• বাংলাদেশের ভারত সফর
  • " />

     

    'অপ্রত্যাশিত' অধিনায়কত্বের 'বাড়তি' চাপ নিতে চান না মুমিনুল

    ২৯ অক্টোবর- জাতীয় দল ভারত যাওয়ার একদিন আগে- পর্যন্ত বিসিবি জানতো না, ভারত সফরে তারা কাকে অধিনায়ক করে পাঠাবেন। সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞা ঘিরে তৈরি হয়েছিল এমনই অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে টেস্টে অধিনায়ক করা হয়েছে মুমিনুল হককে। টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব পাওয়াটাকে ‘পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত’ ঘটনা উল্লেখ করে মুমিনুল বলছেন, এর জন্য বাড়তি কোনও চাপ নিতে চাচ্ছেন না তিনি। 

    এমনিতে ঘরোয়া ক্রিকেটে জাতীয় লিগে চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বাংলাদেশের ‘টেস্ট বিশেষজ্ঞ’ তকমাও মোটামুটি সেঁটে গেছে তার সঙ্গে। তাকে অধিনায়ক করার পেছনে ভবিষ্যত পরিকল্পনার ভাবনার কথাও জানানো হয়েছিল বিসিবির পক্ষ থেকে। তবে আপাতত নিজের খেলাটাই খেলে যাওয়ার লক্ষ্য এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের। 

    টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষের পর দলের সঙ্গে মুমিনুলরা গিয়ে নাগপুরে যোগ দেওয়ার কথা ১০ নভেম্বর। এর আগে জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ডে অবশ্য মুমিনুল খেলেননি, তার বদলে চট্টগ্রামের অধিনায়কত্ব করেছেন ইয়াসির আলি। তবে মিরপুরে জাতীয় লিগের চতুর্থ রাউন্ডের পর গোলাপি বলে অনুশীলন করেছেন ইমরুল কায়েস, মেহেদি হাসান মিরাজ, মুমিনুলরা। প্রধান উইকেটে নেট সেশন সেরে এসে মুমিনুল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন। 

    “যদি আমি চিন্তা করি তবে প্রভাব পড়বে (আমার খেলায়)”, অধিনায়কত্ব নিয়ে বলেছেন মুমিনুল, “কিন্তু আমি যদি ভাবি আমি অধিনায়ক, আমার অনেক দায়িত্ব আছে- আমাকে দলকে সামনে টেনে নিতে হবে- তাহলে কিছুটা চাপ তৈরি হবে। আর যদি আগের মত খেলি যে আমি একজন ব্যাটসম্যান যার দলের জন্য রান করতে হবে, স্বাভাবিক খেলাটা খেললে ওরকম প্রভাব পড়বেনা।”

    “কখনোই এভাবে চিন্তা করিনি যে অধিনায়কত্ব অতিরিক্ত চাপ, দায়িত্ব। এভাবে চিন্তা করলে বাড়তি চাপ হয়ে যায়। আগে যেভাবে খেলেছি, রান করার জন্য, দলের জন্য সেভাবেই খেলেছি।”
     


    মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিমের মতো সিনিয়র ও অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা থাকা ক্রিকেটারদের টপকে তাকে অধিনায়ক বানানোর ব্যাপারটিকে মুমিনুল দেখছেন ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত হিসেবেই, “কঠিন একটা প্রশ্ন, উত্তর দেওয়াও কঠিন। কারণ এটাতো ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত, সত্যি কথা বলতে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।”

    তবে, “কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিলাম না, পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত এটি। কোনো সময়ই চিন্তা করিনি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হব কিংবা টেস্ট দলের অধিনায়ক হব। এমন কিছু স্বপ্নেও ছিলনা। যাই হোক পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ্‌। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।” 

    অধিনায়কত্বের প্রথম ধাপে কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন তিনি। নিজেদের মাটিতে ভারত শেষ সিরিজ হেরেছিল ২০১২ সালে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই সিরিজের পর নিজেদের মাটিতে ভারত টেস্টই হেরেছে মাত্র একটি! তবে এখানেও মুমিনুল থাকতে চাইছেন নির্ভার, “বিশ্লেষণ বড় কিছু নয়, অল্প করেই বলি। আমার কাছে মনে হয় জীবনে যেখানেই ক্রিকেট খেলি সেটা চ্যালেঞ্জিং। তো ভারতে হয়তো সে চ্যালেঞ্জটা একটু বেশি থাকবে, আমাদের সবাইকে সেভাবেই প্রস্তুত হয়ে চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে। আমার কাছে মনে হয় চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার জন্য সবাই প্রস্তুত আছে দলের। আমিও ওভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

    “আমার কাছে মনে হয় আপনি যেভাবে চিন্তা করবেন জিনিসটা সেভাবেই হবে। আপনি যদি মনে করেন কঠিন হবে তাহলে এখন থেকেই কঠিন হবে, কিন্তু আপনি যদি চিন্তা করেন যে ইতিবাচক পথে হাঁটবেন, ভালো চ্যালেঞ্জ আছে সেটা আমি নেবো। আমার কাছে মনে হয় সেভাবে চিন্তা করাই ভালো। আমি মনে করি এটা পুরোটাই মানসিক ব্যাপার।”

    একসময় টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া মুমিনুল এখন অধিনায়ক, সেটি মনে করিয়ে দেওয়ার পর মুমিনুল দিলেন দার্শনিক ঘরানার উত্তর, “আজ কী হবে কাল কী হবে  কেউ কিছু বলতে পারেনা। আমি মনে করি নিজের জায়গায় সৎ থেকে কাজটা করে যেতে পারলে আপনি আপনার জায়গাটা ফিরে পাবেন। আপনার কাজটা সঠিক পথে হতে হবে অবশ্যই।”

    ভারতে বাংলাদেশের টেস্ট দলের কাজগুলি কতোখানি ঠিকঠাক হবে, সেটার ওপরই আদতে নির্ভর করবে অধিনায়ক মুমিনুলের যাত্রাপথটা।