• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    কিক অফের আগে : প্রচ্ছন্ন লড়াইয়ের পর এবার ডাগ আউটে মুখোমুখি ক্লপ-ল্যাম্পার্ড

    কবে, কখন

    চেলসি-লিভারপুল

    স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ

    প্রিমিয়ার লিগ

    ২০ সেপ্টেম্বর, রাত ৯.৩০


    প্রিমিয়ার লিগে চেলসি-লিভারপুলের শেষ ম্যাচটি ছিল বিনোদনে ঠাঁসা। অ্যানফিল্ডে ৫-৩ গোলে সেই ম্যাচ জিতেছিল লিভারপুল। ততোদিনে অবশ্য লিগের হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে ফেলেছিল লিভারপুল। ওই ম্যাচের কথা মনে থাকলে চেলসি কোচ ফ্র্যাঙ্ক লাম্পার্ডের লিভারপুল বেঞ্চের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডার দৃশ্যটি নিশ্চয়ই চোখ এড়িয়ে যায়নি আপনার। সাইডলাইনে ক্লপের সঙ্গেও একচোট কথার লড়াই হয়ে গিয়েছিল ল্যাম্পার্ডের। ম্যাচের পর ল্যাম্পার্ডকে লিভারপুল কোচ ইউর্গেন ক্লপ রাগ সংবরণের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

    সেই ধারায় নতুন মৌসুম শুরুর আগেও দুই ‘পুরনো শত্রু’র কথার লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। দলবদলের বাজারে চেলসির খরচের বাহার দেখে ক্লাবটির ‘অভিজাত’ মালিকপক্ষকে খোঁচা দিয়েছিলেন ক্লপ। জবাবে ল্যাম্পার্ড ক্লপের মন্তব্যকে ‘হাস্যকর’ বলেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে কথা কাটাকাটি হয়েছে আগেই, এবার দুইজনের দেখা হবে মাঠের লড়াইয়ে। মৌসুমের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ হলেও, চেলসি-লিভারপুল ম্যাচে তাই বাড়তি উত্তেজনার অভাব হচ্ছে না।

    লিডসের বিপক্ষে সাত গোলের থ্রিলার পেরিয়ে ৩ পয়েন্ট পকেটে পুরেছে লিভারপুল। আর ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির জয়টা এসেছে অপেক্ষাকৃত সহজেই। তবে জয় পেলেও দুই দলের কোনো ভক্তেরই  প্রথম ম্যাচের  জয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার কথা নয়।

    লিডসের বিপক্ষে লিভারপুলের রক্ষণের যে হাল দেখা গেছে, তাতে চেলসির দুর্দান্ত আক্রমণভাগের বিপক্ষে তারা কতটা কুলিয়ে উঠতে পারবে সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। চেলসিও একইভাবে ব্রাইটনের বিপক্ষে জয় পেলেও তাদের খেলায় সেই খুনে মানসিকতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে এক্ষেত্রে চেলসি ম্যানেজার ল্যাম্পার্ড যুক্তি দাঁড় করাতে পারেন, তার দলের বেশিরভাগ নতুন মুখই ওই ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন। হাভার্টজ আর ভের্নার বাদে বাকিরা ছিলেন না। তবে মূল বিষয় হচ্ছে, যে নতুন মুখেরা সেই ম্যাচে ছিলেন না, তারা লিভারপুলের বিপক্ষেও ফিরছেন না। তাই কমবেশি একই দল নিয়েই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলতে হবে চেলসিকে।

    চেলসি দলবদলের বাজারে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছে, তাই লিভারপুলের বিপক্ষে মৌসুমের একেবারে শুরুর দিকে জয় পেলে সেটা তাদের খরচ নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তাদের মুখ বন্ধ করে দিতে পারে। একইভাবে লিভারপুল এই ম্যাচে জিতলে প্রথম ম্যাচের পর তাদের রক্ষণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর থেকেও রেহাই মিলতে পারে।

    দুই দলের আক্রমণভাগই তারকায় ঠাঁসা। দারুণ ফর্মে নতুন মৌসুম শুরু করেছেন মোহামেদ সালাহ। তার হ্যাটট্রিকেই লিডসের বিপক্ষে জয় এসেছে। চেলসির বিপক্ষে মানে-ফিরমিনোরাও অবদান রাখতে চাইবেন নিশ্চিতভাবেই। অপরদিকে চেলসির আক্রমণভাগের নতুন তারকারও কোচের মন জয় করতে চাইবেন। সেক্ষেত্রে লিভারপুলের নড়বড়ে রক্ষণের ফায়দা লোটার চেষ্টা করবেন ভের্নার-হাভার্টজরা। ভের্নার আগের ম্যাচে অবিরত ব্রাইটনের ডিফেন্সলাইনের পেছনে দৌড়ে গেছেন, কিন্তু বলের যোগান পাননি তেমন। লিভারপুলের রক্ষণের বিপক্ষে কাঙ্খিত সুযোগ মিললে ভের্নার কতোখানি কার্যকর হতে পারেন সেটিও দেখার বিষয়। যদিও চেলসির নতুনদের নতুন ক্লাবে মানিয়ে নেওয়ার একটি ব্যাপারও থাকছে। লিভারপুলের জয়ের সম্ভাবনাটা তাই প্রায় সবদিক দিয়েই বেশি।

    লিগে প্রথম ম্যাচ বিবেচনায় নিলে দুই দলই রক্ষণের তুলনায় আক্রমণে এগিয়ে থাকাতেই জয় পেয়েছে। সেক্ষেত্রে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে একটি আক্রমণাত্মক এবং হাই-স্কোরিং ম্যাচ দেখার আশা করা যেতেই পারে। 

    দলের খবর

    লিভারপুলের বিপক্ষে চেলসির নতুন খেলোয়াড় হাকিম জিয়েখ, থিয়াগো সিলভা, বেন চিলওয়েলরা থাকবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন ল্যাম্পার্ড। ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচে ভের্নার চোটে পড়েছেন বলে মনে হলেও অবস্থা মারাত্মক না হওয়ায় তাকে এই ম্যাচের স্কোয়াডে রেখেছে চেলসি। এদিকে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এই ম্যাচে জর্জিনহোর জায়গায় খেলতে পারেন ক্রোয়াট মিডফিল্ডার মাতেও কোভাচিচ।

    করোনামুক্ত হয়ে এই ম্যাচের স্কোয়াডে ফিরছেন লিভারপুলের নতুন মুখ কস্তাস সিমিকাস। তবে থিয়াগো আলকান্তারা এখনো দলের সঙ্গে অনুশীলন না করায় এই ম্যাচে স্কোয়াডে থাকবেন না। এছাড়া চোটের কারণে ওক্সলেড-চেম্বারলেইনকেও পাচ্ছে না। তবে চোট থেকে ফিরে এই ম্যাচের স্কোয়াডে থাকতে পারেন ফরোয়ার্ড জেরদান শাকিরি। 

    সম্ভাব্য একাদশ

    চেলসি

    কেপা, জেমস, রুডিগার, জুমা, আজপিলিকুয়েতা, কান্তে, কোভাচিচ, হাডসন-অডয়, হাভার্টজ, মাউন্ট, ভের্নার

    লিভারপুল

    অ্যালিসন, অ্যালেক্সান্ডার-আর্নল্ড, গোমেজ, ভ্যান ডাইক, রবার্টসন, হেন্ডারসন, ফাবিনহো, কেইতা, সালাহ, ফিরমিনো, মানে

    প্রেডিকশন

    চেলসি ২-২ লিভারপুল

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন