• ইউরো ২০২০
  • " />

     

    ইউরো ২০২০ ফ্যান্টাসি: রক্ষণদুর্গ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন যাদের (পর্ব ২)

    ইউরো ২০২০ ফ্যান্টাসি: রক্ষণদুর্গ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন যাদের (পর্ব ২)    

    প্যাভিলিয়নের ইউরো ফ্যান্টাসি ২০২০-এর ২য় পর্বে স্বাগতম। ১ম পর্বে বিবরণ দিয়েছি ইউরো ফ্যান্টাসির সকল নিয়মকানুনের। এই পর্বের আলোচনার বিষয়বস্তু মূলত গোলরক্ষক এবং ডিফেন্ডারদের মধ্যে দাম অনুযায়ী সেরা পিক যারা হতে পারেন, তাদের নিয়েই। দামের সাথে ফিক্সচার অনুযায়ী কাকে নিলে লাভবান হতে পারেন আপনি, জানতে পারবেন সেসব কিছুই। মূল একাদশে জায়গা নিশ্চিত/নামার সম্ভাবনা অনেক বেশি- আলোচনাটি মূলত তাদের নিয়েই।


     

    আরও পড়ুন: ইউরো ২০২০ ফ্যান্টাসি নিয়মকানুন: পর্ব ১ এবং পর্ব ৩

     


    গোলরক্ষক

    প্রিমিয়াম (৫.৫-৬ মিলিয়ন)

    ইউরো ফ্যান্টাসি ২০২০-এ গোলরক্ষকদের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম (৬ মিলিয়ন) তিনজনের। তারা হলেন: ম্যানুয়েল নয়্যার, হুগো লরিস, থিবো কর্তোয়া। কিন্তু ফিক্সচারের বিচারে নয়্যার, লরিসকে অন্তত গ্রুপপর্বে নেওয়া হয়তো তেমন কাজে দিবে না। কর্তোয়ার বেলজিয়াম আবার ইউরো বাছাইপর্বে ছিল তুরস্কের সাথে যৌথ সেরা ডিফেন্স। ফিনল্যান্ড, রাশিয়া, ডেনমার্ক নিয়ে ‘বি’ গ্রুপে ফেভারিট অবশ্যই রবার্তো মার্টিনেজের দল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেলজিয়ামের ডিফেন্স ক্লিনশিটের দিক দিয়ে তেমন সুবিধার না। সেজন্য হয়তো ৬ মিলিয়ন দামে গোলরক্ষক কেনাটা তেমন কাজে না-ও আসতে পারে।



     

     

    মিড বাজেট (৫-৫.৫ মিলিয়ন)

    ৫.৫ মিলিয়ন দামে সেরা পিক হতে পারেন জিয়ানলুইজি ডনারুমা। গ্রুপপর্বে ৩ ম্যাচই নিজেদের মাঠে খেলবে 'আজ্জুরি'রা। অক্টোবর, ২০২০-এর পর থেকে কোনো ম্যাচেই গোল হজম করেনি ইতালি, ২০১৮-এর পর থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে হারেনি তারা। এই সময়ে খেলা ২৭ ম্যাচে ইতালি গোল হজম করেছে মাত্র ৬টি। ডনারুমার মত ৫.৫ বাজেটে জর্ডান পিকফোর্ডকেও বিবেচনায় আনা যেতে পারে। ইতালির মত গ্রুপের ৩ ম্যাচ নিজেদের মাঠেই খেলবে ইংল্যান্ড। ৫.৫ মিলিয়নে আছেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক রুই প্যাট্রিসিও। তবে 'গ্রুপ অফ ডেথ'-এ প্যাট্রিসিওর ক্লিনশিট সম্ভাবনা অন্যদের থেকে বেশ কম।

    ফ্যান্টাসি ফুটবলে সবার মধ্যেই একটা মানসিকতা থাকে গোলরক্ষকদের পেছনে কম টাকা খরচের। সে বিচারে অধিকাংশ ম্যানেজারের ৪.৫-৫ মিলিয়নে গোলরক্ষক নেওয়ার দিকে হয়তো ঝোঁক থাকে বেশি। এই বাজেটে ডেনিশ গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মেইকেল (৫ মিলিয়ন) হয়তো এগিয়ে থাকবেন অন্য সবার চেয়ে। ইংল্যান্ড, ইতালির মত গ্রুপপর্বের সব ম্যাচ নিজেদের মাঠে, তার ওপর নিজেদের শেষ ১০ ম্যাচের মাতে ২টিতে গোল খেয়েছে ডেনিশরা। এই বাজেটে স্মেইকেলের পর আসতে পারেন অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের গোলরক্ষক উনাই সিমন। ডেভিড ডি গেয়ার মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, স্পেনের শেষ প্রীতি ম্যাচে খেলেছেন সিমন-ই। তবে সিমনের জায়গায় ব্রাইটন গোলরক্ষক ডেভিড সানচেজ-এরও (৪.৫ মিলিয়ন) খেলার সম্ভাবনা আছে। ৫ মিলিয়ন বাজেটে সুইডেনের রবিন ওলসেন, পোল্যান্ডের লুকাস ফ্যাবিয়ান্সকি এবং সুইজারল্যান্ডের ইয়ান সমারকেও বিবেচনায় আনা যেতে পারে। 

    বাজেট (৪-৪.৫ মিলিয়ন)

    ৪.৫ মিলিয়ন দামে সানচেজের একাদশে সুযোগ পাওয়া সন্দিহান হলেও নেদারল্যান্ডসের টিম ক্রুল নিশ্চিতভাবেই নামবেন ডাচদের হয়ে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জ্যাসপার সিলিসেন ছিটকে যাওয়ায় ডাচদের গোলবারের নিচে দেখা যেতে পারে নরউইচ সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে প্রোমোটেড হওয়া ক্রুল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডাচদের রক্ষণ বেশ নড়বড়ে, নিজেদের শেষ ২২ ম্যাচে মাত্র ৮টি ক্লিনশিট রেখেছে 'অরেঞ্জ'রা। ৪.৫ মিলিয়নে দলে ভেড়াতে পারবেন টার্কিশ গোলরক্ষক উগুরচান শাকিরকেও, তবে ডাচদের মতই নড়বড়ে তুরস্কের রক্ষণভাগ। ইউরোতে মূল একাদশে খেলবেন, এমন ২৪ গোলরক্ষকের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে পাবেন ফিনিশ গোলরক্ষক লুকাস হ্রাদেকিকে (৪ মিলিয়ন), তবে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, রাশিয়ার বিপক্ষে হ্রাদেকি হয়তো আস্থার তেমন প্রতিদান না-ও দিতে পারেন।


    ডিফেন্ডার 

    প্রিমিয়াম (৬-৬.৫ মিলিয়ন)

    'অ্যাটাক উইন্স ইউ গেমস, ডিফেন্স উইন্স ইউ টাইটেলস'। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অমর এই উক্তিটি বেশিরভাগ ফ্যান্টাসি ম্যানেজারই এড়িয়ে যান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। গোলরক্ষকদের মত কমদামে ডিফেন্ডার কিনে বাজেটের মূল অংশ মিডফিল্ডার এবং ফরোয়ার্ডদের দলে ভেড়ানোর দিকেই মনযোগ বেশি থাকে ম্যানেজারদের। ইউরো ফ্যান্টাসিতে সর্বোচ্চ দাম রাফায়েল গুরেরো, লুকাস হার্নান্দেজের (৬.৫ মিলিয়ন)। কিন্তু দুজনই 'গ্রুপ অফ ডেথ'-এ থাকায় দুজনের ক্লিনশিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। যেকোনো ফ্যান্টাসিতেই ডিফেন্ডারদের মধ্যে সেন্টারব্যাকের চেয়ে ফুলব্যাক দলে ভেড়ানোর দিকেই মনযোগী হন বেশিভাগ ম্যানেজার। সে হিসেবে অসাধারণ চয়েস হতে পারেন দুজনই।

     

     

    এছাড়া ৬ মিলিয়নে ফুলব্যাকদের মধ্যে দারুণ চয়েস হতে পারেন বেনজামিন পাভার্ড, জর্দি আলবা, হোয়াও ক্যান্সেলো, বেন চিলওয়েল, লুক শ। ইংল্যান্ডের লেফট উইংব্যাক কে খেলবেন, তা নিয়ে অবশ্য সংশয় আছে। চিলওয়েল চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলেও শ-ও অসাধারণ ছিলেন পুরো মৌসুম। তবে ফিক্সচার, হোমগ্রাউন্ডের বিচারে ৬ মিলিয়নে সবচেয়ে ভাল চয়েস হতে পারেন আলেসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জি। এই বাজেটে সেন্টারব্যাকের মধ্যে আছেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াজ, রাফায়েল ভারান, জর্জিও কিয়েলিনি, আয়মেরিক লাপোর্তে।

    মিড বাজেট (৫-৫.৫ মিলিয়ন)

    একদম প্রিমিয়াম ডিফেন্ডারদের থেকে কিছু কম দামে, অর্থাৎ ৫.৫ মিলিয়নেও দারুণ কিছু ডিফেন্ডার আছেন, যারা প্রিমিয়াম মিডফিল্ডার/ফরোয়ার্ডদের টেক্কা দিতে পারেন অনায়াসেই। ম্যানচেস্টার সিটির ইউক্রেনিয়ান ডিফেন্ডার ওলেগজান্ডার জিনচেঙ্কো দেশের হয়ে খেলেন মিডফিল্ডে, সে হিসেবে গোল-অ্যাসিস্টের সুযোগও বেড়ে যায় অনেকাংশেই। সুইস ডিফেন্ডার রিকার্দো রদ্রিগেজও আছেন ৫.৫ মিলিয়নে। সুইসদের সব সেটপিসও নেন তিনি। ওয়েলস, তুরস্কের মত নড়বড়ে রক্ষণের বিপক্ষে যিনি হতে পারেন দারুণ চয়েস। এছাড়াও এই বাজেটে ফুলব্যাকদের মধ্যে সেরা চয়েস হতে পারেন বেলজিয়ামের থমাস মুনিয়ের, ইতালির লিওনার্দো স্পিনাৎজোলা, নেদারল্যান্ডসের ডেনজেল ডাম্ফ্রিস, রাশিয়ার মাথিয়াস ফার্নান্দেজ এবং ইংল্যান্ডের কাইল ওয়াকার। সেন্টারব্যাকের মধ্যে আছেন বেলজিয়ান টবি অল্ডারওয়েরেল্ড, ইয়ান ভার্টনহেন, স্টেফান দে ফ্রাই, জন স্টোনস, মাথিয়াস ডি লিট, লিওনার্দো বনুচ্চি। এই বাজেটে আরো আছেন অ্যান্টোনিও রুডিগার, আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন, টিমোথি কাস্তানিয়ে; কিন্তু তাদের কেউই হয়তো শুরু থেকে একাদশে সুযোগ পাবেন না। 

     

     

    ৫ মিলিয়ন বাজেটে ফুলব্যাকদের মধ্যে আছেন রবিন গসেন্স, ড্যানিয়েল ওয়াস, দালি ব্লিন্দ, ওলেগজান্ডার কারাভায়েভ, ভ্লাদিমির সুফাল, কিয়েরন টিয়েরনি, কিয়েরন ট্রিপিয়ের। ডেনিশ ডিফেন্সের অসাধারণ ধারাবাহিকতার জন্য ওয়াসই হতে পারেন এই বাজেটে সেরা ফুলব্যাক। সেন্টারব্যাকের মধ্যে আছেন ম্যাটস হামেলস, ইয়ান ভেস্টেরগার্ড, পেপে। 

    বাজেট (৪-৪.৫ মিলিয়ন)

    ৪.৫ মিলিয়ন বাজেটে ফুলব্যাক আছেন ওয়েন উইন্ডাল, লুকাস ক্লস্টারম্যান। তবে এই বাজেটে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অপশন হয়তো উত্তর মেসেডোনিয়ার জিয়ানি আলিয়স্কি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে নজর কাড়া এই লেফট উইংব্যাক দেশের হয়ে পেনাল্টিও নিয়ে থাকেন। দেশের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট আছে তার, যা একজন ডিফেন্ডার হয়ে দুর্দান্ত পরিসংখ্যান। 

    ৪.৫ মিলিয়ন বাজেটে সেন্টারব্যাকের মধ্যে আছেন কনোর কোডি, জেসন দেনায়ের, পাউ তোরেস, আলেসান্দ্রো বাস্তোনি, সিমন কিয়ার, মার্টিন হিন্টারেগার। হ্যারি ম্যাগুয়েরের ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেতে পারেন কোডি। এই বাজেটে সেন্টারব্যাকের মধ্যে ফিক্সচারের বিচারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন হয়তো কিয়ার, তোরেস এবং বাস্তোনি।

    ৪ মিলিয়ন বাজেটে স্টার্টার হিসেবে আছেন ফিনল্যান্ড রক্ষণজুটি জুনা টোইভিও, পাউলাস আরাহুরি এবং মেসেডোনিয়ার স্টেফান রিস্টভস্কি।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন