• বাংলাদেশের ভারত সফর
  • " />
    X

     

    আগারওয়ালদের তোপে বাতাসে মিলিয়ে গেল বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ ১ম ইনিংস ১৫০ অল-আউট (মুশফিক ৪৩, মুমিনুল ৩৭, শামি ৩/২৭, ইশান্ত ২/২০)
    ভারত ১ম ইনিংস ৪৯৩/৬* (আগারওয়াল ২৪৩, রাহানে ৮৬, জাদেজা ৬০*, পুজারা ৫৪,  রাহি ৪/১০৮)
    ভারত ৬ উইকেট নিয়ে ৩৪৩ রানে এগিয়ে


    পুরো দিনের ঘটনা


    “বাতাস দিস না ভাই, বাতাস দিস না”, স্টাম্প মাইকে শোনা যাচ্ছিল মেহেদি হাসান মিরাজকে বলা লিটন দাসের কথাগুলি। হয়তো নিষেধ করছিলেন ফ্লাইট দিতে। “এক দিয়ে ওকে খেলা”- এবার ফুটে উঠলো অসহায়ত্ব, আগারওয়ালকে সিঙ্গেল নিতে দিয়ে জাদেজাকে স্ট্রাইক দিতে বলছিলেন তিনি। আগারওয়ালের ব্যাটিং হয়তো আর ‘উপভোগ’ করতে পারছিলেন না বাংলাদেশ উইকেটকিপার। ইন্দোরে দিনভর বাংলাদেশের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়ে গেছে ভারত, আর মুমিনুল হকরা শুধু অপেক্ষা করে গেছেন- যদি ভারত ব্যাটসম্যানরা কোনও ভুল করেন! 

    সে ভুল খুব বেশি করেননি তারা। আগারওয়ালের ডাবল সেঞ্চুরি, পুজারা-রাহানে-জাদেজার ফিফটির পর উমেশ যাদবের ক্যামিওতে ভারতের লিড হয়ে গেছে ৩৪৩ রানের। এদিন ৪.৬২ হারে ৪০০-এর বেশি রান তুলেছে ভারত, নিজেদের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয়বারের মতো। শেষ সেশনে ৩০ ওভারে তারা তুলেছে ১৯০ রান। বাংলাদেশের নিয়মিত চার বোলারই সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ফেলেছেন। মাঝে মাঝে ক্রিকেট বড্ড ‘সংখ্যার খেলা’ হয়ে ওঠে, সংখ্যা দিয়েই আপনি বুঝতে পারেন অনেক কিছু! 

    আগারওয়ালের ইনিংসটি যেমন। ৩৭ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করা ভারত ওপেনার এদিন করলেন আরও ২০৬ রান। প্রতিবার এগিয়ে এলেন, বল হলো ছয়। তার প্রতিটি শটে মিশে থাকল আধিপত্য। আর প্রতিটি শট হয়তো গিয়ে বিঁধল ইমরুল কায়েসের বুকে। ৩২ রানে তার ক্যাচ ছেড়েছিলেন ইমরুল, সেটির মাশুল বাংলাদেশ গুণলো পাক্কা ২১১ রান। আর বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যান- মুমিনুল, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ মিলে চারটি জীবন পেয়ে ‘বাড়তি’ যোগ করেছিলেন ৫৬ রান। দুই দলের পার্থক্য তো ফুটে ওঠে এতেও! 

    এক আবু জায়েদ রাহি ছাড়া বাকিদের এদিন মনে হচ্ছিল পথভোলা কোনও পথিকের মতো, শুধু এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এবাদত হোসেন বোলিং করলেন দীর্ঘ স্পেল, তবে রাহিকে সেভাবে সমর্থন দিতে পারলেন না তিনি। তাইজুল বা মিরাজ তো শুধু চাপ আলগা করে গেলেন একপ্রান্ত থেকে। উইকেট-নেওয়ার মতো ডেলিভারি না করলেও যে আঁটসাঁট বোলিং করে চাপ ধরে রাখবেন, পারলেন তারা সেটি করতে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ শুধু তাকিয়ে থাকতে পারলো, আর দেখতে লাগলো, ভারত ব্যাটসম্যানরা কী করেন। তা সেটি আগারওয়াল হোন বা উমেশ হোন! 
     


    আগারওয়ালের আরেকটি শট, চেয়ে আছেন জাদেজা, সঙ্গে লিটন/বিসিসিআই


    দিনের শেষে এসে তাই মিলিয়ে গেল শুরুতে পাওয়া সুখস্মৃতিটুকু। যেটি এনেছিলেন রাহি। পুজারা ফিফটির পর ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ধরা পড়েছিলেন বদলি ফিল্ডার সাইফ হাসানের হাতে। আর ভেতরের দিকে ঢোকা বলে মিস করে এলবিডব্লিউ হয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক, তাও আবার শূন্যতেই। যে উইকেট বাংলাদেশ পেয়েছিল রিভিউ নিয়ে। রাহানের সঙ্গে আগারওয়াল শীঘ্রই ভুলিয়ে দিলেন সেসব। লাঞ্চের আগে থেকে শুরু করে চা-বিরতির পর পর্যন্ত দুজনের জুটিতেই উঠলো ১৯০ রান।

    শর্ট বলে আপার কাট করতে গিয়ে ডিপ পয়েন্টে ধরা পড়লেন রাহানে, ‘প্রাপ্য’ সেঞ্চুরিটা মিস করলেন নিজের দোষেই। তাতে অবশ্য বাংলাদেশের খুব একটা স্বস্তি মিললো না। জাদজার সঙ্গে পরের জুটিতে আগারওয়াল তুললেন আরও ১২৩ রান। 

    মিরাজকে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে লং-অন দিয়ে ছয় মেরে পূর্ণ করলেন দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি, মাত্র ১২তম ইনিংসে! এর চেয়ে কম ইনিংসে একাধিক ডাবল আছে শুধু বিনোদ কাম্বলির। এর আগে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন এবাদতের বলে ডাবলস নিয়ে। সেঞ্চুরির পর বিরাট কোহলি তাকে সংকেত দিয়েছিলেন ডাবল করার, ডাবলের পর আগারওয়ালের উদযাপনে মিশে থাকল সেটিরই ইঙ্গিত। কোহলি এবার সঙ্কেত দিলেন ট্রিপলের, মিরাজকে ছয়ের পর আবার তুলে মারতে গিয়ে সেটি হলো না তার। থামলেন ২৪৩ রানেই। এর আগে খেললেন 'কমপ্লিট' এক ইনিংস। যাতে মিশে থাকলো ড্রাইভ, কাট, ফ্লিক, সুইপসহ সব ধরনের শট। মিশে থাকলো রানের ক্ষুধা। দারুণ পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন। ক্রিজের চারপাশে খেলেছেন তিনি, আগের দিনের টেলিফোনের মতো ডায়াল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব ডিজিটই ছুঁয়ে গেছেন।

    আগারওয়াল অবশেষে থামলেও ভারত থামলো না। সাহা এবাদতের বলে বোল্ড হলেন, এরপর শুরু হলো বিনোদন। আশ্বিনের আগে পাঠানো হলো উমেশ যাদবকে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচটি ছয়ে যিনি নিজের সামর্থ্য জানান দিয়েছিলেন। এবারও শুরু করলেন শট খেলা। তিনটি ছয়ের সঙ্গে মারলেন একটি চার- বাংলাদেশকে নিয়ে খেললেন ব্যাটসম্যান যাদবও। আর ড্রেসিংরুমে কোহলিরা মাতলেন উল্লাসে।

    শেষদিকে অনেক সময় নিয়ে বোলিং করে বাংলাদেশ আপাতত রেহাই পেলো ভারতের কাছ থেকে। তবে ইন্দোরে দুই দিন ধরে এক টস ছাড়া আর কিছু পাওয়া হলো না বাংলাদেশের। টসের সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে চার বোলার খেলানোর সিদ্ধান্ত, মাহমুদউল্লাহকে ১০৪তম ওভারে আনা, পিচ্ছিল ফিল্ডিং, বোলিং, শরীরী ভাষা, নেতৃত্ব- সবকিছু ছাপিয়ে প্রশ্ন উঠল নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে। প্রথম দিন বিধ্বস্ত বাংলাদেশ এদিন যে রীতিমতো উড়ে গেল বাতাসে।

    লিটনের কথামতো তাই বলতে পারেন, "বাতাস দিস না ভাই, বাতাস দিস না"।