• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    লাল ম্যানচেস্টারে নীল সিটি

    ফুলটাইম
    ম্যানচেস্টার সিটি ১-২ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড


    ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে কী করল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড? খুব সম্ভবত নিজেদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ লিভারপুলকে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার পথে আরেকটু এগিয়ে দিল। অবশ্য তাতে এই ইউনাইটেডের তেমন কিছু যায়-আসে না। এমন একটা জয়ের দরকার ছিল খোঁড়াতে থাকা ইউনাইটেডের। পেপ গার্দিওলা ডাগ আউটে পুরোটা সময় কাটালেন অসহায়ের মতো। সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়েছে তারই।  লিগে আরও একটি হার। চ্যাম্পিয়ন সিটি, অপ্রতিরোধ্য সিটি- এই বিশেষণগুলো আর এই দলের জন্য বোধ হয় খাটছে না। লিভারপুলের চেয়ে এরই মধ্যে ১৪ পয়েন্টে  পিছিয়ে পড়ে লিগ শিরোপা এখন অনেক দূরের পথ গার্দিওলার জন্য।

    ছোট দলগুলোর বিপক্ষে যেমন তেমন, বড় দল পেলেই এবার নইজেদের অন্যরুপ দেখিয়েছে ইউনাইটেড।   ইতিহাদেও সেই ধারা ধরে দারুণ শুরু করেছিল ওলে গানার সোলশারের দল। ম্যাচের আগে ভাবা হচ্ছিল বেশি ব্যস্ত থাকবেন ডেভিড ডি গিয়া। ঘটলো বিপরীতটা। এডারসনকে একের পর এক দারুণ সব সেভ করতে বাধ্য করলেন ড্যানিয়েল জেমস আর জেসি লিনগার্ডরা। জেমসের বক্সের বাইরে থেকে করা শতে অবশ্য দিক-নিশানা ঠিক ছিল না, কিন্তু তবে লিনগার্ডের কোনাকুনি নিচু শটে দারুণ সেভ করতে হলো এডারসনকে।

    বল পায়ে সিটি যতখানি কার্যকর তার চেয়ে দ্বিগুণ কার্যকরী হলো সোলশারের দলের কাউন্টার অ্যাটাক। সাহসী শুরুর ফল পেতে তাই আর রেফারির সিদ্ধান্ত বাধা হয়ে দাঁড়ালো না ইউনাইটেডের। র‍্যাশফোর্ড আরও একবার সিটির বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। যদিও ওই কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে গোল পেতেন না হয়ত। এর আগেই বের্নার্দো সিলভার ট্যাকেলে পড়ে গেলেন র‍্যাশফোর্ড। রেফারির কাছে অবশ্য পেনাল্টি হয়নি সিলভার ট্যাকেলটি।



    রেফারিকে মত বদলাতে হয়েছিল কিছুক্ষণ বাদেই। ভিএয়ারের সিদ্ধান্তে পেনাল্টিই দিতে হলো রেফারিকে। ২৩ মিনিটে স্পটকিক থেকে এডারসনকে আর কোনো সুযোগ না দিয়েই র‍্যাশফোর্ড এগিয়ে নিলেন ইউনাইটেডকে। চমক সেখানেই থামেনি। ৬ মিনিট পর অ্যান্থনি মার্সিয়াল বক্সের ভেতর থেকে কাছের পোস্টে আরেকবার ভড়কে দিলেন এডারসনকে। এবার আসলে ভড়কে গেল পুরো ইতিহাদই। ম্যাচের আধঘন্টাও পেরোয়নি, ম্যানচেস্টার সিটি পিছিয়ে পড়ল দুই গোলে।

    সিটি অবশ্য এর পর ফেরার সুযোগ পেল। কিন্তু ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়া সার্জিও আগুয়েরোর অভাব তাতে দ্বিগুণ অনুভব করালেন গ্যাব্রিয়েল হেসুস। বক্সের ভেতর ভালো জায়গায় বল পেয়েও হেড করলেন বাইরে দিয়ে। সিটি দুষতে পারে নিজেদের ভাগ্যকেও। ভিএআরে পাওয়া ইউনাইটেডের পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। বিতর্ক হতে পারে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সিটির একটি পেনাল্টি না পাওয়া নিয়েও। বাইলাইন থেকে কাইল ওয়াকারের কাটব্যাক করা বল হাতে লেগেছিল ফ্রেডের। রেফারির বা ভিএআর কেউই অবশ্য সিটির ডাকে সাড়া দেয়নি।

    ফ্রেডের পক্ষে অবশ্য যুক্তি থাকতে পারে। স্লাইড মেরে নামার সময় হাত আর কোথায় গুঁজতে পারতেন তিনি! আর সিটির যুক্তিও অকাট্য, শরীর থেকে হাতের দূরত্ব ওর চেয়ে কম হলেও তো পেনাল্টি দেওয়ার নিয়ম আছে। তর্ক-বিতর্ক বিরতির সময় ডার্বির উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিল দ্বিগুণ।


    উত্তেজনা দ্বিতীয়ার্ধে আরেক দফা বেড়েছিল। কর্নার নিতে গিয়ে দর্শকের ছোড়া ঢিল খেয়ে ফেরত এসেছিলেন ফ্রেড। তখন কেভিন ডি ব্রুইন সমর্থকদের ঠান্ডা করেছেন। অবশ্য এর আগেই দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই আরও খোলসবন্দী হয়ে ছিল ইউনাটেড। সিটি সবশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ইউনাইটেডের আক্রমণের ওপর। লিন্ডেলফ, ফ্রেডরা রক্ষণে দ্বিগুণ মনোযোগী হয়ে ডেভিড ডি গিয়া পর্যন্ত পৌঁছাতে দিচ্ছিলেন না সিটির আক্রমণ। এর ভেতর রদ্রি আগের মতো প্রায় আরেকটি গোল করে বসেছিলেন। বক্সের বাইরে থেকে করা রদ্রির শট তখন ঠেকিয়ে দিয়েছেন ডি গিয়া।

    দ্বিতীয়ার্ধে সময়ের সঙ্গেই স্পষ্ট হয়েছে ইউনাইটেডের লক্ষ্য। ম্যাচের মাত্র ৫৩ মিনিটেই সময় নষ্ট করার দায়ে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন ডি গিয়া। তবে কাউন্টার অ্যাটাকেও সিটিকে মাঝে মধ্যে সতর্ক করে রেখে সামাল দিচ্ছিল ইউনাইটেড। এর ভেতর জন স্টোনস ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে বাধ্য হয়েই নিকোলাস অটামেন্ডিকে মাঠে নামাতে হয় গার্দিওলার।

    সেই বদলিটা কাজেই দিয়েছিল। দুই বদলিই আসলে সিটির ভাগ্য পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে পারতেন দুই মিনিটের ব্যবধানে। ৮৬ মিনিতে মাহেরেজের কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে গোল করে সিটিকে ম্যাচে ফেরান অটামেন্ডি। তাতে ইতিহাদের গুমোট পরিস্থিতি মুহুর্তেই বদলে গিয়েছিল। পরের মিনিটে মাহরেজ সমতাসূচক গোলটি করেও ফেলেছিলেন প্রায়। কিন্তু এবারও বাধা হয়ে দাঁড়ালেন ডি গিয়া। দারুণ এক সেভে সিটিকে গোলবঞ্চিত করলেন তিনি।

    যোগ করা সময়ের শেষদিকে জটলার ভেতর প্রাণ উজাড় করে ডিফেন্স করে গেছে ইউনাইটেড। শেষ পর্যন্ত ইউনাইটেডের কাজে দিয়েছে সবকিছু। টটেনহামের পর সিটিকেও হারিয়ে ইউনাইটেড উঠে গেছে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে। দলের জয়ে দিনশেষে হাসি ফুটেছে গ্যালারিতে থাকা স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনেরও। দারুণ দুই জয়ে চাপে থাকা সোলশার পেয়েছেন হাপ ছাড়ার সুযোগ। উলটো অবস্থা গার্দিওলার। এখান থেকে লিগ শিরোপা ধরে রাখতে নাটকীয় কিছুর অপেক্ষা করতে হবে সিটিকে। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন