• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ৯ গোল করে সাউদাম্পটনকে দুঃস্বপ্নের রাত উপহার দিল লেস্টার

    সাউদাম্পটন ফুটবলার, কোচ, কোচিং স্টাফ সবাই হয়তো বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিলেন। ‘ম্যাচটা শেষ হয় না কেনো’, তাদের সমর্থকরাও নিশ্চয়ই ভাবছিলেন এমনটাই। সেন্ট ম্যারিস স্টেডিয়ামে কাল যেন ছিল সাউদাম্পটনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নের রাত। লেস্টার সিটির কাছে ৯-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে তারা। জেমি ভার্ডি ও আয়োজ পেরেজের হ্যাটট্রিকে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে লেস্টার, গড়েছে প্রতিপক্ষের মাঠে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ডও। 

    ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই বেন চিলওয়েলের গোলে এগিয়ে যায় লেস্টার। তখনো হয়তো সাউদাম্পটন কিংবা লেস্টারের কেউই কল্পনা করতে পারেননি, ম্যাচের বাকি ৮০ মিনিটে কি হতে যাচ্ছে। ১২ মিনিটে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে সাউদাম্পটনের রায়ান বারট্রেন্ডকে লাল কার্ড এখান রেফারি। 

    আরেকটি গোল! সাউদাম্পটন ডিফেন্ডারের মুখ লুকানোর চেষ্টা 

     

    ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সাউদাম্পটন তখন থেকেই মূলত খেই হারিয়ে ফেলেছে। ১৭ মিনিটে ইউরি টাইলেমানসের গোলে ব্যবধান বাড়ায় লেস্টার। দুই মিনিট পরেই লেস্টারের হয়ে তৃতীয় গোল পান পেরেজ। টাইলেমানসের বাড়ানো বলে বক্সের ডান প্রান্তে বল পেয়েছিলেন পেরেজ, তার ডান পায়ের শট ঠেকাতে পারেননি সাউদাম্পটন কিপার। 

    প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আরও দুই গোল হজম করে সাউদাম্পটন। ৩৯ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন পেরেজ। বিরতির বাঁশি বাজার ঠিক আগে ভার্ডি গোল পেলে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লেস্টার। 

    দ্বিতীয়ার্ধে সাউদাম্পটন গোল শোধ করতে তো পারেইনি, উল্টো হারের ব্যবধানটা আরও বেড়েছে। ৫৭ মিনিটে হারভি বার্নসের থ্রু বলে বাঁ পায়ের দারুণ এক শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন পেরেজ। ঠিক তার পরের মিনিটেই চিলওয়েলের ক্রসে লাফিয়ে উঠে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোল পান ভার্ডি। 

    ৯০ মিনিটের ঝড়ের পর লণ্ডভণ্ড সাউদাম্পটন 

     

    এক ঘণ্টার মাঝে সাত গোল হজম করে সাউদাম্পটন তখন রীতিমত দিশেহারা। লেস্টারের একের পর এক আক্রমণ ঠেকাতেই হিমশিম খাচ্ছিল তাদের রক্ষণভাগ। ৫৮ থেকে ৮৫, এই ২৭ মিনিটে নিজেদের জালে বল ঢুকতে দেয়নি সাউদাম্পটন। সাউদাম্পটনের সবাই হয়তো ভেবেছিলেন, যাক ব্যবধানটা হয়তো আর বাড়বে না! 

    লেস্টারের ছিল ভিন্ন পরিকল্পনা। ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে আরও দুই গোল করে ফক্সরা। ৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি কিক থেকে চোখ ধাঁধানো এক শটে গোল পান জেমস ম্যাডিসন। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ভার্ডি। ৯-০ গোলের রেকর্ড জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লেস্টার। 

    ১৯৯৫ সালে ইপসউইচকে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ৯-০ গোলে হারিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এতদিন সেটাই ছিল লিগে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়। তাদের এই রেকর্ডে ভাগ বসালো লেস্টার। প্রতিপক্ষের ম্যাচে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ডটা অবশ্য লেস্টারেরই। কালকের জয়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে টপকে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো ফক্সরা। ১০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ২০। এক ম্যাচ কম খেলে সিটির পয়েন্ট ১৯।