• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ভিএআর বিতর্কে রোমাঞ্চকর ড্রতে শেষ মার্সেসাইড ডার্বি

    ফুল টাইম

    এভারটন ২ - ২ লিভারপুল


    গ্যারি লিনেকার ম্যাচের পর টুইট করেছেন, 'ভিআর খেলা থেকে সব প্রানটাই শুষে নিচ্ছে'। এস ফ্যাব্রিগাসের টুইট, 'এটা কীভাবে অফসাইড হয়?' লিভারপুল-এভারটনের ম্যাচ শেশে যা হলো তার পর ক্লপ নিজেদের দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। ম্যাচে দুইবার এগিয়ে গিয়েছিল লিভারপুল, প্রথমে সাদিও মানে এবং তারপর মোহামেদ সালাহর গোলের সুবাদে। আর দুইবারই লিভারপুলকে দ্রুত পাল্টা জবাব দিয়েছে ‘নতুন এভারটন।’ প্রথমে মাইকেল কিন এবং শেষদিকে ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইনের গোলের মাধ্যমে সমতায় ফেরে তারা। যোগ করা সময়ে জর্ডান হেন্ডারসনের গোলে পূর্ণ পয়েন্ট পেতে পারত লিভারপুল। তবে সুক্ষ্মের চেয়েও সূক্ষ্ম অফসাইডের জন্য তা হয়নি।

    গুডিসন পার্কে এই ডার্বি নিয়ে প্রতীক্ষাটা বেশিই ছিল এভারটন নিজেদের ইতিহাসে অনেক বছর পর লিগে প্রথম চার ম্যাচেই জয় পেয়েছিল। দীর্ঘ দশ বছর পর আবারও প্রিমিয়ার লিগে এভারটন লিভারপুলকে হারাতে পারে বলে বিশ্বাস জন্মেছিল এভারটন সমর্থকদের মনে।এভারটনের খেলায় সেই বিশ্বাস খানিকটা এসেছিল, লিভারপুলকে ছেড়ে কথা বলেনি তারা। 

    ভিলা পার্কের ভূতকে পেছনে ঠেলে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল লিভারপুল। সেই সুবাদে ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় লিভারপুল। বক্সের বাম প্রান্ত থেকে অ্যান্ড্রু রবার্টসনের মাপা স্কয়ার থেকে ফার্স্ট টাইম শটে বল জালে জড়ান করোনা থেকে সেরে উঠে এই ম্যাচ দিয়েই মাঠে ফেরা মানে। ভিলার বিপক্ষে মানে ছিলেন না, ভাগ্যও সেদিন সহায় হয়নি লিভারপুলের। মানের সঙ্গে যেন এদিন ভাগ্যও ফিরল তাদের।

    তবে এই ভাবনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি অলরেডদের। ম্যাচের দশম মিনিটে এভারটন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের বাজে ট্যাকলের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন লিভারপুলের সেরা ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইক। স্বাগতিকদের বক্সের ভেতর বল পেয়ে গোলের দিকে ছোটা ভ্যান ডাইককে থামাতে তার রীতিমত উচ্ছেদের চেষ্টা করেন পিকফোর্ড। কিন্তু ভ্যান ডাইক তখন অফসাইড থাকায় আগেই রেফারি বাঁশি বাজিয়ে দেন। আর এই অফসাইডের কারণে নিশ্চিত লাল কার্ড থেকে বেঁচে যান পিকফোর্ড, আর পেনাল্টি থেকে বাঁচে এভারটন।

    ভ্যান ডাইক মাঠ ছাড়ার লিভারপুলের খর্বশক্তির রক্ষণকে জেঁকে ধরে এভারটন। ১৯ মিনিটে হামেস রদ্রিগেজের কর্নার থেকে হেডে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান মাইকেল কিন। তবে এই একবার বাদে প্রথমার্ধের বাকি সময়টায় আর লিভারপুলের দুর্বল রক্ষণের সুযোগ নিতে পারেনি এভারটন।

    ম্যাচের শুরু থেকে ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলা এভারটন-লিভারপুল দুই দলেরই মূল লড়াইটা চলেছে মধ্যমাঠে। একদিকে গোমেজ-অ্যালান-রিচার্লিসন আর অন্যদিকে ফাবিনহো-হেন্ডারসন-থিয়াগো। দুই দলই একে অন্যের আক্রমণ মধ্যমাঠেই নস্যাৎ করে দিতে চেয়েছে। তবে এরপরও দুই দলের দুর্দান্ত আক্রমণভাগ গোলের অনেক সুযোগ তৈরি করেছে। প্রথমার্ধে লিভারপুল ১৩ টি শট নিয়েছে যার মাঝে লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ৪ টি, আর এভারটনের ৬ শটের ৩ টি ছিল লক্ষ্যে।

    দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই জয়সূচক গোলের সন্ধানে একে অপরের বক্সে হানা দিতে থাকে। তবে দুই গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বল জালে পাঠানো সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৭২ মিনিটে সালাহর গোলে ম্যাচে এগিয়ে যায় অলরেডরা। হেন্ডারসনের ক্রস ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয়ে এভারটনের কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার বল তুলে দেন সালাহর পায়ে। বাম পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠাতে কোনো ভুল করেননি সালাহ। ক্লাবের হয়ে ১৫৯ ম্যাচ খেলে শততম গোলের দেখা পান তিনি। লিভারপুলের ইতিহাসে তার চেয়ে দ্রুততম সময়ে ১০০ গোল করেছেন মাত্র দুজন খেলোয়াড়, রজার হান্ট এবং জ্যাক পার্কিনসন।

    এরপর ৭৭ মিনিটে ম্যাচে তৃতীয়বার বল এভারটনের জালে পাঠিয়ে ম্যাচ জয়ের সেরা সুযোগ পেয়েছিল লিভারপুল। জোয়েল মাতিপের দুর্দান্ত হেডার বাম দিকে পুরো শরীর শুন্যে ভাসিয়ে ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড।

    দুই দলের আক্রমণ প্রতি আক্রমণে শেষ বিশ মিনিটে একেবারে জমে ওঠে ম্যাচ। প্রিমিয়ার লিগে এবারের মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা এভারটনের ক্যালভার্ট-লুইন পুরো ম্যাচ জুড়ে গোলের তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। তবে ৮২ মিনিটে লুকাস দিনের দারুণ ক্রস থেকে বল পেয়ে শুন্যে লাফিয়ে হেড করেন ক্যালভার্ট-লুইন। লিভারপুল গোলরক্ষক আদ্রিয়ানের সেই হেড রুখে দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।


    মার্সেসাইড ডার্বির উত্তাপ ততক্ষণে অনেক বেড়ে গেছে। সেই উত্তাপেই কিনা রিচার্লিসন মধ্যমাঠে থিয়াগোকে বাজে ধরনের ট্যাকল করলেন। রেফারি মাইকেল অলিভার কালক্ষেপণ না করেই এভারটনের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে লাল কার্ড দেখান। 

    দশজনের এভারটনের সামনে তখন কোনো রকমে পাঁচটি অতিরিক্ত মিনিট কাটিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। তবে নাটক তখনো আরও বাকি। ৯৩ মিনিটে মানের কাটব্যাক থেকে বল জালে জড়ান হেন্ডারসন। ডাগ আউটে তখন আনন্দে আত্মহারা ইউর্গেন ক্লপ। কিন্তু ভিএআরের নির্মমতায় সেই গোল বাতিল হয়ে গেল। ভিএআরের মতে মানের পায়ে যখন বল আসে তখন তিনি অফসাইড ছিলেন। তবে সেটা এতটাই সূক্ষ্ম ছিল যে, লিভারপুলের কেউই সেই সিদ্ধান্ত বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

    শেষ পর্যন্ত মার্সেসাইড ডার্বিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে লিভারপুল এবং এভারটনকে। এভারটন অবশ্য ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই আছেই, ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিভারপুল উঠে এসেছে দুইয়ে। 

    এভারটন একাদশ

    পিকফোর্ড, মিনা, কিন, দিনে, কোলম্যান, ডকুরে, গোমেজ, অ্যালান, রিচার্লিসন, ক্যালভার্ট-লুইন, হামেস

    লিভারপুল একাদশ

    আদ্রিয়ান, ভ্যান ডাইক, মাতিপ, রবার্টসন, অ্যালেক্সান্ডার-আর্নল্ড, ফাবিনহো, হেন্ডারসন, থিয়াগো, সালাহ, ফিরমিনো, মানে

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন