• " />

     

    বিশ্বসেরা কার্লসেনকে হারিয়ে চমক ১৬ বছর বয়সী ইরানি তরুণের

    ২০১৩ সাল থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের তকমা নিজের করে রেখেছেন নরওয়ের গ্র্যান্ডমাস্টার ম্যাগনাস কার্লসেন। এ বছরই টানা ১১১ টি ক্লাসিক্যাল ম্যাচে জয়ের বিশ্বরেকর্ড করেছিলেন তিনি। তবে এবার ১৬ বছর বয়সী এক ইরানিয়ান তরুণের কাছে তিন মিনিটের এক ম্যাচে হেরে গেছেন কার্লসেন। ইরানের আলিরেজা ফিরোজার কাছে অনলাইন নকআউট প্রতিযোগিতা ব্যান্টার ব্লিটজ কাপের ফাইনালে ৮.৫-৭.৫ ব্যবধানে হেরেছেন নরওয়েজিয়ান দাবাড়ু কার্লসেন, সঙ্গে ১৪ হাজার ডলারের অর্থ পুরস্কারও হারিয়েছেন।

    ব্যান্টার ব্লিটজ কাপ অন্য দাবা প্রতিযোগিতাগুলো থেকে কিছুটা ভিন্ন। এখানে শুধু দাবার গুটি চাললেই হয় না, সঙ্গে নিজের এবং প্রতিপক্ষের চালের ব্যাপারে মন্তব্যও করতে হয়। আর ম্যাচগুলোর দৈর্ঘ্য মোটে ৩ মিনিট। প্রায় সাত মাসে সারা বিশ্বের ১২৮ জন দাবাড়ু এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন, যার ফাইনালে একে অন্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন কার্লসেন এবং আলিরেজা।

    বিশ্ব দাবার রাঙ্কিংয়ে দুজনের মাঝে পার্থক্যটা বেশ বড়সড়। রাঙ্কিংয়ের শীর্ষে কার্লসেন আর আলিরেজার অবস্থান ২১ নম্বরে। তবে গত কয়েক মাস ধরেই এই দুজনের মাঝে একটি অদ্ভুত দ্বৈরথ তৈরি হচ্ছিল। শেষ ডিসেম্বরে মস্কো ওয়ার্ল্ড ব্লিটজে অল্পের জন্য কার্লসেনের কাছে হেরে রানার আপ হয়েছিলেন আলিরেজা। তাই ব্যান্টার ব্লিটজে ফাইনালের আগে  কার্লসেন ইরানিয়ান এই তরুণকে এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ম্যাচ হারের পর তাই আলিরেজাকে কৃতিত্ব দিতে মোটেও কার্পণ্য করেননি কার্লসেন, “দারুণ ম্যাচ, আলিরেজা! আমি খুবই খারাপ খেলেছি। তবে সে পূর্ণ কৃতিত্বের দাবিদার। ম্যাচ জিততে আমাকে আরও ভালো খেলতে হত। তবে সে দারুণ শক্তিশালী।”

    কার্লসেনকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন আলিরেজা, “ম্যাচ ৫০-৫০ ছিল। ম্যাচ কেউ ফেবারিট ছিল না। ম্যাচ জিততে একটু ভাগ্যের সহায়তাও প্রয়োজন ছিল।”

    দাবার দুনিয়ার নতুন তারকা আলিরেজার জন্ম ইরানে। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক দাবা সংস্থা ফিদে-র পতাকা নিয়ে খেলেন তিনি। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের প্রতি একাত্মতা জানিয়ে ইরান নিজ দেশের অ্যাথলেটদের ইজরায়েলি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নিরুৎসাহিত করে। তবে আলিরেজার প্রায়শই ইজরায়েলি প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে খেলতে হয়, আর এর ফলে তার ওপর ইরানি কর্তৃপক্ষ যাতে কোনও ধরনের চাপ সৃষ্টি না করতে পারে সেজন্য এরই মধ্যে ফ্রান্সে বসবাস শুরু করেছেন তিনি, আর ইরানের পতাকা নিয়ে খেলাও বন্ধ করে দিয়েছেন।

    কার্লসেন এবং আলিরেজার আরেকটি মহাকাব্যিক দ্বৈরথ দেখতে দাবার ভক্তদের খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। সোমবার ‘ম্যাগনাস কার্লসেন ইনভাইটেশনাল’ নামের আরেকটি প্রতিযোগিতায় দেখা হচ্ছে তাদের। আড়াই লাখ ডলার প্রাইজমানির সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন বিশ্বসেরা ৮ দাবাড়ু।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন