• ইউরো ২০২০
  • " />

     

    মিউনিখে ভয়ংকর জার্মানিতে অসহায় পর্তুগাল

    মিউনিখে ভয়ংকর জার্মানিতে অসহায় পর্তুগাল    

     ফুলটাইম 

    জার্মানি ৪: ২ পর্তুগাল


    ফ্রান্সের সঙ্গে ড্রয়ের পর জার্মানি চাপে ছিল। অন্যদিকে পর্তুগাল এসেছিল হাঙ্গেরিকে উড়িয়ে দেওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়ে। এই টুর্নামেন্টে জার্মানির চেয়ে পর্তুগালের দিকেই বাকির দর বেশি ছিল। কিন্তু জার্মানি দেখাল, কেন তারা সর্বকালের সফলতম আন্তর্জাতিক দল। দেখাল, জোয়াকিম লোয়ের অধীনে এখনো তারা দুর্দান্ত হতে পারে। দুর্দান্ত এক আক্রমণের পশলার পর তাই পর্তুগালকে ৪-২ গোলে হারিয়ে জার্মানি পেল প্রথম জয়। আর সেই সঙ্গে গ্রুপ অপ ডেথ এখন উন্মুক্ত হয়ে গেল, এখান থেকে পরের পর্বে যেতে পারে সবাই।

    পর্তুগালের সঙ্গে রেকর্ডটা দুর্দান্তই ছিল জার্মানদের। ২০১৬ এরপর টানা চার ম্যাচে তাদের বিপক্ষে ছিল জয়। আজ শুরু থেকেই জার্মানি বার্তা দিয়ে রেখেছিল, তারা সেটা পাঁচে নিতেই এসেছে। ম্যাচের শুরুতেই গোল পেয়ে যায় জার্মানি, দারুণ একটা অ্যাক্রবেটিউক ফিনিশে রবিন গোসেন্স বল জালে জড়িয়ে দেন। কিন্তু সেটা অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়। 



    জার্মানি অবশ্য তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ করতেই থাকে। কিন্তু হঠাৎ বদলে যায় সবকিছু। শুরুটা হয় কর্নার থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একটা ক্লিয়ারেন্সের পর। সেখান থেকে বল পেয়ে বার্নাদো সিলভা দারুণ একটা থ্রু বাড়ান দিয়োগো জোটাকে। ওদিকে অবিশ্বাস্য এক দৌড়ে রোনালদো তখন ডি বক্সে। জোটার বল থেকে ট্যাপ ইন করে রোনালদো পেয়ে যান গোল, জার্মানির বিপক্ষে যা তার প্রথম। মনে রাখার মতো এক কাউন্টার অ্যাটাকে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

    কিন্তু জার্মানি ক্ষান্ত দেয়নি আক্রমণে। ম্যাচসেরা গোসেন্স বাঁদিক থেকে সেমেদোকে নামিয়ে মুহূর্মুহূ আক্রমণ করছিলেন। এরকমই একটা ক্রস থেকে রুবেন দিয়াজের পায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। প্রথমে অবশ্য মনে হয়েছিল, হ্যাভার্জ গোল দিয়েছেন। পরে সেটি বদলে যায়। কী অবিশ্বাস্য, একটা আত্মঘাতী গোলের রেশ না কাটতেই এরপর আরেকটা গোল! এবার ডান দিক থেকে জশুয়া কিমিখের ক্রস। সেটা ক্লিয়ার করতে গিয়ে জালে জড়িয়ে দেন রাফায়েল গেরেরো। ইউরোর ইতিহাসে এক দলের দুই আত্মঘাতী গোল হয়নি এমন, এক অর্ধে তো বটেই। প্রথমার্ধে জার্মানি শেষ করে ২-১ গোলেই।

    কিন্তু প্রথমার্ধে যেখানে শেষ করেছিল, দ্বিতীয়ার্ধে যেন সেখান থেকেই শুরু করে। এবারও সেই গোসেন্স বাঁদিক থেকে বল বাড়িয়েছেন। এবার আর অফসাইড হননি, সেটা জালে জড়িয়ে দিয়ে হ্যাভার্জ পেয়েছেন নিজের প্রথম গোল। ৯ মিনিট পর এবার গোসেন্স নিজেই পেয়েছেন গোল। এবার ডান দিক থেকে কিমিখের ক্রস, সেটা হেড করে জালে পাঠিয়ে দিয়েছেন গোসেন।

    এরপরেই গোসেনকে তুলে নিয়েছেন লো, জার্মানি এরপর আর খুব বেশি আক্রমণ না করে মন দিয়েছে রক্ষণেই। ওদিকে রেনাটো সানচেজ নামার পর পর্তুগাল আরেকটু গুছিয়ে খেলতে শুরু করেছে। একটা সেট পিস থেকে পেয়ে যায় গোল। রোনালদোর বল থেকে ট্যাপ ইন করে জোটা কমিয়েছেন ব্যবধান। খানিক পর সানচেজের বুলেট শট বারে লেগে ফিরে না এলে পর্তুগাল আরও ভালোমতোই ফিরতে পারত। কিন্তুস এটা আর হয়নি। ম্যাচটা শেষ হয়েছে ৪-২ গোলেই।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন