• বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
  • " />
    X

     

    দুঃস্বপ্নের দ্বিতীয়ার্ধে ওমানের কাছে হারল বাংলাদেশ

    ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশের হারটাই অনুমিত ছিল। জেমি ডে তাই ম্যাচের আগে বলেছিলেন, এক পয়েন্ট নিয়ে দেশে ফিরতে পারাটা হবে বড় অর্জন। এক পয়েন্টের জন্যই প্রথমার্ধে খেলছিল বাংলাদেশ। এর পর মনোযোগটা হারিয়ে গেল বিরতির পর থেকেই। এক গোলে মনোযোগ হারা, দুই গোলে হতাশা, তিন গোলের পর মাসকাটে ওমানের বড় জয়ের অপেক্ষা। বাংলাদেশর সান্ত্বনা জুটেছে শেষে গিয়ে বিপলু আহমেদের এক গোলে। সেটাও হারিয়েছে এর পর যোগ করা সময়ে চতুর্থ গোল হজম করে। বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বে ওমানের কাছে বাংলাদেশ হেরেছে ৪-১ ব্যবধানে। 

    প্রথমার্ধে পরিকল্পনাটা কাজে দিচ্ছিল জেমি ডের। ওমানকে নিজেদের স্বভাবসুলভ ফুটবল খেলতে দেয়নি তার দল। তবে বাংলাদেশ পুরোটা সময় ব্যস্ত ছিল নিজেদের অর্ধেই। ওমানের আক্রমণ দুই প্রান্ত থেকে আসা ক্রসের ওপর নির্ভর করে অনেকটাই। কিন্তু প্রথম ২৫ মিনিটে ওমানকে সেই কাজটা করতে দেয়নি বাংলাদেশের জমাট রক্ষণ। একরকম বাধ্য হয়েই তাই বক্সের বাইরে থেকে গোলের চেষ্টা করতে থাকে ওমান। ইয়াসিন খান, রিয়াদুল হাসান রাফিরা সাধ্যমতো ভুল-ত্রুটি এড়ানোর চেষ্টা করে গেছেন, সঙ্গে আশরাফুল ইসলাম রানা গোটা দুই ভালো সেভ করে ওমানকে আটকে রেখেছিলেন তখন।


    ওমানের বিপক্ষে ভারত আর কাতারের একাদশটাই নামিয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু হয়েছে উলটোটা। নিজেদের অর্ধে এতোখানি মনোযোগী হওয়া আত্মঘাতী হতে পারত। হলোও সেটাই। ওমান যেভাবে আক্রমণ তৈরি করছিল, সেভাবেই মিডফিল্ড থেকে বাংলাদেশের রক্ষণের দিকে গেল, জাহির সুলাইমান ওয়ান টু করতে চেয়েছিলেন বক্সের মাথায়। ইয়াসিন খান ছিলেন সেখানে, বাধা দিতে পারেননি তিনি। সুলাইমানের পরিকল্পনা সফল না হলেও বক্সের মাথায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন মহসিন আল খালদি। তার সামনে তখন অবারিত জায়গা, বাম পায়ের নিখুঁত প্লেসমেন্টে এরপর বল জড়িয়ে বাংলাদেশের হৃদয় ভাঙলেন তিনি। বাংলাদেশের রক্ষণ দুর্গের ভাঙনের শুরু ৪৮ মিনিটে। এরপর দুই দলের মানের পার্থক্যটা আরও ভালোভাবে ফুটে উঠেছে ম্যাচে।

    ওমানের মাঠে বাংলাদেশের সমর্থক ছিল বেশি। আনন্দে মেতে ওঠার মতো একটি মুহুর্ত তারা পেয়েছেন এর আগে। ম্যাচের একেবারে শুরুতে জামাল ভুঁইয়া ৩০ গজেরও বেশি দূর থেকে গোলে শট করে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন একসময়ে বোল্টন, উইগ্যানে খেলা গোলরক্ষক আলি আল হাবসিকে। ওমান গোলরক্ষক প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের হয়ে একাদশে নেমেছিলেন। তাকে বাজিয়ে দেখার সাহসটা শুধু করতে পেরেছিলেন জামালই। আর বাকি সময়ে বাংলাদেশ নিজেদের অর্ধ থেকে বের হতেই ধুঁকেছে। 

    গোল খাওয়ার পর ডের পরিকল্পনা সফল করতে গোল করতে হত বাংলাদেশকে। কিন্তু ওমান তখন লিডে গিয়ে নিজেদের আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেয়েছে, কাজটাও দ্বিগুণ কঠিন হয়ে গেছে বাংলাদেশের জন্য। ৬৮ মিনিটে ওমান জয়টা একরকম নিশ্চিত করে ফেলল আরও এক গোল দিয়ে। ততোক্ষণে বাংলাদেশের রক্ষণও হয়ে গিয়েছিল আলগা। সেই সুযোগে, ডান প্রান্ত থেকে করা ক্রসে দ্বিতীয় গোল পেয়ে গেল ওমান। রাইটব্যাক ঘেলাইনি দূরের পোস্টে ক্রস করেছিলেন, লেফটব্যাক আল মান্ধার টোকা দিয়ে পেয়ে গেছেন গোল। 

    দুই গোলে পিছিয়ে পড়ারও পর ডে তার নিজের খেলার কৌশল বদলাননি। নতুন কাউকে মাঠেও নামাননি, অথচ ওমান দুই বদলি নামিয়ে খেলা নিজেদের আয়ত্তে নিয়েছে পুরোপুরি। ওমান সময়ের সাথে ভয়ঙ্কর হয়েছে, আর বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে আরও।  বড় ব্যবধানের হার তখন চোখ রাঙাচ্ছে বাংলাদেশকে।

    ৭৭ মিনিটে একবার বারপোস্টের কল্যাণে বেঁচে ফিরলেন রানা। কিন্তু মিনিট খানেক টিকল তার সেই স্বস্তি। দুই বদলির একজন পেয়ে গেলেন গোল, আরশাদ আল আলাউইও বক্সের বাইরে থেকে করা শটে পরাস্ত করলেন রানাকে। অবশ্য আরেকটু সচেতন থাকলে হয়ত সে দফায় আরশাদকে ঠেকাতেও বাংলাদেশ গোলরক্ষক। 

    তিন গোল হজমের পর বাংলাদেশের অনেক সমর্থকই যখন বাড়ি ফেরার পথ ধরেছেন, তখন সান্ত্বনার গোলটি পেয়েছে বাংলাদেশ। ওমানের রক্ষণের ভুলে বক্সের ভেতর বল পেয়ে যান বিপলু। অনেক কাজ বাকি ছিল তখনও। ডান পায়ে প্রথম সুযোগেই হাফভলিতে দেখার মতো এক গোল করেছেন তিনি। ৮১ মিনিটে ব্যবধান তখন ৩-১। আর এক গোল পেলেও বাংলাদেশের মান বাঁচে তখন। এই ফলটাও হয়ত একেবারে খারাপ হত না। কিন্তু বাংলাদেশের রাতটা আরেকটু হতাশার হলো একেবারে শেষে গিয়ে। আরমান সাইদ জুমাও গোল করলেন রানার ভুলের সুযোগ নিয়ে।
     
    অসম্ভব কিছু আর সম্ভব করে দেখানো হয়নি তাই বাংলাদেশের। জেমি ডের অধীনে জামালদের সবচেয়ে বড় হারটা সঙ্গী হলো ওমানে। গ্রুপ ‘ই’-তে তাই এক পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে থাকল বাংলাদেশ।   

     
    বাংলাদেশ একাদশ
    আশরাফুল ইসলাম রানা, রায়হান হাসান, ইয়াসিন খান, রিয়াদুল হাসান রাফি, রহমত মিয়া, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, সাদ উদ্দিন, বিপলু আহমেদ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, নাবিব নেওয়াজ জীবন (রবিউল হাসান, ৯০')   

    ওমান 
    আলি আল হাবসি, মোহাম্মদ আল মুসালামি, আমরান সাইদ, মহসিন খালদি, আহমেদ মুব্রারাক, আল মান্ধার, মুহসেন সালেহ, আলি সুলাইমান, আল আঘবারি, আব্দুল আজিজ ঘেলাইনি