• ইউরো ২০২০
  • " />

     

    আমস্টারডামে ৯০ মিনিটের থ্রিলারে জিতল নেদারল্যান্ডস

    আমস্টারডামে ৯০ মিনিটের থ্রিলারে জিতল নেদারল্যান্ডস    

    আক্রমণ-পালটা আক্রমণ। এক মুহূর্ত যেন বিরাম নেই। ৯০ মিনিটের দুর্দান্ত একটা থ্রিলার দেখল যেন আমস্টারডাম অ্যারেনা। এখন পর্যন্ত ইউরোর সেরা ম্যাচে ইউক্রেনকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। হারলেও মন ভরিয়ে দেওয়ার মতো খেলা খেলেছে ইউক্রেনও।

    নিরপেক্ষ দর্শক হলে নেদারল্যান্ডস-ইউক্রেন ম্যাচটি আপনার দারুণ উপভোগ করার কথা। প্রথম ৪৫ মিনিটেই আক্রমণ আর পালটা আক্রমণে দুই দলই নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত যে কোনো গোল হয়নি তখন সেটা অবিশ্বাস্যই। তার অনেকটুকু কৃতিত্ব প্রাপ্য ইউক্রেন গোলরক্ষক গ্রিগরি বুশানের। আর কিছুটা কৃতিত্ব প্রাপ্য নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক মার্ক স্টেকেলেনবার্গেরও। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে এসে গোলের দুয়ার খুলে গেছে।



    ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই দুই দল জানান দেয়, তারা আক্রমণে কোনো ছাড় দেবে না। আমস্টারডামের ইয়োহান ক্রুইফ এরেনায় ডাচ কিংবদন্তিকে যেন সম্মান জানিয়ে দুই দলই খেলতে থাকা আক্রমণাত্মক আগ্রাসী ফুটবল। শুরুতে ইউক্রেনের দারুন একটা আক্রমণের পর প্রতি-আক্রমণ থেকে মেম্ফিস ডিপাই গোল পেয়েই গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ ঠেকিয়ে  দিয়েছেন বুশান।

    এরপর ডাচরা বেশ কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছে; তার বেশির ভাগ কাকতালীয়ভাবে গিয়েছে রাইটউইংব্যাক ডামফ্রাইসের কাছে। শুরুতে একটা পাস থেকে বল পেয়ে তার শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন বুশান। এরপর আরও একবার একটুর জন্য পা লাগাতে পারেননি। তবে ডিপাইয়ের ক্রস থেকে সবচেয়ে সহজ সুযোগটা নষ্ট করেছেন। ফাঁকায় হেড পেয়েও সেটা কয়েক ফুট দূরে থেকে মেরে দিয়েছেন বাইরে।

    অবশ্য এর মধ্যে বুশান তার কাজটা ঠিকই করে চলেছেন। ভিনালডামের শট ডিফলেক্টেড হয়ে জালে জড়িয়ে যাওয়ার সময় বাম হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছেন, আরেকবার ভিগহর্স্টকে হতাশ করেছেন। ওদিকে সুযোগ পেয়েছে ইউক্রেনও। ইয়ারমলেংকো বক্সে ঢুকেও শট নিয়েছিলেন, কিন্তু সেটা ঠেকিয়ে দিয়েছেন স্টেকেলেনবার্গ। ইয়ারেমচুকও সুযোগ পেয়েছিলেন, কাজে লাগাতে পারেননি।

    কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই সুযোগ কাজে লাগাতে শুরু করে নেদারল্যান্ডস। ৫২ মিনিটে ডামফ্রিসের ক্রসটা ক্লিয়ার করতে গেলে বলটা এসে পরে ভিনালডামের পায়ে। দেশের হয়ে গোলের রেকর্ডটা দারুণ কিছুদিন আগে পিএসজিতে যোগ দেওয়া মিডফিল্ডারের, এবারও ঠাণ্ডা মাথায় ডান পায়ে বল জড়িয়ে দেন জালে। খানিক পর আবার ডামফ্রাইসের অবদান, যেন ঠিক করে রেখেছেন প্রথমার্ধের মিসের প্রায়শ্চিত্ত করবেন। এবার তার বলটা মাইকেলোংকো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হওয়ায় ভেগহর্স্টের পায়ে এসে পড়ে, জালে জড়িয়ে দেন এই স্ট্রাইকার।

    কিন্তু এর পরেই গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে ইউক্রেন। শুরুটা হয় ৭৫ মিনিটে আন্দ্রেই ইয়ারমলেংকর মুহূর্তের ম্যাজিকে। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে মনে করিয়ে দিয়েছেন এই মাঠেই খেলা আরেক ডাচ উইঙ্গার রোবেনের কথা। এরপর খানিক পরেই আবার ইউক্রেন। এবার মালিনোভস্কির ফ্রি কিক থেকে হেড করে সমতা ফেরান ইয়ারেমচুক। হঠাত করেই বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট।

    কিন্তু ডামফ্রাইস যেন ঠিক করে রেখেছিলেন, নায়ক তিনিই হবেন। নাথান একের ক্রস থেকে হেড করে আবার বল জালে জড়িয়ে দেন, এবার বুশানেরও কিছুটা দায় আছে তাতে। সেটাই নিশ্চিত করে দেয় স্বাগতিকদের জয়।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন