• ইউরো ২০২০
  • " />

     

    এরিকসেনের ম্যাচটা বদলি নেমে বদলে দিলেন ডি ব্রুইন

    এরিকসেনের ম্যাচটা বদলি নেমে বদলে দিলেন ডি ব্রুইন    

    ম্যাচে না থেকেও ছিলেন ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। তার জন্য ব্যানার ছিল গ্যালারিতে, ১০ মিনিটে তার জন্য অভিবাদন জানালেন লুকাকুরা। ম্যাচটাও মনে হচ্ছিল তার জন্যই খেলছে ডেনমার্ক, পুরো ম্যাচেই নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। কিন্তু এমন একজন ছিলেন প্রতিপক্ষ দলে, যিনি একাই বদলে দিয়েছেন ম্যাচটা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে একটি গোল করিয়েছেন, পরে আরেকটি করেছেন নিজে। কেভিন ডি ব্রুইনময় ম্যাচে ডেনমার্ককে ২-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ষোল নিশ্চিত করে ফেলেছে বেলজিয়াম। 

    মাঠে নামবার আগে সাইমন কায়ের বলেছিলেন, ডেনমার্ক খেলবে এদিন এরিকসেনের জন্যে। সেটা দেখা গেছে শুরু থেকেই। ৯৯ সেকেন্ডেই বল জালে পাঠিয়ে ইউরোর ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোল করেছেন ইউসুফ পলসেন। প্রথমার্ধে র‍্যাংকিংয়ে সবার উপরে থাকা দলের সাথে তাঁরা দাপটের সাথেই খেলেছে।

    জেসন মুনায়েররে ভুল পাসে বক্সের সামনে থেকে হয়বার্গ বল পেয়ে গেলে ডানদিকে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ইউসুফ পলসনের দিকে বাড়িয়েছিলেন। সেদিন পলসন কেঁদেছিলেন, এদিন ভাসলেন আনন্দ-উল্লাসের বন্যায়। পলসনের ডান পায়ের শটে বটম কর্নারে বল জালে জড়ানোর অনন্য সুন্দর দৃশ্যটা টেলিভিশিনের পর্দায় নিশ্চয়ই দেখেছেন ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। কয়েকশ' মিটার দূরের হাসপাতালে থাকা এরিকসেনের কানে কি গোলের পরে হাজার পঁচিশেক দর্শকের ওই গর্জনও পৌঁছে যায়নি? 



    তবে এরিকসেনের জন্য আরও একবার সম্মান জানিয়েছেন লুকাকুরা। জার্সির পেছনের নাম্বার ১০, তাই খেলা থেমেছিল ১০ মিনিটের শেষে। হাততালির বৃষ্টি নেমে এল কোপেনহেগেনের পার্কেন স্টেডিয়ামে। যেখানে ক'দিন আগে তার জন্য যেন সময় থমকে দাঁড়িয়েছিল। গ্যালারী থেকে পর্দায় যে লেখা ভেসে উঠছিলো বারবার, সেটার অনুবাদ করলে এমন দাঁড়ায়, ‘পুরো ডেনমার্ক তোমার সাথে, ক্রিশ্চিয়ান’। 

    প্রথমার্ধে অন টার্গেটে মাত্র একবার শট নিতে পেরেছিল বেলজিয়াম, রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে মাত্র দ্বিতীয়বার হল এমন। আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণও ভালো সামলাচ্ছিল ডেনমার্ক। তবে দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণে ফাটল ধরে শেষমেশ। বদলি হিসেবে নেমে কেভিন ডি ব্রুইন এসেই ঝলক দেখিয়েছেন। কাউন্টার অ্যাটাকে রোমেলু লুকাকু দুজন ডেনমার্ক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এরপর কাটব্যাক করেছেন ডি ব্রুইনের দিকে। ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার এরপর বল বাড়িয়েছেন থর্গ্যান হ্যাজার্ডের দিকে। ফাঁকা জালে বল জড়াতে কোনও সমস্যা হয়নি থর্গ্যানের। 

    বদলি হিসেবে এরপর এডেন হ্যাজার্ড ও দীর্ঘদিনের ইনজুরির পরে ফেরা উইটসেল নামায় বেলজিয়াম ফিরেছে তাদের আসল রূপে। ডেনমার্কও কিছু কম যাচ্ছিল না, খেলে যাচ্ছিল সমান তালে। 

    ইউরোতে এর আগে যে দশবার ডেনমার্ক ম্যাচের প্রথমে গোল করেছে, তার মধ্যে হারেনি নয় ম্যাচে। ৭০ মিনিটে আবার গোল হজম করে এই ম্যাচে অবশ্য আর হার এড়াতে পারেনি ড্যানিশরা। লুকাকু-উইটসেলের পা ঘুরে ইডেন হ্যাজার্ড ডিবক্সের মাথায় বল পেয়ে গেলে পাশে বাড়িয়ে দেন আগুয়ান ডি ব্রুইনকে। বাঁপায়ের চকিত জোরালো শটে ডি ব্রুইন হতভম্ব করে দেন ক্যাসপার স্মাইকেলকেও। এই ম্যাচে আবার ডি ব্রুইন দেখিয়েছেন, কেন তাকে সময়ের সেরা মিডফিল্ডার বলা হয়।

    ব্রাথওয়েট-অলসনরা চেষ্টা করে গেছেন এরপরেও। তবে বেলজিয়ামের রক্ষণের সাথে দুর্ভাগ্য সাথী হওয়ায় তাদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে হতাশ হয়েই। ম্যাচে ফেরার জন্য ডেনমার্ক সবচেয়ে কাছে গিয়েছিল ৮৭ মিনিটে। ডান পাশ থেকে ওলসনের করা দারুণ এক ক্রসে ব্রাথওয়েটের হেড থিবো কর্তোয়া নাগাল না পেলেও বল ক্রসবারে লেগে চলে যায় উপর দিয়ে। ম্যাচ হারলেও ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন হয়ত তার সতীর্থদের লড়াকু মনোভাবে কষ্টের মাঝেও একটু স্বস্তি খুঁজে পাবেন। 

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন