• ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি ২০২১
  • " />

     

    শামিমকে ছাপিয়ে নায়ক জিয়া, তানজিদের ৭৯*-তে সহজ জয় শাইনপুকুরের

    শামিমকে ছাপিয়ে নায়ক জিয়া, তানজিদের ৭৯*-তে সহজ জয় শাইনপুকুরের    

    প্রাইম দোলেশ্বর-শেখ জামাল, বিকেএসপি ৪
    প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব ১৬৬/৫, ২০ ওভার (ইমরান ৬৫, শামিম ৪৯*, সাইফ ২২, ইলিয়াস ২/২৫, জিয়াউর ২/২৬, এবাদত ১/৩৪)
    শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ১৬৭/৭, ২০ ওভার (জিয়াউর ৫৩, তানভীর ৪৫*, নুরুল ১৭, রাব্বি ৪/২৪, এনামুল জুনিয়র ২/৩২, রেজা ১/৪১) 


    আগেরদিন ব্যাটিংয়ে অসম্ভবকে প্রায় সম্ভব করতে ধরেছিলেন, এবার নিজের ‘আসল’ কাজ বোলিংয়েও প্রায় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন ম্যাচের মোড়। ১৬৭ রানতাড়ায় শেষ ১২ বলে শেখ জামালের প্রয়োজন ছিল ১৮ রান, কামরুল ইসলাম রাব্বি সে ওভারে এসে ততক্ষণে মোমেন্টাম ঘুরিয়ে দেওয়া জিয়াউর রহমানেরটি সহ নিলেন ২ উইকেট, একটি ছয়ের পরও দিলেন মাত্র ৭ রান। তবে শেষ ওভারের প্রথম বলে ফরহাদ রেজা নো-সহ চার দিলে প্রাইম দোলেশ্বরের আশা মোটামুটি শেষ হয়ে গেল, শেষ পর্যন্ত মোটামুটি থ্রিলারে পরিণত হওয়া ম্যাচে গিয়ে শেষ বলে শেখ জামালের জয় নিশ্চিত করেছেন সোহরাওয়ার্দি শুভ। এ দিনটাও তাই নিজের হলো না রাব্বির। শেখ জামালের নায়ক হয়ে থাকলেন জিয়াই।  

    অবশ্য রানতাড়ায় ১০ম ওভারেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল শেখ জামাল, ৭২ রান তুলতে গিয়ে। জিয়া যখন নামেন, শেষ ১০ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৯৫ রান। সেখান থেকেই তিনি খেললেন ৩২ বলে ৫৩ রানের ইনিংস, ১ চারের সঙ্গে মেরেছেন ৫টি ছয়। সঙ্গে ছিলেন তানভীর হায়দার, দুজন মিলে ৮৩ রান তুলেছেন ৮.৩ ওভারেই। তানভীর শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩৪ বলে ৪৫ রানে।



    এর আগে জিয়া নিয়েছিলেন ২৭ রানে ২ উইকেট, তবে প্রথম ইনিংস শেষ পর্যন্ত নায়ক ছিলেন ইমরান উজ জামান ও শামিম পাটোয়ারি। ১৫তম ওভারে জিয়ার বলেই ক্যাচ দিয়েছিলেন ওপেনিংয়ে নামা ইমরান, এর আগে করেছেন ৪৬ বলে ৬৫, মেরেছেন চারটি করে চার ও ছয়। তবে সে ওভার শেষেও দোলেশ্বরের স্কোর ছিল ১০২। এরপর শেষ ৫ ওভারে তারা তুলেছে ৬৪ রান, শামিমের ২০ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের ঝড়ে। শামিম এদিন মেরেছেন ২টি চার, সঙ্গে ৫টি ছয়। তবে শেষ পর্যন্ত জিয়ার ইনিংসে ম্লান হয়ে গেছে তারটি। 

    এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় হারে টেবিলের তিনে নেমে গেল দোলেশ্বর। আর ৭ ম্যাচে এটি ৪র্থ জয় শেখ জামালের। 

    ****

    ওল্ড ডিইওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব ১১৯/৬, ২০ ওভার (রাকিব ৫৭, জয় ২১, সুমন ২/২৪, মৃত্যুঞ্জয় ২/৩০, হাসান মুরাদ ১/১১, তানভির ১/২১) 
    শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ১২০/৩, ১৯.১ ওভার (তানজিদ ৭৯*, হৃদয় ২৮, আসাদুজ্জামান ২/১৮)
    শাইনপুকুর ৭ উইকেটে জয়ী 


    লক্ষ্য ১২০ রান, সেখানে ওপেনিংয়ে নেমে তানজিদ হাসান তামিম করলেন ৫৯ বলে ৭৯। এরপর আদতে আর কিছু করার থাকে না প্রতিপক্ষর, ডিওএইচএসেরও থাকলো না। শাইনপুকুরের জয়ের পথটা আদতে এদিন মসৃণ হয়েছিল প্রথম ইনিংসেই, ডিওএইএচএসের আরেকটি ধীরলয়ের ব্যাটিং প্রদর্শনীর পর। ২০ ওভার খেলেও তারা তুলেছিল ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৯ রান। 

    ডিওএইচএস ২০ রানে হারিয়েছিল ২ উইকেট, এরপর মাহমুদুল হাসান জয়কে নিয়ে ৪৩ রান যোগ করেছিলেন মোহাম্মদ রাকিব। শেষ পর্যন্ত রাকিব অপরাজিত ছিলেন ৫৭ বলে ৫৬ রানে, তবে তাকে আর সেভাবে সমর্থন দিতে পারেননি কেউ। শাইনপুকুরের সব বোলারই করেছেন আঁটসাঁট বোলিং, বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১০ রান। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন সুমন খান ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি। 

    রানতাড়ায় অবশ্য তৃতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারিয়েছিল শাইনপুকুর, ফিরেছিলেন রবিউল ইসলাম রবি। তবে অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে তামিমের ৯০ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ডিওএইচএসের সব রোমাঞ্চে জল ঢেলেছে। হৃদয় ৩২ বলে ২৮ রান করে ফেরার পর মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও আউট হয়েছেন ১০ বলে ৫ রান করে। তবে অপরাজিত থেকেই ম্যাচ শেষ করেছেন তানজিদ, এদিন তিনি মেরেছেন ৭টি চারের সঙ্গে ৩টি ছয়। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন