• বাংলাদেশের ভারত সফর
  • " />
    X

     

    দুবে আর 'রেকর্ডময়' চাহারে ম্লান নাইমের স্বপ্নের ইনিংস

    ভারত ১৭৪/৫, ২০ ওভার 
    বাংলাদেশ ১৪৪ অল-আউট, ১৯.২ ওভার
    ভারত ৩০ রানে জয়ী ও সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ী 


    মোহাম্মদ নাইম নায়ক হতে পারতেন, নাগপুরে বাংলাদেশকে দারুণ এক জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল তার ইনিংস। শিভাম দুবের স্বপ্নের এক ইয়র্কারে সে ইনিংস শেষ হলো, বাংলাদেশের সব স্বপ্নও যেন শেষ হয়ে গেল তাতেই। এর আগে শ্রেয়াস আইয়ার, লোকেশ রাহুলের দারুণ দুটি ইনিংসে বড় সংগ্রহ পাওয়া ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিলেন ওই 'পঞ্চম বোলার' দুবেই। আর শেষে এসে তুলির শেষ আঁচড়টা দিলেন দীপক চাহার, অজন্তা মেন্ডিসের ৮ রানে ৬ উইকেটের বোলিং ফিগার ছাপিয়ে তিনি গড়লেন টি-টোয়েন্টিতে নতুন রেকর্ড- ৭ রানে ৬ উইকেট। সঙ্গে থাকলো হ্যাটট্রিকও! নাগপুরে ভারতকে বাগে পেয়েও হারাতে পারলো না বাংলাদেশ, সিরিজ জয় তাই থেকে গেল অধরাই। ১৭৫ রানতাড়ায় জোড়ায় জোড়ায় উইকেট হারিয়ে স্বপ্নের অপমৃত্যুই ঘটলো শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের।

    অথচ একজন বোলার ‘কম’ নিয়ে নামা ভারতের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল শিশিরসিক্ত মাঠে পরে বোলিং করাও। তৃতীয় ওভারে দীপক চাহারের পরপর দুই বলে লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের ফেরা সেই চিন্তার অপরপ্রান্তে এনে হাজির করলো বাংলাদেশকে। ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৮ রান তোলা বাংলাদেশ শুরুতেই ছিটকে যেতে বসেছিল। 

    যুঝভেন্দ্র চাহালের প্রথম তিন বলে তিন বাউন্ডারিতে উলটো ইঙ্গিত দিলেন নাইম। মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে গড়লেন এরপর ৯৮ রানের জুটি। মিঠুনের ২৯ বলে ২৭ রানের ধীরগতির ইনিংসও দারুণ মূল্যবান হয়ে দাঁড়ালো তো নাইমের ব্যাটিংয়ের আয়েশি সৌন্দর্যেই। চাহালের পর দুবে, সুন্দর- নাইম ছাড়লেন না কাউকেই। সুন্দরকে সুইপ করে মারা চারে পেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি, নাইম ছুটতেই থাকলেন। 

    শট নির্বাচন দারুণ ছিল তার, সঙ্গে ছিল অসাধারণ টাইমিং। ভারতকে প্রায় ছিটকে দিচ্ছিলেন তিনি। চাহার ও দুবের পরপর দুই বলে যথাক্রমে মিঠুন ও মুশফিকের উইকেট ধাক্কা দিল বড়সড়, তবে আশা হয়ে ছিলেন নাইম-মাহমুদউল্লাহ। এরপরই দুবের ওই স্বপ্নের ডেলিভারি। ঠিক পরের বলে বাউন্সার সামলাতে না পেরে ফিরতি ক্যাচ দিলেন আফিফও। ম্যাচে তৃতীয়বার জোড়ায় জোড়ায় উইকেট হারালো বাংলাদেশ।
     


    মাহমুদউল্লাহ চাহালের ওপর চড়াও হতে গিয়ে হলেন পরিষ্কার বোল্ড। চাহার এরপর দুই ওভার মিলিয়ে পরপর তিন বলে পেলেন শফিউল, মোস্তাফিজ, বিপ্লবের উইকেট - পেয়ে গেলেন হ্যাটট্রিক। ৩.২ ওভার, ৭ রান, ৬ উইকেট- চাহার ঢুকে গেলেন ইতিহাসে।

    এর আগে নাগপুরে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে প্রথমে ভারতকে চেপে ধরেছিলেন শফিউল-আল-আমিনরা। শফিউলের গুডলেংথের বলে লেগসাইডে চিপ করতে গিয়ে স্টাম্পে বল ডেকে এনেছেন রোহিত শর্মা, আবারও ভেতরের দিকে ঢোকা বল ঘাতক তার। শিখর ধাওয়ান দারুণ টাইমিং করছিলেন, তৃতীয় ওভারে প্রথম বাউন্ডারি এসেছিল ভারতের। ধাওয়ান রান-আউটের সুযোগ দিয়েও বেঁচে গেছেন মিড-অন থেকে নাঈম সরাসরি লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায়। 

    অবশেষে ধাওয়ানের সঙ্গে দ্বৈরথ জিতেছেন শফিউল, তার পেস কমিয়ে আনা বলে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে খেলতে গিয়ে আকাশে বল তুলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা পড়েছেন ধাওয়ান। সে ওভারেই শফিউল আরেকটি উইকেট পেতে পারতেন, ভারতকে আরও চেপে ধরার সে সুযোগটা নিতে পারলেন বিপ্লব। গালিতে সহজ ক্যাচ ভড়কে গিয়ে মিস করলেন, যে শ্রেয়াস আইয়ার ফিরতে পারতেন শূন্যতেই, সেই তিনি শেষ পর্যন্ত হলেন ভারতের সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহক।

    শফিউল-আল-আমিনের পুরো বিপরীত ছিলেন মোস্তাফিজ, যেন কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই বোলিং করছিলেন তিনি। তার বোলিংয়ের মতো বাংলাদেশকে হতাশ করে গেছে রাহুল-আইয়ারের জুটি। রাহুল গ্যাপ বের করেছেন দারুণভাবে। বড় শট খেলার চেষ্টা করেননি, মেরেছেন ৭টি চার। ৩৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেছেন, আল-আমিনের নতুন স্পেলের প্রথম বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ করতে গিয়ে মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন অবশেষে। 

    আইয়ারের ইনিংস ছিল রাহুলের পুরো উলটো। দ্বিতীয় জীবনকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবে, চড়াও হয়েছেন বাংলাদেশ বোলারদের ওপর। সৌম্যকে দিয়ে পঞ্চম বোলারের কোটা পূরণ করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ, ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে সৌম্য নিয়েছেন পান্ট ও আইয়ারের উইকেট, সেটাও একই ওভারেই। এর আগেই যা ক্ষতি করে গেছেন আইয়ার। 

    ১৫তম ওভারে প্রথমবার এসেছিলেন আফিফ, টানা তিন ছয়ে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন আইয়ার। আরেক স্পিনার বিপ্লবও এদিন ছিলেন ম্লান, এর ওপর ছেড়েছেন দুটি ক্যাচ। আইয়ার শেষ পর্যন্ত মেরেছেন ৫টি ছয়, ৩৩ বলে করেছেন ৬২। মাঝের ওভারগুলিতে ভারতের 'পাওয়ার-হিটার' না পাওয়ার আক্ষেপ পূরণেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এরপর শেষ ৩ ওভারে ভারত ৩০ রান তুলেছে মূলত মনীশ পান্ডের ১৩ বলে ২২ রানের ক্যামিওতে। একসময় ভারতকে ১৪০-এর নিচেই বেঁধে ফেলার স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশ দেখেছে ভারতকে ১৭০ পেরিয়ে যেতে।

    এরপরের গল্পটা তো আগেই বলা। যে গল্পে নাইমের ব্যাটিংয়ের তৃপ্তির সঙ্গে আছে সিরিজ হাতছাড়া করার আক্ষেপ।