• বাংলাদেশের ভারত সফর
  • " />

     

    বেঙ্গালুরুর শাপমোচন করে দিল্লীর মসনদে মুশফিকরা

    ভারত ১৪৮/৬, ২০ ওভার 
    বাংলাদেশ ১৫৪/৩, ১৯.৩ ওভার 
    বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী 


    লাইভ রিপোর্ট 


    সাকিব আল হাসান নেই, নেই তামিম ইকবাল। দিল্লীর বাতাসে শ্বাস নেওয়া কষ্ট। সঙ্গে আছে ফিরোজ শাহ কোটলার কঠিন উইকেট। প্রথমে ওয়াশিংটন সুন্দর ও ক্রুনাল পান্ডিয়ার ক্যামিও ভারতকে একলাফে নিয়ে গেল দারুণ লড়াইয়ের মতো এক স্কোরে, যে স্কোর চোখ রাঙাল বাংলাদেশকে। এরপর যুঝভেন্দ্র চাহালের স্পিন-বিষে নীলাভ হলো বাংলাদেশ- প্রায়। তবে দাঁড়িয়ে গেলেন মুশফিকুর রহিম। সৌম্য সরকারের সঙ্গে দাঁত কামড়ে পড়ে থাকা এক জুটিতে ঝুলে থাকলেন মুশফিক, ভাগ্যকে সঙ্গে নিয়ে চালিয়ে গেলেন তার এদিনের যাত্রা। যে যাত্রায় মিশে গেল বেঙ্গালুরুতে সাড়ে তিন বছর আগের আক্ষেপ, গড়া হলো ইতিহাস। দিল্লীর বিরুদ্ধ বাতাসে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে জয়খরা কাটালো বাংলাদেশ নবমবারের চেষ্টায়, তাও তাদের মাটিতেই! 

    এ উইকেটে টসে জিতে দুই অধিনায়কই চেয়েছিলেন রানতাড়া করতে, পরদিকে এসে ব্যাটিংয়ের জন্য কন্ডিশনটা একটু সহায়ক হবে বলে আশা করেছিলেন তারা। মাহমুদউল্লাহ সে সুযোগটা পেলেন, তবে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য থাকলো বেপোরোয়াই। অসম বাউন্স, সঙ্গে স্পিনাররা পাচ্ছিলেন টার্ন। বল হোল্ড করছিল উইকেটে, ব্যাটে আসছিল না মসৃণভাবে। শুরুতে নাঈম শেখের সঙ্গে সৌম্য, এরপর মুশফিক-সৌম্যর জুটি ভিত গড়ে দিল, মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে বাকি কাজটা সারলেন মুশফিকই। বেঙ্গালুরুতে ২০১৬ সালে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ ফেলে দিয়ে এসেছিলেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ, এবার ছয় মেরে জয় নিশ্চিত করে সে শাপমোচন করলেন যেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। 

    রানতাড়ায় শুরুতেই খেই হারিয়েছিল বাংলাদেশ, দীপক চাহারের বলে কাট করতে গিয়ে সোজা পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছিলেন লিটন দাস। বাংলাদেশের মতো ৭ম ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্বিতীয় ওভারেই স্পিনার এনেছিলেন রোহিত শর্মা, ওয়াশিংটন সুন্দর শেষ পর্যন্ত দিয়েছেন অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান। অভিষিক্ত নাঈম চাহারকে ফ্লিক করে ছয় মেরে আক্রমণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবে চাহালের তিন ডট বলের চাপ সামলাতে না পেরে তুলেছেন ক্যাচ। এর আগে পাওয়ারপ্লেতে ভারতের চেয়ে ১০ রান বেশি তুলে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলে বাংলাদেশ। 
     


    দিল্লীতে দায়মোচন মুশফিকের/রতন গোমেজ


    তবে চাহালকে সামলানো হয়ে পড়ছিল মুশকিল, ৮ম ও ১০ম ওভারে তিনি দিয়েছিলেন মাত্র ২ রান। দুবার তার বলে এলবিডব্লিউর হাত থেকে বাঁচলেন মুশফিক, বাঁচলেন রান-আউট থেকেও। শেষদিকে দ্বৈরথটা প্রায় জিতেই গিয়েছিলেন চাহাল, তাকে স্লগ করতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ তুলেছিলেন মুশফিক। ততক্ষণে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ বলে ৩৩ রানে, আরেকবার স্লগ সুইপে স্বপ্নভঙ্গের কাছাকাছি চলে গেছেন মুশফিক। তবে লাইনে দাঁড়িয়ে সহজ ক্যাচটা ফেলে দিলেন পান্ডিয়া, সাড়ে তিন বছর আগে তার ভাই হারদিক পান্ডিয়ার বলেই আউট হয়ে ফিরেছিলেন মুশফিক। 

    মুশফিক আর ফিরে তাকালেন না, সে ওভারে চাহালকে আরও একটি চারের পর পরের ওভারে খলিল আহমেদের শেষ চার বলে টানা চার চারে জয়টা আনলেন হাতের মুঠোয়। এর আগে ফিরেছিলেন সৌম্য, তবে অভিষিক্ত শিভাম দুবের বলে মাহমুদউল্লাহর ছয় নিশ্চিত করল জয়। 

    দিল্লীর এ ম্যাচ নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা, শেষ পর্যন্ত সে ম্যাচ শুরু হলো নির্ধারিত সময়েই। তিন পেসার নিয়ে নামা বাংলাদেশ শুরুটা করল আঁটসাঁট, শেষ ১৫ টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে মাত্র তিনবার পাওয়ারপ্লেতে বলের চেয়ে কম রান করল ভারত- ৩৫। প্রথম ওভারে শফিউলের ওপর চড়াও হয়েছিলেন রোহিত শর্মা, তবে শফিউল ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দারুণভাবে। ভেতরের দিকে ঢোকা বলে শুরুর দিকে রোহিতের দুর্বলতা কাজে লাগিয়েছেন তিনি, আম্পায়ারের দেওয়া এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তটা চ্যালেঞ্জ করেও লাভ হয়নি ভারত অধিনায়কের। 
     


    বোলাররা দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে/রতন গোমেজ


    বাঁহাতি স্পিনার ছাড়াই খেলতে নামা বাংলাদেশ প্রথম স্পিন এনেছে ৭ম ওভারে, তৃতীয় বলেই সফল হয়েছেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। উইকেটে হোল্ড করা বলে কাট করতে উদ্যত রাহুল শট চেক করে ধরা পড়েছেন কাভারে, রিয়াদের হাতে। ভারতের ওপর চাপ সে উইকেট দিয়ে বেড়েছিল আরেকটু, যদিও একদিকে ছিলেন শিখর ধাওয়ান, তবে এ উইকেটে ঠিক যুত করতে পারছিলেন না তিনিও। 

    শ্রেয়াস আইয়ার শুরু থেকেই ভিন্ন গিয়ারে খেলার চেষ্টা করেছেন, বিপ্লবকে পরপর দুই ওভারের শেষ বলে টেনে ছয় মেরে সফলও হয়েছিলেন। তবে তৃতীয়বারের চেষ্টা বিফলে গেছে তার, এবার তুলে মারতে গিয়ে লং-অফে দিয়েছেন ক্যাচ। ঋষভ পান্ট ও ধাওয়ানের জুটি খুব সহজে রান তুলতে পারেনি, ধাওয়ানের রান-আউটে যেন সে চাপই প্রতিফলিত হয়েছে। পরের ওভারে আফিফের দারুণ ফিরতি ক্যাচে পরিণত হয়েছেন অভিষিক্ত শিভাম দুবে, ভারতের তখন নাভিশ্বাস অবস্থা। 

    স্বীকৃত পঞ্চম বোলার ছাড়াই নামা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করেছে ৮ জন বোলার, ৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে আফিফ কাজটা সহজ করে দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহর। এমনকি মোস্তাফিজের ওভার শেষ না করার ‘বিলাসিতা’ও দেখাতে পেরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, তবে শেষদিকে শফিউল-আল-আমিনের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ছোটখাট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এক ঝড়। শেষ ১০ বলে ২৮ রান তুলেছেন ক্রুনাল পান্ডিয়া ও ওয়াশিংটন সুন্দর, তাতেই ভারত পেয়ে গেছে লড়াই করার মতো স্কোর। 

    তবে সে স্কোর আজ আটকাতে পারেনি মুশফিকদের।