুলের একটানা জয়ের ধারাও। ১৭ ম্যাচ পর পয়েন্ট হারাল তারা, তাই ম্যানচেস্টার সিটির টানা ১৮ জয়ের রেকর্ড আর ছোঁয়া হয়নি তাদের। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাই শীর্ষ স্থানে লিভারপুলের পয়েন্ট ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ৬।     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন