• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    ৮ গোলের ম্যাচে চেলসিকে ঝুলিয়ে দিয়ে লিভারপুলের শিরোপা উদযাপন

    অ্যানফিল্ডের আকাশে আতশবাজি ফুটতে শুরু করে দিয়েছে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই। লিভারপুলও এগিয়ে ছিল ৪-১ ব্যবধানে। ৬১ মিনিটে ট্যামি আব্রাহাম এক গোল শোধ করলেন, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ ৪-৩ এ ব্যবধান নামিয়ে আনলেন ৭৩ মিনিটে। সাবেক শিষ্যের গোল দেখে ডাগ আউটে ইউর্গেন ক্লপের মুখে মুচকি হাসি। ম্যাচের প্রতিচ্ছবি ওই মুহুর্ত। চেলসি আর বাকি সময়ে ম্যাচের নাগাল পায়নি। লিভারপুল আরও এক গোল দিয়ে ম্যাচ জিতেছে ৫-৩ ব্যবধানে। ৩০ বছর পর লিগ শিরোপা উদযাপনেও তাই হতাশার ছাপ পড়েনি লিভারপুলের।

    ফাঁকা মাঠে আতশবাজি আর পটকার শব্দ বাকিটা সময় ফাঁকা অ্যানফিল্ডেও শিহরণ জাগিয়ে গেছে। সেই শিহরণ অবশ্য চেলসির জন্য নয়। পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করতে এখনও কাজ বাকি আছে চেলসির। পয়েন্ট টেবিলের চারে এখন অবস্থান তাদের ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে। শেষ ম্যাচে উলভসের বিপক্ষে জয় পেলে পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ নিশ্চিত হবে চেলসির, জয় না পেলে তাকিয়ে থাকতে হবে ম্যান ইউনাইটেড আর লেস্টার সিটির ম্যাচের দিকে।



    অ্যানফিল্ডে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচটা লিভারপুলের শিরোপা উদযাপনে দিয়েছে বাড়তি মাত্রা। চেলসির রক্ষণের ভুলচুক প্রথমার্ধে ভালোমতোই কাজে লাগিয়েছে লিভারপুল। নাবি কেইতা ২৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে রকেটগতির শটে এগিয়ে দিয়েছিলেন লিভারপুলকে। ৩৮ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে সরাসরি বল জালে জড়িয়েছেন ট্রেন্ট অ্যালেক্সান্ডার আর্নল্ড। তৃতীয় গোলটা জর্জিনিও ভেইনাল্ডামের। কর্নার থেকে বল ক্লিয়ার করতে পারেনি চেলসি, তিনিও জোরালো শটে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেছেন বিরতির আগেই। আগের দুই গোলে জায়গা থেকেই নড়তে পারেননি কেপা। তৃতীয় দফায় নড়লেও বলের ধারে কাছে যাওয়ারও সুযোগ হয়নি তার।

    অলিভিয়ের জিরু বিরতির আগে এক গোল শোধ করে চেলসিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু ৫৪ মিনিটে তাও কেড়ে নিয়েছেন রবার্তো ফিরমিনো। পুরো মৌসুমে অ্যানফিল্ডে গোল করা হয়নি ব্রাজিলিয়ানের। তার নামের সঙ্গে রেকর্ডটা বেমানানই ছিল। ফিরমিনো গোল করলেন শেষ সুযোগে। আনর্ল্ড ক্রস করেছিলেন আগেভাগেই, চেলসির দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক দিয়ে মাপা ক্রসে মাথা ছুঁয়ে গোল করেন ফিরমিনো। 

    এরপর চেলসির দুই বদলি ট্যামি আব্রাহাম আর পুলিসিচ ১২ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে মায়চ জমিয়ে তুলেছিলেন। ডানদিক থেকে আসা ক্রসে অনসাইডে থেকে আব্রাহাম ব্যবধান করেছিলেন ৪-২। আর পুলিসিচ দারুণ কম্পোজারে গোল করে ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিলেন।

    শেষটা লিভারপুল করেছে চ্যাম্পিয়নদের মতোই। কাউন্টার অ্যাটাকে দ্রুত ওপরে উঠেছিল লিভারপুল। অ্যান্ড্রু রবার্টসনের ক্রস দূরের পোস্ট থেকে জোরালো শটে জালে জড়িয়ে দেন অক্সলেড চেম্বারলেইন।

    অ্যাডাম লালানার মাঠে নামার কথা ছিল। ক্লপ অবশ্য তাকে আর মাঠে নামাননি। গোটা লিভারপুলে কারও আফসোস থাকলে তারই খানিকটা থাকতে পারে। এছাড়া সবকিছুই হয়েছে লিভারপুলের মনমতো। টানা তিন মৌসুম অ্যানফিল্ডে না হারিয়েই কাটিয়ে দিলো লিভারপুল। লিভারপুল অনেক কীর্তি গড়েছে, কিন্তু এমন কিছু কখনই আগে দেখেনি তারা।

    ম্যাচশেষে জর্ডান হেন্ডারসন ট্রফি তুলেছেন কেনি ডালগ্লিশের হাত থেকে। যার অধীনে সবশেষ লিগ জিতেছিল লিভারপুল। হেন্ডারসন এদিন খেলতে পারেননি চোটের কারণে। চোট না কি তার সবকিছুই তো শিরোপা ছুঁয়ে দেখার পর নিমিষেই ভুলে যাওয়ার কথা। 






     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন