• বাংলাদেশের ভারত সফর
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    গোলাপী বল নিয়ম নয়, ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখতে চান কোহলি

    গোলাপী বল আর দিবারাত্রির টেস্ট নিয়ে কলকাতা এখন উন্মাতাল। যে বলে খেলা নিয়ে এতোদিন অনীহা ছিল ভারতের, সেটার অভিষেককে একরকম উৎসবই বানিয়ে ফেলেছে ভারত। বিসিসিইয়ায়ের নতুন প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলী কদিন আগেই বলেছেন, দিবারাত্রির ম্যাচই টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যত। তবে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি এখনই সেরকম মনে করছেন না। আপাতত গোলাপী বলকে নিয়ম নন, ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখতে চান কোহলি।

    আগামীকাল থেকে ইডেনে শুরু হচ্ছে ভারতের মাটিতে প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট। সকালে বেলা টস তাই করা হচ্ছে দুই অধিনায়ক, একেবারে দুপুরে শুরু হবে খেলা। এই টেস্ট নিয়ে সবার মধ্যেই বাড়তি রোমাঞ্চ আছে। কোহলিও ব্যতিক্রম নন। তবে এটাই যে টেস্টের ভবিষ্যত, সেরকম কিছু মনে করছেন না, ‘টেস্ট ক্রিকেট শুধু এভাবেই খেলতে হবে, এমন আমি মনে করি না। আপনি টেস্ট ম্যাচে সকালের যে স্নায়ুচাপ থাকে সেটা মিস করবেন। শুধু বিনোদনের ওপর নির্ভর করে টেস্ট ক্রিকেট তো আর চলে না।’ টেস্টের দর্শনটা ভারত অধিনায়কের কাছে এমন, ‘এখানে বিনোদন বলতে আমি মনে করি একজন ব্যাটসম্যানের গোটা একটা সেশন কাটিয়ে দেওয়া, ব্যাটসম্যানকে আউট করার জন্য বোলারের ফিল্ড সেট আপ করা। এটা যদি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা হয়, সেটা খারাপ। আপনার টেস্ট ক্রিকেট ভালো না লাগলে জোর করে তো আমি ভালো লাগাতে পারব না। টেস্ট ক্রিকেটে একটা সেশনে ব্যাট আর বলের যে লড়াই, আমার মতে এটা দেখার জন্যই মানুষের আসা উচিত। তাদের বুঝতে হবে এখানে আসলে কী হচ্ছে। আমার মতে দিবারাত্রির টেস্ট ব্যতিক্রমই হওয়া উচিত, এটাই প্রথাগত হয়ে যাওয়া উচিত নয়।’ কোহলির কথা থেকে আঁচ পাওয়া গেল, টেস্টে বেশি সংস্কারের পক্ষপাতী নন।

    বাস্তবতা হচ্ছে, কালকের টেস্ট নিয়ে এমনই মাতামাতি- এর মধ্যে ফুরিয়ে গেছে টিকিট। কলকাতা সেজেছে গোলাপী সাজে। দর্শক চাহিদাটাও তাই জানেন ভারত অধিনায়ক, ‘হ্যাঁ, এটা নিয়ে মাতামাতি হতে দেখে তো ভালোই লাগছে। প্রথম তিন চার দিনের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে শুনলাম। এটা অবশ্যই দারুণ একটা ব্যাপার।’

    কোহলির মতে, দিবারাত্রির টেস্টের সঙ্গে প্রথাগত টেস্টের সমন্বয় করতে আগে থেকে পরিকল্পনা করা জরুরি, ‘আমার মনে হয় রাহুল (দ্রাবিড়) ভাই যেটা বলেছেন, আপনার টেস্ট ক্যালেন্ডারে সবকিছু আগে থেকে ঠিক করে রাখতে হবে। মানুষ যাতে এটা নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারে। মানুষ যদি সব টেস্টের সময় আগে থেকে জানে তাহলে সেভাবে নিজের কাজ গুছিয়ে নিতে পারবে।’

    গত বছর অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকেও দিবারাত্রির টেস্ট খেলার প্রস্তাব পেয়েছিল ভারত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রস্তাব পাওয়ায় সেটা মেনে নেয়নি ভারত। কোহলি আজ সেটি ব্যাখ্যা করলেন, ‘আমরা অবশ্যই গোলাপী বলের অভিজ্ঞতা নিতে চেয়েছিলাম। এটা হতেই হতো। কিন্তু বড় একটা সফরে হঠাৎ করে এটা বললে তো হবে না। যখন আমাদের গোলাপী বলে খেলার অভিজ্ঞতাই নেই। আমরা গোলাপী বলে কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচও খেলিনি। আগে আমাদের নিজেদের কন্ডিশনে এই বল কীরকম আচরণ করে সেটা দেখতে হতো। আমাদের একটা প্রস্তুতির ব্যাপার ছিল। যখন আমরা এটার সঙ্গে অভ্যস্ত হব, তখন কোথাও খেলতে বাধা নেই।’

    কোহলি নিজেদের সুবিধা অবশ্যই দেখবেন, তবে বাস্তবতা হচ্ছে বিসিসিআইও বিসিবিকে শেষ মুহূর্তেই প্রস্তাব দিয়েছে। ভারত ছাড়ার আগের দিন চূড়ান্ত হয়েছে, কলকাতায় গোলাপী বলের টেস্ট হচ্ছে। বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তে প্রস্তাবটা মেনে নিয়েছে। সৌরভের অনুরোধে কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই রাজি হয়ে যাওয়ার পরিণতিটা কী হবে, সেটা কালই জানা যাবে।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন