• বাংলাদেশের ভারত সফর
  • " />

     

    নেট সেশন : 'অপরাজেয়' ভারতের সামনে 'নতুন' বাংলাদেশ

    আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ
    ভারত-বাংলাদেশ

    কবে, কখন
    ১৪-১৮ নভেম্বর, ২০১৯ 
    বাংলাদেশ সময় সকাল ১০.০০ (০০১০)


    ২০১২-১৩, ভারত। গ্রায়েম সোয়ান ও মন্টি পানেসারের ঘূর্ণির সঙ্গে চওড়া হয়ে যাওয়া অ্যালেস্টার কুকের গ্রে নিকোলসে ভারত জয় করেছিল ইংল্যান্ড। এরপর অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড- সবাই গিয়েও ফিরেছে প্রায় শূন্য হাতে। আফগানিস্তান বা বাংলাদেশও খেলে এসেছে একটি করে টেস্ট- ফল রয়ে গেছে একই। ভারতকে তাদের মাটিতে টলাতে পারেনি কেউ। নিজেদের কন্ডিশনে ভারত হয়ে উঠেছে অপরাজেয়। 

    সেই ভারত এবার সামনে বাংলাদেশের। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালকে ছাড়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ে উজ্জীবিত হয়েছিল বাংলাদেশ, শেষ ম্যাচের অনেকটা সময় জুড়েও ছিল সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা। তবে সেসব উদ্দীপনা মিলিয়ে যেতে পারে দ্রুতই। টেস্ট ক্রিকেটের কঠোর ও নির্মম পরিবেশে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জটা হাজির বাংলাদেশের সামনে। 

    টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিশ্রামে থাকলেও টেস্ট সিরিজে ফিরছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। সঙ্গে ফিরছে তার দারুণ কার্যকরী পেস বোলিং আক্রমণ, ফিরছে রবি আশ্বিন-রবি জাদেজার ঘূর্ণি। অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক, সাকিব নেই বলে প্রধান স্পিনারের দায়িত্ব নিতে হবে তাইজুল ইসলাম-মেহেদি হাসান মিরাজকে। মাঠে নামার আগে ভারত তাই এগিয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে। 

    এ ম্যাচ দিয়ে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যাত্রা শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের। ভারত এরই মাঝে চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে ফেলেছে দুটি সিরিজ, ৭২০ পয়েন্টের মাঝে ২৪০ পয়েন্ট পেয়ে গেছে তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জয় তাদেরকে এগিয়ে নেবে আরেক ধাপ। 

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টটি চ্যাম্পিয়নশিপের ভেতর ছিল না বাংলাদেশের জন্য। আর সেই টেস্টের কথা উঠলে অবশ্য ভেসে ওঠে দেশের মাটিতে তাদের কাছে হেরে যাওয়া, আলাদা করে টেস্ট ফরম্যাটের কথা বিবেচনা করলেও সেই ম্যাচ বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে পারে আত্মবিশ্বাসের তলানীতে। আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ভারত আছে তুঙ্গে। 

    ইন্দোরে লড়াইটা বাংলাদেশের নিজেদের সঙ্গে। এবং অবশ্যই, ‘অপরাজেয়’ ভারতের সঙ্গে। 
     


    প্রথম টেস্টের আগে হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক/বিসিবি


    রঙ্গমঞ্চ
    হোলকার ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ইন্দোর

    ২০০৬ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল এখানে, প্রথম টেস্টের জন্য ইন্দোরকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল আরও ১০ বছর। এখন পর্যন্ত এখানে হয়েছে ওই একটি টেস্টই, টসে জিতে ব্যাটিং নিয়ে বড় স্কোর গড়া ভারত উড়িয়ে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। সম্প্রতি ভারত অধিনায়ক কোহলি বলেছেন, টেস্টের জন্য পাঁচটি নির্দিষ্ট ভেন্যুত থাকা উচিৎ ভারতের। তেমন কিছু হলে সে লড়াইয়ে থাকতে চায় ইন্দোরও।

    এ টেস্টের জন্য বানানো উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া থাকতে পারে, তবে স্ট্রোকপ্লেতে সেটি সহায়তা করবে। আগামী পাঁচদিন ইন্দোরের আবহাওয়া থাকার কথা ঝকঝকে, বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই সেখানে। 


    যাদের ওপর চোখ

    মুশফিকুর রহিম

    ৬৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১২ ম্যাচ উইকেটকিপিং করেননি তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কয়েকটি বাদ দিলে এর বেশিরভাগ ম্যাচেই চোটের কারণে উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো হয়নি তার। এবার স্বেচ্ছায় উইকেটকিপিং গ্লাভস ছেড়ে দিচ্ছেন মুশফিক। পরিসংখ্যান বলে, উইকেটকিপিং করলেই তার ব্যাটিংটা ভাল হয়। সেদিক দিয়ে একটা ‘চ্যালেঞ্জ’ তার সামনে। ইন্দোরে সে চ্যালেঞ্জকে জয় করতে পারবেন তিনি? 

    মায়াঙ্ক আগারওয়াল

    ভিশাখাপত্তমে ডাবল সেঞ্চুরির পর পুনেতে সেঞ্চুরি- দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজটা দারুণ গেছে আগারওয়ালের। শেষ টেস্টে অবশ্য একমাত্র ইনিংসে ১০ রান করেই ফিরেছিলেন। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছিলেন তিনি। দেওধর ট্রফিতে ওয়ানডে ম্যাচে করেছেন সেঞ্চুরি, কর্নাটকের হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফির ফাইনাল জিততে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। 


    সম্ভাব্য একাদশ

    সাইফ হাসানের অভিষেক কি হবে ইন্দোরে? না হলে ওপেনিংয়ে সাদমান ইসলামের সঙ্গী হিসেবে ফিরতে পারেন ইমরুল কায়েস। সাকিব নেই বলে বাড়তি একজন ব্যাটসম্যানের সঙ্গে একজন বোলারও প্রয়োজন হবে বাংলাদেশের। পেসে আবু জায়েদ রাহি, এবাদত হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও আল-আমিন হোসেন অপশন তাদের। তাইজুল-মেহেদির সঙ্গে স্পিনে অপশন নাঈম হাসান। অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেনকে প্রথম টেস্টের জন্য পাচ্ছে না বাংলাদেশ, ব্যক্তিগত কারণে দেশে ফিরেছেন তিনি। 

    বাংলাদেশ 
    সাদমান ইসলাম, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, আবু জায়েদ, মোস্তাফিজুর রহমান, এবাদত হোসেন। 

    তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে ভারত। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা একাদশের মতোই কম্বিনেশন থাকবে তাদের। 

    ভারত
    রোহিত শর্মা, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, চেতেশ্বর পুজারা, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), আজিঙ্কা রাহানে, রবিন্দ্র জাদেজা, ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটকিপার), রবি আশ্বিন, ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব, মোহাম্মদ শামি

    সংখ্যার খেলা 

    • উইকেটকিপিং করা ও ছাড়া অবস্থায় মুশফিকের ব্যাটিং গড়ের পার্থক্য ১২.২৬। উইকেটকিপিং করেছেন এমন ম্যাচে ব্যাটিং গড় ৩৪.৭৩, উইকেটকিপিং না করলে সেটি নেমে আসে ২৪.৪৭-এ 
    • ১০০ উইকেট পেতে আর ১১টি প্রয়োজন মিরাজের 
    • আর ১৪৬ রান হলে সৌরভ গাঙ্গুলিকে টপকে টেস্টে ভারতের সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহকের তালিকার ছয়ে উঠে আসবেন কোহলি। 
    • টেস্টে ৪০০০ রান পূর্ণ করতে আর ২৫ রান প্রয়োজন রাহানের 


    তারা বলেন 

    “আমরা আসলে তাদের দুর্বলতা নিয়ে না ভেবে নিজেদের শক্তি নিয়ে ভাবছি। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো দলই ভারতের মাটিতে সাফল্য পায়নি। আমরা ভালো কিছু করার আশায় আছি। অবশ্যই এটা সহজ কাজ হবে না। ভারতের যে পাঁচজন বোলার আছে তাদের সামলানো কঠিন হবে।”

    মোহাম্মদ মিঠুন, বাংলাদেশ

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন