• ইউরো ২০২০
  • " />

     

    কিক অফের আগে: ওয়েম্বলিতে 'ইটস কামিং হোম' না ডেনিশ রূপকথা?

    কিক অফের আগে: ওয়েম্বলিতে 'ইটস কামিং হোম' না ডেনিশ রূপকথা?    

    ইউরো সেমিফাইনাল

    ইংল্যান্ড-ডেনমার্ক

    ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম

    ৮ জুলাই, বাংলাদেশ সময় রাত ১টা


    ওয়েম্বলির আশেপাশে কান পাতলেই আজ শোনা যাবে ইটস কামিং হোম। শোনা যাওয়ারই কথা। ট্রফি তো বটেই,, একটা ফাইনালের জন্য কম অপেক্ষা করেনি ইংল্যান্ড। সেই ১৯৬৬ সালে যখন শেষবার ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ হয়েছিল, সেটাই হয়ে আছে বড় আসরের তাদের একমাত্র সুখস্মৃতি। কিন্তু আর কখনো শিরোপা দূরে থাক, ফাইনালেই ওঠা হয়নি তাদের। এবার সম্ভহবত তারা সেই আক্ষেপ ঘোঁচানোর সবচেয়ে কাছাকাছি। সেই ওয়েম্বলিতে আবার খেলবে, প্রতিপক্ষ ডেনমার্ক- ইংল্যান্ড এরকম সুযোগ আর নাও পেতে পারে।

    অবশ্য ইটস কামিং হোম নিয়ে এর মধ্যেই এক দফা খোঁচা দিয়ে দিয়েছেন ডেনমার্ক কিপার কাসপার স্মাইকেল। সংবাদ সম্মেলনে মুচকি হেসে প্রশ্ন তুলেছেন, আদৌ কি কখনো হোমে ছিল না নাকি ‘ওটা’। ইংলিশদের হাইপে অবশ্য তাতে এতটুকু ভাটা পড়বে না, বরং সেটা আরও বাড়বে।



    তবে স্মাইকেলের খোঁচা দেওয়াটা আরেকটা দিক দিয়েও ইঙ্গিতবাহী। লেস্টার সিটির ঘরের ছেলে হয়ে গেছেন অনেক দিন ধরেই, ডেনিশদের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে আছেন দীর্ঘদিন। তবে তার আরেকটা বড় পরিচয়, পিটার স্মাইকেলের ছেলে তিনি। পিটার শুধু ডেনমার্কের নয়, সর্বকালেরই সেরাদের একজন পোস্টের নিচে। দেশের হয়ে ১৯৯২ বিশ্বকাপে ডেনিশদের সেই রূপকথার জয়ে তার ছিল বড় অবদান। বাবা যে কীর্তি করেছেন, ছেলে সেটা করতে চাইবেনই।

    এবার করলে অবশ্য রূপকথা শব্দটাও আসলে যথেষ্ট হবে না ডেনিশদের জন্য। যারা চোখের সামনে সতীর্থদের মৃত্যু দেখে ফেলেছিল আরেকটু হলেই, সেই ধাক্কাটা সামলে উঠতে না উঠতে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে চলে গিয়েছিল খাদের কিনারায়, তাদের সেখান থেকে ফিরে আসাটাই তো দুর্দান্ত ব্যাপার। ডেনমার্ক সেই কাজটাই করেছে দারুণভাবে। গ্রুপ পর্ব ও শেষ ষোলোতে গোল দিয়েছে চারটি করে, এরপর কোয়ার্টারে চেকদের বাধা পার হয়ে এসেছে সেমিতে। তবে ইংল্যান্ডই নকআউটে তাদের সত্যিকারের পরীক্ষা নেবে, সেটা খুব ভালোভাবেই জানে ডেনিশরা।

    এরিকসেন আসলে আজ না থেকেও থাকবেন। প্রতি ম্যাচেই শুরুর আগে বা পরে তাকে আলাদাভাবে মনে করেছেন ডেনিশরা। আজকের ম্যাচটা ওয়েম্বলিতে, যেটা এখন এরিকসেনের সাবেক ক্লাব টটেনহামের হোম। ইংলিশদের সাথে অবশ্য ভালোই পরিচয় আছে ডেনমার্কের। এই দলে ক্রিশ্চিয়েনসেনের সতীর্থ আছেন মাউন্ট, চিলওয়েল; ভেস্টেগার্ড, স্মাইকেলসহ আরও কয়েকজন খেলেন লিগে। ইংল্যান্ড আর ডেনমার্কের ইতিহাসও কিন্তু পুরনো; ইংল্যান্ডে খেলা প্রথম নন ব্রিটিশ বিদেশী ছিলেন একজন ডেনিশ। সেটাও ১৯১২ সালের কথা।

    আজকের ম্যাচে সাউথগেট কীভাবে দল সাজাবেন, সেটা নিয়ে আছে এক ধরনের অপেক্ষা। এখন পর্যন্ত সাউথগেট দলকে দারুণভাবে খেলিয়েছেন। ৪-২-৩-১ তার মূল ফর্মেশন, তবে দরকার হলে সেটা বদলে চলে যাচ্ছেন ৩-৪-৩ এ। জার্মানির সাথে এই ফর্মেশনে খেলেই তাদের হারিয়েছেন। তবে ইউক্রেনের বিপক্ষে অবশ্য সেটা থেকে আবার পুরনো ফর্মেশনে ফিরেছেন সাউইথগেট, ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত ইউরোতে নিজেদের সেরাটা খেলেছে ওই ম্যাচেই। তবে ডেনমার্কও জার্মানির মতো ৩-৪-৩ এই বেশি খেলে, বিশেষ করে বাঁদিকে জোয়াকিম মাহলে এখন পর্যন্ত সম্ভবত তাদের সেরা খেলোয়াড়। সেদিকে কাইল ওয়াকারের সঙ্গে তার লড়াইটা জমবে ভালো।

    দলের খবর

    ইংল্যান্ড দলে বড় কোনো চোটের সমস্যা নেই। নক কাটিয়ে ফিরেছেন বুকায়ো সাকা। শোনা যাচ্ছে জেডন সাঞ্চোর জায়গায় আজ তিনি শুরু থেকে খেলবেন। সাউথগেট ফর্মেশন বদলালে সেক্ষেত্রে হয়তো মাউন্টের জায়গায় বাড়তি একজন ডিফেন্ডার আসতে পারেন। ডেনমার্কেরও বড় চোট সমস্যা নেই। ডলবার্গের জায়গায় পোলসেন শুরু থেকে নামবেন কিনা সেটা একটা প্রশ্ন হতে পারে।

     

    সম্ভাব্য একাদশ

    ইংল্যান্ড

    পিকফোর্ড, ম্যাগুয়ের, স্টোনস, শ, ওয়াকার, ফিলিপ্স, রাইস, মাউন্ট, সাকা, স্টার্লিং, কেইন

    ডেনমার্ক

    স্মাইকেল, ক্রিশ্চিয়েনসেন, কিয়ের, ভেস্টেগার্ড, স্টাইগার, মাহলে, হয়বিয়া, ডেলানি, ডামসগার্ড, ব্রাথওয়েট, ডলবার্গ

     

    আগের দেখায় কী হয়েছিল?

    ওয়েম্বলিতে এখন পর্যন্ত সাতবার মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড-ডেনমার্ক। মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্রতিবারই স্কোর ছিল ১-০। সর্বশেষ গত বছর নেশনস কাপের ম্যাচে দেনমার্ক এরিকসেনের পেনাল্টিতে এই ওয়েম্বলিতেই হারিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ইউরোতে দুই দলের দেখা হয়েছিল ১০৯৯২তে, সেবার মালমোতে দুই দলের ম্যাচ হয়েছিল গোলশূন্য ড্র।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন