• জাতীয় ক্রিকেট লিগ
  • " />

     

    শেষদিনে এসে জাতীয় লিগের শিরোপা ফিরে পেল খুলনা

    ১ম স্তর, খুলনা
    ঢাকা ১ম ইনিংস ২৭৯ অল-আউট (তাইবুর ১১০, হালিম ৫/২৭) ও ২য় ইনিংস ২১৬ অল-আউট (রকিবুল ৯৯, আরাফাত সানি জুনিয়র ৫৩, জিয়াউর ৫/৪৪)
    খুলনা ১ম ইনিংস ৩৭৯ অল-আউট (নুরুল ১৫০*, তুষার ৮২, শুভাগত ৫/৪৬) ও ২য় ইনিংস ১১৭/১ (এনামুল ৭৯, অমিত ৩৩*) 
    খুলনা ৯ উইকেটে জয়ী ও প্রথম স্তরের চ্যাম্পিয়ন


    ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৭-১৮- টানা তিন মৌসুম জাতীয় লিগের শিরোপা জেতা খুলনা গত মৌসুমে শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়ে ফেলেছিল রাজশাহীর কাছে। আবার ট্র্যাকে ফিরে এসেছে খুলনা, লিগের শেষদিনে এসে শেষ রাউন্ডে ঢাকাকে হারিয়ে রেকর্ড ৭ম বারের মতো জাতীয় লিগের শিরোপা জিতেছে তারা। দুইয়ে থাকা ঢাকার সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৫-এরও বেশি। গত মৌসুমে শিরোপা জিতে খুলনার রেকর্ড ছুঁয়েছিল রাজশাহী, এবার তাদেরকে ছাড়িয়ে গেল খুলনা।

    শিরোপা ফিরে পেতে ম্যাচটা ড্র করলেই চলতো খুলনার। রকিবুল হাসান ও আরাফাত সানি জুনিয়রের ৬ষ্ঠ উইকেট জুটি অপেক্ষায় রেখেছিল তাদের। আগের দিন ৫ উইকেটে ১০২ রান নিয়ে দিন শেষ করা খুলনা এদিন রকিবুল-সানির লড়াকু জুটিতে তুলেছিল আরও ১০৯ রান। রকিবুল লাঞ্চে গিয়েছিলেন ৮৯ রান নিয়ে, সানি অপরাজিত ছিলেন ৪২ রানে। 

    লাঞ্চের পর দ্বিতীয় নতুন বল পেলো খুলনা। অবশ্য তাদেরকে ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছে রকিবুলের রান-আউট। ৯৯ রানে দাঁড়িয়ে রকিবুল হলেন রান-আউট, ভাঙলো সানি জুনিয়রের সঙ্গে তার ১২৫ রানের জুটি। এরপর ঢাকা ধসে পড়লো খুব দ্রুতই। পরের ৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েছে তারা।

    রকিবুল তার ইনিংসে খেলেছেন ২২৭ বল, ৩২১ মিনিট ক্রিজে থেকে ৪টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ৩টি ছয়। ক্যারিয়ারে এর আগে একবারই ৯৯ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি, ২০১৫-১৬ মৌসুমে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে ম্যাচে ৯৯ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছিলেন তিনি। 

    রকিবুলের আউটের এক ওভার পর ফিরেছেন সানি, জিয়াউর রহমানের বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেছেন ১৪৮ বলে ৫৩ রান। এরই মাঝে সানিকে পিটিয়ে নিষিদ্ধ হওয়া শাহাদাত হোসেন ব্যাটিং করতে পারেননি আর। ঢাকার শেষ ৩ ব্যাটসম্যানের কেউই শূন্যের দাগ কাটাতে পারেননি। 

    নাজমুল ইসলামের উইকেট দিয়ে পাঁচ পূর্ণ হয়ে গেছে খুলনা পেসার জিয়ার। ২৩.৩ ওভার বোলিং করে ৯টি মেইডেনসহ ৪৪ রান খরচ করে তিনি নিয়েছেন ৫ উইকেট। খুলনাকে ১১৭ রানের লক্ষ্য দিয়ে থেমেছিল ঢাকা। 

    রানতাড়ায় প্রথম ওভারেই স্টাম্পড হয়ে ফিরেছেন খুলনা ওপেনার রবিউল ইসলাম রবি। এরপর এনামুল হক বিজয় ও অমিত মজুমদার অবিচ্ছিন্ন থেকে গেছেন চা-বিরতিতে। 

    বিরতির পর প্রথম আক্রমণ করেছেন অমিত, পরপর দুই ওভারে যথাক্রমে নাজমুল ও শুভাগতকে ছয় মেরে। শীঘ্রই পার্টিতে যোগ দিয়েছেন এনামুল। একসময় অমিতের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন তিনি স্কোরিংয়ে, শীঘ্রই ছাড়িয়ে গেছেন তাকে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৭৬ বলে ৭৯ রান করে, ৪টি করে চার ও ছয় মেরেছেন তিনি। অমিত অপরাজিত ছিলেন ৩৩ রানে। 

    উত্তম সরকারকে ছয় মেরে ম্যাচ টাই করার পর সিঙ্গেল নিয়ে জয় নিশ্চিত করেছেন এনামুলই। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ড্যাডি সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন নুরুল হাসান সোহান।    

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন