• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    প্রিমিয়ার লিগে এত গোল হচ্ছে কেন?

    গোল উৎসবে পরিণত হয়েছে এবারের প্রিমিয়ার লিগ। মৌসুমের প্রথম ৩৮ ম্যাচে ১৪৪ গোল হয়েছে। গত মৌসুমের চেয়ে যা ৪০ গোল বেশি। প্রতি ম্যাচে গড়ে ৩.৭৯ গোল হচ্ছে, ১৯৩০-৩১ লিগ মৌসুমের পর এটাই সর্বোচ্চ, সেবার ম্যাচে গড়ে ৩.৯৫ গোল হয়েছিল। ৩৮ ম্যাচের মাঝে ১১ টিতে (২৯ ভাগ ম্যাচ) পাঁচ বা তার বেশি গোল হয়েছে। ১৯৬০-৬১ মৌসুমের পর শতকরা ২৯ ভাগের বেশি ম্যাচে পাঁচ বা তার বেশি গোল হয়নি। তাই প্রশ্ন উঠছে প্রিমিয়ার লিগে এবার গোলবন্যার পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে কী?


    বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এভারটন ডিফেন্ডার মাইকেল কিন এবং বিবিসি রেডিও ৫-এর সাংবাদিক ররি স্মিথ মনে করেন, প্রিমিয়ার লিগে মাঠে দর্শকদের অনুপস্থিতি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিনের মতে, “অনেকগুলো কারণে এমনটা হতে পারে। খেলোয়াড়রা আগের মতো অত বেশি অনুশীলন করছেন, দর্শকরা মাঠে নেই। এই বিষয়গুলো হয়ত পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। গ্যালারির চাপ না থাকায় স্ট্রাইকাররা হয়ত গোল করতে নতুন অনেক কিছু চেষ্টা করে দেখতে পারছে। তবে ডিফেন্ডার হিসেবে আমরা ক্লিন শিটের বিষয়টি ভুলে যায়নি, আর এমনও না যে আমরা ক্লিন শিট রাখতে চাই না।”

    আর ররি স্মিথের মতে দর্শকরা মাঠে না থাকায় একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, “মনে হচ্ছে অদ্ভুত একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

    বিবিসি উপস্থাপক মার্ক চ্যাপম্যান ফুটবলের বাইরে অন্য খেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানতে পেরেছেন, “আমি এই গ্রীষ্মে ক্রিকেটার এবং অন্যান্য অ্যাথলেটদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি, দর্শক না থাকায় মনযোগ ঠিক থাকছে এবং ভিন্ন কিছু করে দেখানোর স্বাধীনতা বাড়ছে।”


    আর মাঠে দর্শক থাকলে তাদের থেকে খেলোয়াড়দের মাঝে অ্যাড্রেনালিন এসে পড়ে। কিন্তু এখন সেটা না হওয়াতে খেলোয়াড়রা অনেক ঠাণ্ডা মাথায় খেলতে পারছেন বলে মনে করেন জার্মেইন জেনাস এওবং প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড গোলদাতা অ্যালান শিয়ারার।

    পর্তুগিজ ক্লাব ব্রাগার কোচ কার্লোস কারভালহাল মনে করেন, “বড় ক্লাবগুলোর সমর্থকরা গ্যালারি থেকে প্রতিপক্ষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। প্রতিপক্ষ বেশি চাপে থাকে। তাদের ছাড়া মাঠে ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জন খেলে। সবকিছু সমান সমান থাকে।”

    ক্রীড়া মনস্তত্ত্ববিদ মাইকেল কলফিল্ডও কারভালহালের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন, “ফুটবল খেলাটা ভয় আর হুমকির ওপর নির্ভর করে চলে। স্টেডিয়ামে দর্শক না থাকায় সেই বিষয়টি চলে গেছে। আর শেফিল্ড অথবা ক্রিস্টাল প্যালেসের মতো দলগুলোকে তাদের সমর্থকরা চাঙ্গা কোর্ট, ফ্রেডি মার্কুরি শ্রোতাবিহীন কনসার্ট করলে যেমন অনুভব করত তারাও দর্শকদের না গ্যালারিতে পেয়ে তেমনটাই অনুভব করছে।”

    তবে সাবেক স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন এক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করছেন। তার মতে বাজে ডিফেন্ডিং এবং গোলকিপিংয়ের কারণেই এবার গোলের ফোয়ারা ছুটেছে, “প্রিমিয়ার লিগে ডিফেন্ডিং এবং গোলকিপিংয়ের স্ট্যান্ডার্ড অনেক বাজে পর্যায়ে রয়েছে। দর্শক নেই, তাই বেশি গোল হচ্ছে , আমি এটার সাথে একমত নই। নাটকীয়ভাবে ডিফেন্ডিংয়ের পতন হয়েছে। এক্ষেত্রে একটা যুক্তি দাড় করানো যায়, যদি লিভারপুল-অ্যাস্টন ভিলা ম্যাচে দর্শক থাকত, আদ্রিয়ানের সেই ভুলের পর লিভারপুলের অবস্থা কি আরও খারাপ হত না?”

    যদিও প্রিমিয়ার লিগের এই চিত্র কিন্তু লা লিগায় দেখা যাচ্ছে না। স্পেনেও এখনো দর্শকরা গ্যালারিতে নেই। এছাড়া অন্যান্য লিগগুলোতে সীমিত পর্যায়ে দর্শকরা মাঠে বসে খেলা উপভোগ করতে পারছেন। তবে প্রিমিয়ার লিগ বাদে অন্য কোথাও গোলের এমন বন্যা দেখা যায়নি। তাই দর্শক মাঠে নেই বলেই গোল বেশি হচ্ছে না, এই কথাটা ঠিক হলফ করে বলা যায় না।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন