• বাংলাদেশের ভারত সফর
  • " />

     

    মুশফিক কৃতিত্ব দিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকেও

    অভিজ্ঞতাটা মাহমুদউল্লাহর জন্য একদ্মই নতুন নয়। বয়সের হিসেবে এই দলের সবচেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড় তিনি, জাতীয় দলে এক যুগেরও বেশি সময় হয়ে গেল। গত কয়েক বছরে সাকিব আল হাসান না থাকায় অধিনায়ক্ত্বের দায়িত্বটা বেশ কয়েকবারই নিতে হয়েছে। তাতে কখনো চাপে ভেঙে পড়েছেন, আবার কখনো সামনে থেকে পথ দেখিয়েছেন। তবে টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব যেটা দাবি করে, পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া- সেটা আজ অনেকটাই দেখা গেছে। ম্যাচ শেষে মুশফিকুর রহিম আলাদা করেই বললেন সতীর্থের অধিনায়কত্বের কথা।

    টিভি ধারাভাষ্যে বার বার কথা হচ্ছিল এটা নিয়ে। বাংলাদেশের বোলিংটা এক অর্থে আজ কমজোরিই ছিল। মোস্তাফিজ, আল আমিন, শফিউল মিলে পেসার ছিলেন তিন জন। ওদিকে লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেন, মাহমুদউল্লাহ আর মোসাদ্দেককে বাকি চার ওভার পূরণ করতে হতো। ভারতের দলের ব্যাটিং অর্ডার এমন, শিখর ধাওয়ান ছাড়া টপ অর্ডারে সব ডানহাতি- আবার মিডল আর লোয়ার মিডল অর্ডারে সবাই বাঁহাতি।

    মাহমুদউল্লাহ শুরুতে তিন পেসারকে দিয়েই বল করালেন। পাওয়ারপ্লেটা কাটিয়ে দেওয়া গেলো ভালোভাবে, এরপর নিয়ে এলেন আমিনুল বিপ্লবকে। প্রথম ওভারেই রাহুলকে আউট করলেন বিপ্লব, পরের ওভারে এলেন সৌম্য। সৌম্য দুই ওভার বলও করে ফেললেন। তবে মাহমুদউল্লাহ আফিফককে আনলেন, দারুণ তিন ওভার করলেন আফিফও। দেখতে পাচ্ছিলেন, উইকেটে স্পিন ধরছে। আর ভারতের দুই বাঁহাতি পেয়ে মোসাদ্দেককে তো আনলেনই, নিজেও এক ওভার করে ফেললেন। নিজের ওভারে দারুণ একটা রান আউটও হলো।

    শেষ দিকে এসে চিন্তাটা নিশ্চয় বেড়ে যাচ্ছিল। আফিফকে আর এক ওভার করাবেন, না পেসারদের নিয়ে আসবেন। শেষ পর্যন্ত আফিফের এক ওভার রেখে নিয়ে এলেন আল আমিনকে। তবে বড় জুয়াটা খেললেন শেষ দুই ওভারে। শফিউল আগের তিন ওভার ভালোই করেছিলেন, আল আমিন তো ছিলেন দুর্দান্ত। কিন্তু শেষ দুই ওভারে দুজন হয়ে গেলেন এলোমেলো। তবে মাহমুদউল্লাহর অন্যরকম চিন্তার ফল তার আগ পর্যন্ত ভালোভাবেই পেয়েছে বাংলাদেশ।

    জাতীয় দলে খুব না হলেও বিপিএলে উদ্ভাবনী অধিনায়কত্বের প্রমাণ আগে দিয়েছেন বেশ কয়েকবার। তার নেতৃত্বে চিটাগং ভাইকিংস ও বরিশাল বুলস ফাইনালও খেলেছে বিপিএলে। খুলনা টাইটানসেও রেখেছেন সেই ছাপ। টি-টোয়েন্টিতে যে নতুন কিছু ভাবতে হয়, সেটা আজ কিছুটা হলেও দেখাতে পেরেছেন। শেষে যদিও কাজে দেয়নি। তবে ম্যাচ শেষে সতীর্থ মুশফিকের প্রশংসা আপ্লুত করতে পারে তাকে, ‘রিয়াদ ভাই আজকে অসাধারণ অধিনায়কত্ব করেছে। যখন যে জায়গায় দরকার ছিল স্পিনারদের কার্যারীভাবে কাজে লাগানোর, তখন সেভাবে তাদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বল করেছেন।’

    এ তো গেল মাঠের ব্যাপারে। মাঠের বাইরেও গত কিছু দিনে দল যে অবস্থায় ছিল, তাতে তাদের যূথবদ্ধ করাটা ছিল মাহমুদউল্লাহর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কোচকে নিয়ে সেটা কিছুটা হলেও করতে পেরেছেন, আজকের শরীরী ভাষা ছিল তার প্রমাণ। সেখানে সিনিয়র হিসেবে ভূমিকা ছিল মুশফিকেরও। তরুণদের দেওয়া সেই বার্তাটা জানালেন ম্যাচ শেষে,  ‘আমি মনে করি আমাদের প্রধান কোচকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। গত তিন সপ্তাহে আমাদের যেরকম পরিস্থিতি চলছিল, সেখান থেকে দলকে যে জায়গায় নিয়ে আসতে পেরেছে সেজন্য তার অনেক ধন্যবাদ পাওনা। বিশেষ করে তরুণদের যেরকম স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে... তাদেরকে সেই আত্মবিশ্বাস দেওয়া যে যে না তুমি ২ ওভারে ২০-২৫ রান দাও বা তুমি এক বল আউট হও, তুমি এই দলের একজন সদস্য। তুমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন মেম্বার। শুধু অংশগ্রহণের জন্য নয়, তুমিও দলকে জেতাতে পার। আমার মনে হয়, এই বার্তা আমরা সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করি। দলের মধ্যে সেই সংস্কৃতিটা তৈরির চেষ্টা করি। কারণ, আমি ১৫ বছর পর এখন  যে জায়গায় আছি, ওরা দশ বছ বা আট বছরের মধ্যে কেন তরুণরা জায়গায় যেতে পারবে না? ওদের সেই সম্ভাবনা বা প্রতিভা আছে।’