• বিশ্বকাপ বাছাই
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    কিক অফের আগে : 'অজানা' ইকুয়েডর দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু মেসির আর্জেন্টিনার

    কবে, কখন
    আর্জেন্টিনা-ইকুয়েডর
    বিশ্বকাপ বাছাই
    লা বোম্বোনেরা
    ৯ অক্টোবর, সকাল ৬.৩০


    তিনবছর আগে ইকুয়েডেরের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। খাঁদের কিনারা থেকে সেদিন আর্জেন্টিনাকে টেনে তুলেছিলেন লিওনেল মেসি। তার হ্যাটট্রিকে ইকুয়েডরের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও পরে জয় নিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। রাশিয়া বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনার জন্য ভালো যায়নি। তবে এরপর থেকে লিওনেল স্কালোনির অধীনে ধীরে ধীরে গুছিয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তুলনামূলকভাবে তার রেকর্ডও মন্দ নয়। গত দুই বছরে তার অধীনে ২২ ম্যাচে আর্জেন্টিনা পেয়েছে ১৩ জয়, ৪ হার আর ৫ ড্র। এবার স্কালোনির নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সেই ইকুয়েডর।

    প্রথম ম্যাচ বলে এবার কোনো সমীকরণ নেই। দুই দলই শেষবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে প্রায় এক বছর আগে।  দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাই শুরু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল মার্চ থেকেই। তবে করোনাভাইরাসের কারণে সেটা পেছাতে পেছাতে অবশেষে মাঠে নামার সুযোগ হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর।

    জাতীয় দলের হয়ে খেলার এই বিরতিটা বোধ হয় প্রয়োজন ছিল মেসির জন্যও। গেল কয়েক মাসে তার ওপর দিয়ে ঝড়-ঝাপটা কম যায়নি। বার্সেলোনা ছাড়তে চেয়ে তো একরকম পুরো বিশ্বটাই নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। নিজের ইচ্ছা আর পূরণ করতে পারেননি মেসি। তবে গুমোট ভাবটা নিশ্চয়ই এখনও কাটেনি? সব কিছু ফেলে তাই ক্লাব নয় জাতীয় দলই এখন মেসির স্বস্তির ঠিকানা। অনুশীলনে রদ্রিগো ডি পল, পাউলো দিবালাদের সঙ্গে মেসির হাস্যোজ্বল একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ নজর কেড়েছে। গত কয়েক মাসে মেসির মুখে এমন চওড়া হাসির দেখা মেলেনি। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা কি এখন মেসির জন্য বিষণ্ণতা ফাঁকি দেওয়ার নতুন উপায়? এতোদিন তো ঘটে আসছিল বর বিপরীতটাই। স্বস্তির ঠিকানায় মেসি আসলে কতোখানি আলো ছড়াতে পারেন সেটাই এখন এই ম্যাচের বড় আলোচ্য বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়াচ্ছে।


    ইকুয়েডর কোচ গুস্তাভো আলফ্রেদোর জন্য কাজটা অবশ্য আরও কঠিন। বোকা জুনিয়র্সের কোচের পদ থেকে অব্যাহতি পেয়ে এ বছরের শুরুর দিকে ইকুয়েডরের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন। সেই বোকার মাঠে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে আলফ্রেদোর ইকুয়েডর অধ্যায়। গত দুই বছর ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকা ইকুয়েডর গুস্তাভোর অধীনে কেমন করবে, সে প্রশ্নের জবাব অনুমান করারও উপায় নেই তাই।

    স্কালোনির আর্জেন্টিনার ধাঁচ অবশ্য জানাই। রক্ষণের দুর্বলতা ঢাকতে আক্রমণ নির্ভর ফুটবলই স্কালোনির ভরসা। তবে একজন জাত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের অভাব গত দুই বছর ধরে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন স্কালোনি। আপাতত সে সমস্যার কোনো সমাধানও নেই তার হাতে। আগের মতো রক্ষণ তাই এখনও আর্জেন্টিনার বড় সমস্যা। এই দুর্বলতা মেসিরা কতোখানি সামাল দিতে পারেন সেটার ওপরই নির্ভর করবে আর্জেন্টিনার ভাগ্য।

    রক্ষণে স্কালোনির হাতে বাজিয়ে দেখার মতো যথেষ্ট মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ও নেই। নিকোলাস টালিয়াফিকর লেফটব্যাক পজিশনটাই যা একটু ভরসা যোগাতে পারে। সেন্টারব্যাক নিকোলাস অটামেন্ডি সেরা সময় পেছনে ফেলে এসেছেন। ম্যান সিটি ছেড়ে বেনফিকায় যোগ দিয়ে প্রথম ম্যাচেই গড়বড় পাকিয়ে গোলও হজম করেছেন। অবশ্য অটামেন্ডিকে একাদশে রাখা ছাড়া উপায়ও নেই স্কালোনির সামনে। মার্কোস রোহো চোটে পড়েছেন। দলে অটামেন্ডির চেয়ে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারও আর নেই। আপাতত ইকুয়েডর আর এর চারদিন পর বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে রক্ষণের সমস্যা হয়ত কাটিয়ে উঠবে আর্জেন্টিনা। তবে সেটা ভবিষ্যতের জন যথেষ্ট কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

    দলের খবর
    প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনা দলে ডাক পাওয়া এমিলানো মার্টিনেজের অভিষেক হয়ে যেতে পারে গোলবারের নিচে। হুয়ান মুসো চোটের কারণে বাদ পড়েছেন। বাকি দুই গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আর্মানি বা স্টিভেন আন্দ্রাদা খেলেন আর্জেন্টিনার দুই বিখ্যাত ক্লাব রিভার প্লেট আর বোকা জুনিয়র্সে। তবে তাদের কেউই ভরসার পাত্র নন। অন্যদিকে মার্টিনেজ আর্সেনালের হয়ে গত মৌসুমে দুর্দান্ত খেলে এখন অ্যাস্টন ভিলাতেই সেই ফর্ম টেনে এনেছেন। আর্জেন্টিনার গোলবারের নিচে মার্টিনেজ না দাঁড়ালে সেটাই বরং হবে চমক।

    চোটের কারণে জিওভানি লো সেলসো শেষ মুহুর্তে বাদ পড়েছেন দল থেকে। একই কারণে সার্জিও আগুয়েরো দলে ডাকই পাননি। আর্জেন্টিনার সবশেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে মেসির সঙ্গে তিনিও গোল করেছিলেন। আনহেল ডি মারিয়াকেও ডাকেননি স্কালোনি। মিডফিল্ডে তাই একটি জায়গা নিয়ে লড়াইটা হবে মার্কোস আকুনিয়া আর পাউলো দিবালার ভেতর। দিবালা এই মৌসুমে এখনও কোনো ম্যাচ খেলেননি, আর রক্ষণের দিক দিয়ে শক্তিশালী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অবশ্য আকুনিয়ারই দিবালার চেয়ে এগিয়ে থাকার কথা। মেসির সঙ্গে আক্রমণ ভাগে ইন্টারের লাউতারো মার্টিনেজ থাকবেন সেটা একরকম নিশ্চিত, তাদের সঙ্গে থাকতে পারেন লুকাস ওকাম্পোস।

    ইকুয়েডরের ৩০ জনের স্কোয়াডে চোটের সমস্যা নেই তেমন। আর্জেন্টিনার মূল চ্যালেঞ্জ হবে আসলে ইকুয়েডেররের দুই ফরোয়ার্ডকে আটকানো। সাবেক ওয়েস্টহ্যাম ফরোয়ার্ড এনার ভ্যালেন্সিয়া আর রোমারিও ইবারা দুইজনই অভিজ্ঞ। রক্ষণের যে কোনো ভুলের শাস্তিটা ভালোভাবেই বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে তাদের।

    সম্ভাব্য একাদশ
    আর্জেন্টিনা

    এমিলানো মার্টিনেজ, মন্তিয়েল, লুকাস মার্টিনেজ, ওটামেন্ডি, টালিয়াফিকো, ডি পল, পারেদেস, আকুনিয়া, মেসি, লাউতারো, ওকাম্পোস

    ইকুয়েডর
    ডমিঙ্গেজ, প্রেসিয়াদো, আরেগিয়া, তোরেস, এস্তুপিনান, মেনা, মেন্ডেজ, ফ্রাঙ্কো, রোমারিও ইবারা, ভ্যালেন্সিয়া, রেনাট ইবারা

    হেড টু হেড
    ৩৫ দেখায় আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০ বার। ১০ ম্যাচ হয়েছে ড্র। আর ইকুয়েডর জিতেছে মাত্র ৫ বার। সবশেষ ২০১৯ এর অক্টোবরেই মুখোমুখি হয়েছিল দুইদল। সেবার ইকুয়েডরকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা।

    প্রেডিকশন
    আর্জেন্টিনা ৩-১ ইকুয়েডর

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন