• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    স্টামফোর্ড ব্রিজে 'লিভারপুল-দুঃস্বপ্ন' দেখল দশ জনের চেলসি

      ফুলটাইম 

    চেলসি ০: ২ লিভারপুল


    শিরোপা ধরে রাখার মিশনে লিভারপুলের প্রথম বড় পরীক্ষা ছিল আজ। স্টামফোর্ড ব্রিজ ঠিক দুর্গ না হোক, সহজ কোনো জায়গা নয় মোটেই। আর দলবদলে প্রচুর খরচের পর ফ্রাংক ল্যাম্পার্ডেরও আজ প্রথম কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জে লিভারপুল সফল, আর চেলসি ব্যররথ। আর ল্যাম্পার্ড আরেকবার বুঝলেন, দলবদলে অনেক খরচের পরও রক্ষণ আর কিপিং নিয়ে এখনো অনেক মাথাব্যথা আছে তার।

    প্রথমার্ধের অনেকটা সময় জুড়ে ম্যাচ ছিল উত্তাপহীন। ভের্নার পেয়েছিলেন হাফ চান্স, সুযোগ পেয়েছিলেন সালাহও। কিন্তু ভের্নারের শট একটুর জন্য চলে যায় পোস্টের পাশ দিয়ে। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি সালাহও। তবে প্রথমার্ধের শেষেই ঘটনাটা ঘটে, বদলে যায় পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য।

    প্রথমার্ধে দারুণ খেলা লিভারপুল অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসন লম্বা পাস বাড়িয়েছিলেন সাদিও মানের দিকে। মানে বলটা প্রায় ধরেই ফেলেছিলেন, তখনই চেলসির আন্দ্রেস ক্রিশ্চিয়েনসেন এসে পেছন থেকে ফাউল করেন তাকে। কেপাও এগিয়ে এসেছিলেন তখন অনেকটা, মানে হারান গোল করার পরিষ্কার সুযোগ। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন, পরে ভিডিও রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্তটা বদলালেন। ক্রিশ্চিয়েনসেন পেলেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম লাল কার্ড, চেলসি হয়ে গেল দশজনের দল। প্রথমার্ধে গোল হলো না বটে, কিন্তু ম্যাচ বদলে গেল অনেকখানি। তবে সেটা উদযাপন করলেন না ক্লপ। রেফারি লাল কার্ড দেখানোর পর যখন বেঞ্চের খেলোয়াড়েরা তালি দিয়ে সেটি উদযাপন করছিলেন, তখন ক্লপকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমরা লাল কার্ড উদযাপন করি না।’

    দ্বিতীয়ার্ধে সেই উদযাপন করার অবশ্য অনেক সুযোগ পেয়ে গেছে লিভারপুল। ম্যাচের পরিস্থিতি খানিকটা বদলে দিয়েছেন ক্লপও, হেন্ডারসনের জায়গায় নামিয়েছেন বায়ার্ন থেকে আসা থিয়াগোকে। প্রথম গোলে কিছুটা অবদান ছিল তারও। থিয়াগোর কাছ থেকে ঘুরে সালাহ-ফিরমিনোর ওয়ান টু এর পর ফিরমিনোর ক্রস, বক্সে সেটা খুঁজে নেয় মানেকে। দারুণ হেডে বল জড়িয়ে দেন জালে, স্বপ্নের মতো এক গোলে চেলসির প্রতিরোধ ভাঙে লিভারপুল।

    ৫০ মিনিটের এই গোল যদি লিভারপুলের স্বপ্ন হয়, তাহলে ৫৪ মিনিটের এই গোলটা চেলসির দুঃস্বপ্ন। এবার ভিলেন কে অনুমান করতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। কেপার ওপর এখনো আস্থা রেখেছেন ল্যাম্পার্ড, তবে আজকের ম্যাচের পর সিরিয়াসলি নতুন কিপার খোঁজার কথা ভাবতে পারেন চেলসি কোচ। কিছুটা প্রেসিংয়ের পর বল পেয়েছিলেন কেপা, পাসটা সামনের কাউকে অনায়াসেই দিতে পারতেন। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে সেটা মেরে দিলেন প্রেসিং করতে আসা মানের গায়ে। সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি মানে, পেয়ে গেলেন নিজের আর দলের দ্বিতীয় গোল।

    ম্যাচের অনেকটা উত্তেজনা ওখানেই শেষ। দশজনের দল চেলসি, দুই গোল পিছিয়ে তখন। লিভারপুলের সাথে আর কতটাই বা কী করতে পারবে? তবে ভের্নার হাল ছাড়েননি, দারুণ একটা দৌড়ে বক্সের ভেতর পেনাল্টি আদায় করে নিয়েছিলেন। ফাউলটা করেছিলেন থিয়াগোই। জর্জিনহো চেলসির হয়ে নিয়মিত পেনাল্টি নেন, কিন্তু আজ গড়বড় করে ফেললেন। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে অ্যালিসন ঠেকিয়ে দেন সেটা। ফেরার একটু আশা যদি থেকেও থাকে চেলসির, সেটাও শেষ হয়ে গেল। চেলসির হয়ে নয়টি পেনাল্টিতে গোল করার পর এই প্রথম মিস করলেন জর্জিনহো, আর লিভারপুলের হয়ে প্রথম পেনাল্টি ঠেকালেন অ্যালিসন। শেষ পর্যন্ত ওই দুই গোলেই শেষ হয়ে গেল ম্যাচ।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন