• বিশ্বকাপ বাছাই
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    বাজে শুরুর পর ঘরের মাঠে প্যারাগুয়ের সঙ্গে পয়েন্ট হারাল আর্জেন্টিনা

    ফুলটাইম
    আর্জেন্টিনা ১-১ প্যারাগুয়ে


    ঘরের মাঠে নড়বড়ে শুরুর পর পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর প্রথমার্ধেই নিকোলা গঞ্জালেজের গোলে সমতায় ফেরার পর ছন্দে ফিরলেও আর জয় পাওয়া হয়নি তাদের। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্রথম দুই ম্যাচ জয়ের পর তৃতীয় ম্যাচে এসে তাই পয়েন্ট হারাতে হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলকে। 

    বুয়েনস আইরেসে অবশ্য ভিএআরও 'খেলা' দেখিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল মেসি জালে বল জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু আর্জেন্টিনার সেই উদযাপন স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। গোলের বিল্ড আপে একটি ফাউল আমলে নিয়ে ভিএআরের সাহায্যে পরে সে গোল বাতিল করেছিলেন রেফারি।


    প্রথমার্ধের শুরুটা মন্দ হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিল আর্জেন্টিনা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আঁটসাঁট রক্ষণে আর্জেন্টানদের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে যাচ্ছিল প্যারাগুয়ে। প্রায় পুরো ম্যাচই চলেছে এই ধারায়। তবে এর আগে থিতু হতে সময় নিয়ছে আর্জেন্টিনা। ওই সময়ের ভেতরই রক্ষণের ভুল পিছিয়ে দিয়েছিল তাদের।

    আর্জেন্টিনা ম্যাচে পিছিয়ে পড়েছিল ২২ মিনিটে। বক্সের ভেতর ঢুকে পড়া মিগুয়েল আলমিরনকে ফাউল করে প্যারাগুয়েকে পেনাল্টি পাইয়ে দিয়েছিলেন লুকাস মার্টিনেজ। সেখান থেকে আনহেল রোমেরো স্পটকিক থেকে সহজেই ফ্রাঙ্কো আর্মানিকে পরাস্ত করে লা বোম্বোনেরায় এগিয়ে নেন প্যারাগুয়েকে। আর্জেন্টাইন ক্লাব সান লরেঞ্জোর ফরোয়ার্ড এই নিয়ে বাছাইপর্বের তিন ম্যাচে করলেন তিন গোল।

    একবার এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণে প্যারাগুয়ে ছিল একেবারে নিষ্ক্রিয়। এর আগ পর্যন্ত এলেমেলো ফুটবল খেললেও আর্জেন্টিনার কাছেই বলের দখল ছিল বেশি। তবে গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে খানিকটা সময়ই নিয়েছে আর্জেন্টিনা।

    মেসির সঙ্গে লাউতারো মার্টিনেজ ও লুকাস ওকাম্পোসকে নামিয়ে আক্রমণভাগ অপরিবর্তিতই রেখেছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি। শেষ ম্যাচ থেকে মিডফিল্ডও ছিল অপরিবর্তিত। কিন্তু ফরমেশনে খানিকটা বদল এনেছিলেন স্কালোনি। নিকোলাস টালিয়াফিকোর অনুপস্থিতিতে থ্রি ম্যান ব্যাকলাইনে নিকোলাস গঞ্জালেজ খেলছিলেন লেফট উইংব্যাক হিসেবে। আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরানোর কাজটাও করেছেন তিনি জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথমবার গোল করে।

    অবশ্য সমতায় ফেরার আগে আরেকবার বিপদে পরে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা এক্সিকুয়েল পালাসিওস রোমেরোর সঙ্গে সংঘর্ষের পর পিঠের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন। তার জায়গায় বদলি হয়ে মাঠে নামেন জিওভানি লো সেলসো। টটেনহাম মিডফিল্ডার নামার পর আর্জেন্টিনার আক্রমণেও সমন্বয়হীনতা কেটেছিল। ৪১ মিনিটে তার নেওয়া কর্নার থেকেই জোরালো হেডে দলকে সমতায় ফেরান  নিকোলাস গঞ্জালেজ।

    বিরতির পরও একই ধারায় চলছিল খেলা। আর্জেন্টিনাই আক্রমণে ছিল বেশি ধারালো। আর প্যারাগুয়ে নিজেদের অর্ধে পুরোপুরি মনোযোগি হয়ে প্রতি আক্রমণে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করছিল। অবশ্য তেমন সুযোগ কমই তৈরি করতে পেরেছে তারা।

    আর্জেন্টিনা হতাশ হয়েছে ভিএআরের সিদ্ধান্তে। প্রথমার্ধে পালাসিওসকে ফাউল করার দায়ে রোমেরো দেখেছিলেন হলুদ কার্ড। সে সিদ্ধান্ত নিয়েও অভিযোগ ছিল আর্জেন্টিনার, অবশ্য কপাল মন্দ হলে রোমেরো হয়ত লাল কার্ড দেখতেও পারতেন। প্রথমার্ধের ওই একই হতাশা মেসির গোল বাতিলের পর দ্বিতীয়ার্ধে আরেকবার গ্রাস করেছে আর্জেন্টিনাকে। লো সেলসোর কাটব্যাক থেকে নিচু শটে প্যারাগুয়ে জালে বল জড়িয়েছিলেন মেসি। কিন্তু মিডফিল্ডে বল দখলের সময় নিকোলাস গঞ্জালেসের পেছন থাকা ধাক্কা দিয়েছিলেন প্যারাগুয়ের রোমেরোকে। সেখান থেকেই পরে আক্রমণে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। মাঠের বাইরে মনিটর দেখে পরে গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান রেফারি।

    গত বছর কোপা আমেরিকার পর প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনা দলে সুযোগ পাওয়া আনহেল ডি মারিয়া মাঠে নেমেছিলেন ম্যাচের সময় ঘন্টাখানেক পেরিয়ে যাওয়ার পর। ওকাম্পোসের জায়গায় নেমে ডি মারিয়া আক্রমণে কিছুটা গতি বাড়িয়েছিলেন। তবে সে তুলনায় লাউতারো তেমন একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। দ্বিতীয়ার্ধে দুইবার ভালো জায়গা থেকে করা তার দুইটি শট সহজেই ঠেকিয়ে দিয়েছেন সিলভা। পুরো ম্যাচে প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক নিজের সেরা সেভটি অবশ্য মেসির জন্যই জমিয়ে রেখেছিলেন। ৭২ মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে করা মেসির ফ্রি-কিক এক হাতের দারুণ সেভে গোলের ওপর দিয়ে পার করিয়ে দিয়েছিলেন সিলভা। 

    আর্মানি তুলনামূলকভাবে অন্যপ্রান্তে অবসর সময় কাটিয়েছেন ম্যাচের বেশিরভাগ সময়টাতে। প্যারাগুয়ের একটি ফ্রি-কিক বিপদের কারণ হতে পারত তার জন্য। শেষদিকে বাইলাইনের কাছ থেকে নেওয়া রোমেরোর ফ্রি-কিকের ফ্লাইট বুঝতে ভুল করেছিলেন আর্মানি, পরে ফিস্ট করে সে যাত্রা নিজের মান বাঁচিয়েছেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক।

    ৮৩ মিনিটের পর রদ্রিগো ডি পল আর মার্টিনেজকে তুলে নিয়ে আরও একজন মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ড মাঠে নামান স্কালোনি। ফরোয়ার্ড লুকাস আলারিও ও নিকোলাস ডমিঙ্গেজও অবশ্য বাকি সময়ে কার্যকরি কিছু করতে পারেননি।

    ঘরের মাঠে পয়েন্ট হারানোর পর খানিকটা চাপেই পড়ে গেল আর্জেন্টিনা। ১৮ নভেম্বর বছরের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনাক খেলবে পেরুর বিপক্ষে। গতবারের কোপা আমেরিকার রানার্স আপদের বিপক্ষে ম্যাচটি আবার তাদের মাঠেই। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন