• ইউরো ২০২০
  • " />

     

    বারুদ বুদাপেস্টে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ঠেকিয়ে দিল হাঙ্গেরি

    বারুদ বুদাপেস্টে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ঠেকিয়ে দিল হাঙ্গেরি    

    এবারের ইউরোতে বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনাতেই শুধু গমগম করছে দর্শক। নিজেদের মাঠে দ্বাদশ খেলোয়াড়ের সুবিধায় উজ্জীবিত হাঙ্গেরি আজ বলতে গেলে অসাধ্য সাধনই করেছে। ১-১ গোলে ড্র করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের সাথে। শুরুতে আতিলা ফিওলার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকেরা। পরে অবশ্য আঁতোইন গ্রিজমান সমতা ফেরান ফ্রান্সের হয়ে। এরপর চেষ্টা করেও আর হাঙ্গেরির প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি ফ্রান্স।

    ম্যাচের শুরু থেকেই খেলা নিয়ন্ত্রণে ছিল ফ্রান্সের। শুরু থেকেই বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি করেছিলো তারা। বেনজেমার দারুণ শট হাঙ্গেরি গোলকিপার দুর্দান্ত এক সেভে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সেটা এসে পড়েছিল আতোয়া গ্রিজমানের পায়ে। কিন্ত গ্রিজমানের ফিরতি শট আবার সেভ দিয়েছিলেন গুলাসি, যদিও সেটা অফসাইড ছিল। এরপর বাঁ প্রান্ত থেকে লুকাস ডিনিয়ের ক্রসে এমবাপ্পের হেড গেছে সামান্য বাইরে দিয়ে। আরেকবার এমবাপ্পে হেডে বল মেরেছেন বারের উপর দিয়ে। ম্যাচের মিনিট পঁচিশেক পরে খেলায় একেবারে পুরোপুরিই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় ফ্রান্স। বারবার সুযোগ তৈরি করছিলো লেস ব্লুজরা। গ্রিজমানের দারুণ এক ক্রসে এমবাপ্পে বল পেয়ে ফাঁকা অবস্থায় থাকা বেনজেমার দিকে বল বাড়িয়েছিলেন। বেনজেমা বল জালে জড়াতে পারেননি। আরেকবার এমবাপ্পে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গিয়ে শট নিয়েছিলেন বক্সের ভেতর থেকে, কিন্ত তার শট সেবারও অনটার্গেটে থাকেনি। 



    বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে গোলরক্ষাটাই হাঙ্গেরির প্রধান কাজ ছিল। তাই তাঁরা বেশ নিচে নেমে খেলবে সেটা অনুমেয়ই ছিল। কিন্তু শুধু বাস পার্ক করেনি তারা, সুযোগ পেয়ে উঠেছে ওপরে। তবে কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে আবার বল হারাচ্ছিল দ্রুতই। যোগ করা সময়ে এরকমই একবার ডান প্রান্তে বল রিকোভার করে বাঁ পাশে থাকা আত্তিলা ফিওলার কাছে বল গিয়েছিলো। এরপর ফিওলা বল বাড়িয়েছিলন তার কাছেই ডানদিকে থাকা রোলান্ড সালাইয়ের দিকে। রোলান্ড সালাই এরপর বল বাড়িয়েছেন ফিওলার দিকে আবার। ফিওলা ছুটেছেন এরপর, ভারান-পাভাড তাকে রুখতে পারেননি। এর আগে কোন বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে না হওয়া লরিস ডান বটম কর্নারে নেয়া ফিওলার ডান পায়ের শটটা রুখতে পারেননি। এরপর? পুরো মাঠ গর্জে উঠেছে একসঙ্গে।

    দ্বিতীয়ার্ধেও সমানতালে আক্রমণ করে গেছে ফ্রান্স। হাঙ্গেরিও রক্ষণ সামলেছে ঠিকঠাক। তবে দুয়ারে তালা মেরেই শুধু বসে ছিল না হাঙ্গেরিয়ানরা। যদিও প্রতিআক্রমণে উঠেও তেমন সুযোগ তাঁরা সৃষ্টি করতে পারছিলো না। অপরদিকে বদলি নেমে উসমান দেম্বেলে গোলের খুব কাছ থেকেই ফিরেছেন, তার ডান পায়ের জোরালো শট গিয়ে লাগে গোলপোস্টে। পগবা-তলিসোদের বক্সের বাইরে থেকে নেয়া শট সেভ দিয়েছেন গুলাসি। তবে শেষপর্যন্ত ৬৬ মিনিটে তার জালে বল জড়িয়েই যায়। 

    হুগো লরিসের লং বল ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করতে বাউন্সের অপেক্ষায় করাতেই গড়বড় হয়, লাফিয়ে উঠে বল দখলে নেন এমবাপ্পে। এরপর ড্রিবল করে এগিয়ে গিয়ে কাটব্যাক করেন এমবাপ্পে, সেটা উইলি অরবান ফার্স্ট টাচে ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন। সিক্স-ইয়ার্ড বক্সের সামনে থেকে বল পেয়ে এরপর সহজেই বল জালে পাঠান গ্রিজমান। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে এরপরও চেষ্টা করে গেছে ফ্রান্স। বক্সের বাঁ পাশ থেকে নেয়া এমবাপ্পের বাঁ পায়ের শট দ্রুতগতির হলেও সেটা সোজা গুলাসির দিকে হওয়াতে শেষমেশ গোল পায় না ফ্রান্স। শেষপর্যন্ত খেলার সমাপ্তি ঘটেছে ওই ড্রতেই।

    ইউরোতে লিড নিয়েছে এমন ম্যাচে হাঙ্গেরি কখনো হারেনি। অপরদিকে ইউরোতে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্সের চেয়ে বেশি জেতেনি আর কেউই। শেষ পর্যন্ত এ ম্যাচের সমাপ্তি ঘটলো ড্রতেই। হাঙ্গেরির মাটিতে ১৯৯০ সালের পর জিততে পারেনি ফ্রান্স। সে রেকর্ডটাও এখনো থাকলো বহাল তবিয়তেই! সেই সাথে শেষ ষোলোতে যাওয়ার ক্ষীণ আশাটাও বাঁচিয়ে রাখলো হাঙ্গেরি।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন