• ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি ২০২১
  • " />

     

    সাব্বিরের বিরুদ্ধে ইলিয়াস সানির সঙ্গে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ ও ইট ছুঁড়ে মারার অভিযোগ

    সাব্বিরের বিরুদ্ধে ইলিয়াস সানির সঙ্গে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ ও ইট ছুঁড়ে মারার অভিযোগ    

    ইলিয়াস সানিকে বর্ণবৈষম্যুমূলক গালি দেওয়া এবং মাঠে ইট ছুঁড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে সাব্বির রহমানের বিপক্ষে। এ ব্যাপারে সিসিডিএমকে অভিযোগ দিয়ে চিঠিও দিয়েছে সানির ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। 

    বুধবার সকালে শেখ জামালের ম্যাচ ছিল ওল্ড ডিওএইচএসের বিপক্ষে। তবে সাব্বিরের দল লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের ম্যাচ ছিল দুপুরে। শেখ জামাল সিসিডিএমকে দেওয়া চিঠিতে ঘটনার বিবরণ দিয়েছে এভাবে, “অত্যন্ত দুঃখের সহিত জানাইতেছি যে, অদ্য ১৬ জুন ২০২১ তারিখে বিকেএসপি এর ৩নং মাঠে লেঃ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেড বনাম ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব এর মধ্যকার খেলা চলাকালীন সময়ে লেঃ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেড- এর খেলোয়াড় জনাব মোহাম্মদ ইলিয়াসকে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ এর খেলোয়াড় জনাব সাব্বির রহমান রুম্মন মাঠের বাহির হতে বিনা কারনে উপুর্যপরি ইট ছুড়ে মারেন।”



    “অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও উচ্চস্বরে বর্ণ বৈষম্য মূলক আচরণ করে বলেন যে, ওই কাইল্যা, কাইল্যা, কাইল্যা ইলিয়াস। যাহা একজন প্রফেশনাল ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবে এহেন আচরণ অশোভনীয়ই নয়, শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে। এমতাবস্থায়, জনাব সাব্বির রহমান রুম্মন এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জনানো যাচ্ছে।”

    পরে ইলিয়াস সানি বলেছেন, ঘটনার সূত্রপাত মূলত আগের ম্যাচে, যেদিন রূপগঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল তার দল শেখ জামাল, “গত ১৩ জুন আমাদের সঙ্গে ওদের ক্লাবের খেলা ছিল। আমি ব্যাটিংয়ে নামার সময় থেকেই অকথ্য ভাষায় কথা বলতে থাকে। ক্রিকেট মাঠে স্লেজিং হয়। কিন্তু গালাগাল করা… মাঠে সেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যায়।”
     


    সাব্বিরের বিপক্ষে অভিযোগ করেছেন ইলিয়াস সানি


    “আজ বিকেএসপিতে আমি যখন ফিল্ডিং করছিলাম তখন আবার নিজ থেকে এগিয়ে এসে ঝামেলা করে। বাস থেকে নেমে আমাকে কাইল্যা, কাইল্যা (কালো, কালো) বলে ডাকতে থাকে। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক এতোটা গভীরও নয় যে এমনটা বলতে পারে। দীর্ঘদিন সেও ক্রিকেট খেলে আমিও খেলছি। কিন্তু এরকম ডাক কখনো তার মুখ থেকে শুনিনি। এরপর ইট নিয়ে আমাকে ছুঁড়ে মারে। আমার গায়ে লাগেনি কিন্তু ফিল্ডিং করছিলাম বলে আমাকে সাবধানী হওয়া দরকার ছিল। আমি আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগ করি। তারা খেলা থামিয়ে রেখেছিল ২-৩ মিনিট। সাব্বিরকে বকা দিয়ে ওখান থেকে সরিয়ে দেয়।”

    বিসিবির সিঙ্গেল ক্যামেরা স্ট্রিমিংয়েও শেখ জামালের বোলিং ইনিংসে চতুর্থ ওভার চলার সময় দুই মিনিটের বেশি খেলা বন্ধ থাকতে দেখা যায়। উইকেটকিপিংয়ে থাকা শেখ জামাল অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকেও সেসময় মিডউইকেটের দিকে ছুটতে দেখা গেছে। 

    সিসিডিএমকে দেওয়া শেখ জামালের চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এর সদস্য সচিব আলি হোসেনও, “‘হ্যাঁ, ঘটনা আমরাও শুনেছি। অভিযোগের চিঠিও আমাদের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া হয়েছে। যতটা জানি সাব্বির নাকি ঢিল দিয়েছেন সানিকে- এমনটাই অভিযোগ করা হয়েছে। এখন আমরা তদন্ত করেই সিদ্ধান্ত জানাব।’

    তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাব্বির রহমান, “এটা কি সম্ভব? একটা ন্যাশনাল টিমের প্লেয়ার আরেকটা প্লেয়ারকে ইঁট ছুঁড়ে মারতে পারে? তাও আবার আমার সিনিয়র ভাই। এটা কি পসিবল? ঐখানে যে এতগুলা মানুষ ছিল, কী হলো তাহলে? 

    “আমার কোনো বক্তব্য নাই। যে কাজটা করি নাই, যেটা সম্ভব না, সেটায় কোনো বক্তব্য নাই। আমি কেন করব? আমি ন্যাশনাল প্লেয়ার, আরেকটা ন্যাশনাল প্লেয়ারকে- বড় ভাইকে- ইট মারব, এতো সোজা? ইট মারবো আমি?”

    আর আগের ম্যাচের ঘটনা নিয়ে তার বক্তব্য, সেটা নিছকই মজা করে ‘স্লেজিং’ করেছেন তিনি। ইলিয়াস সানিই টেম্পারমেন্ট হারিয়ে ফেলেছেন।  

    এর আগে দর্শক পেটানো এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞাসহ শাস্তি পেয়েছিলেন শেষ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর জাতীয় দলের হয়ে খেলা সাব্বির। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন