• বিশ্বকাপ বাছাই
  • " />

     

    কিক অফের আগে : বৈরি বলিভিয়ায় আর্জেন্টিনার আশঙ্কা

    কবে, কখন
    বলিভিয়া-আর্জেন্টিনা
    বিশ্বকাপ বাছাই
    ১৪ অক্টোবর, রাত ২.০০
    এস্তাদিও হের্নান্দো সাইলেস,  লা পাজ


    আলেহান্দ্রো গোমেজদের হাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার, টিম বাসের গন্তব্য লা পাজের হোটেল। গোমেজের মতো আরও অনেক খেলোয়াড়কেই বলিভিয়ার এয়ারপোর্টে নেমে টিম হোটেলে যাওয়ার আগেই সিলিন্ডারের ব্যবহার শুরু করতে হয়েছে। বলিভিয়ায় খেলতে যাওয়া মানেই ওই এক অজানা ভয়।  সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজ। ওই উচ্চতায় শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াই কঠিন।  জয় তো দূরে থাক নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবলটাও খেলতে পারে না অনেক দল। বলিভিয়া প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্জেন্টিনার জন্য ভয়ঙ্কর নয়। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের ১০ দেশের ভেতর ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার চেয়ে পিছিয়ে তারা। সম্ভবত দল হিসেবে বলিভিয়া বাকি ৯ দেশের জন্যও ভয়ঙ্কর নয়। কিন্তু খেলাটা যদি হয় লা পাজে, সেখানে বলিভিয়াই রাজা।

    ফুটবলে ঘরের মাঠের সুবিধা যদি কেউ শতভাগ আদায় করতে পারে তাহলে সেটা বলিভিয়াই। মাঠ ফাঁকা থাক, আর দর্শকে টইটম্বুরই থাক- তাতেও বলিভিয়ার কিছু যায় আসে না। নিজ দেশের আবহাওয়ায় বলিভিয়ানরা হয়ে উঠতে পারে ভয়ঙ্কর। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বলিভিয়া কোচ সিজার ফারিয়াসও হুঙ্কার ছেড়ে রেখেছেন তাই।  আর্জেন্টিনাকে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন উচ্চতার কথা, “আর্জেন্টিনার হের্নান্দো সাইলসে খেলার আর অন্য শহরে খেলা দুটো দুই জিনিস। এমন কিছু পৃথিবীর কোথাও নেই।“

    বলিভিয়া আর্জেন্টিনার জন্য বরাবরই বৈরি। ২০০৫ সালের পর আর লা পাজের মাঠে জয়ই পায়নি আর্জেন্টিনা। ২০০৯ সালে ৬-১ গোলের ‘ঐতিহাসিক’ হার তো আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের ব্যর্থতম ফলগুলোর একটি। এরপর আরও দুইবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বলিভিয়ার মাঠে গিয়ে একবার ড্র আর সবশেষ ২০১৭ সালে ২-০ গোলে হেরে এসেছে আর্জেন্টিনা।


    সাধারণত অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে দেশগুলো ম্যাচের আগের দিন রওয়ানা হয়ে যায়। লিওনেল মেসিরা বলিভিয়ায় পৌঁছেছেন ম্যাচের দুইদিন আগে। বলিভিয়ার এই আবহাওয়ায় নিজেদের মানিয়ে নেওয়াই আর্জেন্টিনার প্রথম আর প্রধান লক্ষ্য। যদিও আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মনে করেন সেটাও খুব একটা কাজে দেবে না। এই উচ্চতাকে জয় করার কোনো সূত্রই জানা নেই স্কালোনির, “এই উচ্চতায় ফুটবল খেলার কোনো জাদুমন্ত্র নেই। এ কারণেই আমরা আগে থেকে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করেছি।”

    “বাতাসের তারতম্য একটা ব্যাপার, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এখানে বলের মুভমেন্টই আলাদা। যেহেতু তারা ঘরের মাঠে খেলছে, আমার বিশ্বাস ওরা আক্রমণ করবে আমাদের। এই উচ্চতায় ওরা এভাবেই খেলে। আমি যদি ডিফেন্ড করে যাই, আর এলোমেলোভাবে বল ক্লিয়ার করতে থাকি তাহলে আদতে কোনো লাভই হবে না।”  

    স্কালোনি দাবি করেছেন দুইদিন আগে বলিভিয়া পৌঁছে এর সুফল ভোগ করতে চান তারা। এমন নয় আর্জেন্টিনা এবারই প্রথম সতর্ক হয়ে আগেভাগে বলিভিয়া গেছে। বলিভিয়ার মাঠে খেলার আগে এমন সতর্কতা সব দলই কম-বেশি অনুসরণ করে। কিন্তু তার ফল কি আসলেও মেলে? অতীত রেকর্ড তো তেমন কিছু বলছে না।

    লা পাজের উচ্চতা বাদ দিলেও স্কালোনির সামনে চ্যালেঞ্জ আছে আরও। প্রায় এক বছর পর খেলতে নেমে শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে জয় পেলেও মন ভরাতে পারেনি আর্জেন্টিনার খেলা। লিয়ান্দ্রো পারেদেস, রদ্রিগো ডি পল, মার্কোস আকুনিয়ার মিডফিল্ড ছিল একেবারেই ছন্নছাড়া। আক্রমণভাগে লিওনেল মেসিরাও তাও বলের যোগান পাননি। বলিভিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা কোচ বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলছেন। কিন্তু সেই কাজটা করতে দলে দরকার ছিল হোল্ডিং মিডফিল্ডারের। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় আড়াই বছর পরে পেরিয়ে গেলেও মাঝমাঠে সেই ‘জাত’ মিডফিল্ডারের খোঁজটাই এখনও পাননি স্কালোনি। আর্জেন্টিনার হয়ে পারেদেসকে ওই পজিশনে খেলেন। কিন্তু আদতে তিনিও হোল্ডিং মিডফিল্ডার নন। ইকুয়েডরের বিপক্ষে বারবার পায়ে বল পেয়েও তাই পজেশন ধরে রাখার কাজটা করতে আর্জেন্টিনাকে ভুগতেই হয়েছে।

    ইকুয়েডরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে তেমন বড় কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি। বলিভিয়ার বিপক্ষে নিশ্চিতভাবেই বড় ভূমিকা রাখতে হবে ডিফেন্ডারদের। লুকাস মার্টিনেজদের মতো সম্ভাবনয়াময় তরুণ আর অটামেন্ডিদের মতো সেরা সময় পেছনে ফেলে আসা সেন্টারব্যাক জুটি সেই কাজ কতোখানি সামাল দিতে পারেন সেই প্রশ্নের জবাব অজানাই।



    দলের খবর
    স্কালোনি একাদশে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে নারাজ। ম্যাচের আগে তেমন ইঙ্গিতই করেছেন তিনি। মার্কোস আকুনিয়া অবশ্য আগের ম্যাচে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। ওই একটা জায়গাতেই পরিবর্তন দেখা যেতে পারে আর্জেন্টিনার একাদশে। পাউলো দিবালা ইকুয়েডরের পর বলিভিয়ার ম্যাচেও খেলছেন না অসুস্থ্যতার কারণে। দলের সঙ্গে ভ্রমণও করেননি তিনি। আকুনিয়ার জায়গায় দেখা মিলতে পারে এদুয়ার্দো সালভিওর।

    সম্ভাব্য একাদশ
    বলিভিয়া

    লাম্পে, ভালভার্দে, জেসুস সাগ্রেদো, হোসে সাগ্রেদো, কারাসকো, ওয়ায়ার, আরাবে, মেনাচো, মিরান্দা, বুস্তামানতে, সালদিয়াস

    আর্জেন্টিনা
    ফ্রাঙ্কো আর্মানি, মন্তিয়েল, লুকাস মার্টিনেজ, ওটামেন্ডি, টালিয়াফিকো, ডি পল, পারেদেস, সালভিও, মেসি, লাউতারো, ওকাম্পোস

    হেড টু হেড
    বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে নামছে বলিভিয়া। যদিও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বলিভিয়ার অমন হারও খুব বেশি আলোচনায় নেই। কারণটা সেই উচ্চতাই। ঘরের মাঠে বলিভিয়া আর পরের মাঠে বলিভিয়ার ভেতর তো বিস্তর ফারাক!

    ইকুয়েডরের সঙ্গে জয় পেলেও ঘরের মাঠেও আর্জেন্টিনা ছিল বিবর্ণ। বলিভিয়ার বিপক্ষে শেষ ১০ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছে ৫ বার, হেরেছে দুইবার, আর বাকি তিনবার ম্যাচ হয়েছে ড্র। তিন ড্রয়ের দুইটিই অবশ্য আর্জেন্টিনার মাঠে। আর দুই হার, এক ড্র বলিভিয়াতে।

    প্রেডিকশন
    বলিভিয়া ১-১ আর্জেন্টিনা

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন