• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    রোনালদোর মতো ঘরে ফিরেছেন যারা

    রোনালদোর মতো ঘরে ফিরেছেন যারা    

    অনেক জল্পনা-কল্পনার পর ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে। লিসবন থেকে থিয়েটার অফ ড্রিমসে পা রাখা মাদেইরার যেই ১৮ বছর বয়সী তরুণ তার দ্বিতীয় ঘর ছেড়েছিল সম্ভাব্য সব শিরোপা জেতার পরে, বিশ্বজয় করে স্পেন, ইতালি ঘুরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ভক্তদের স্বপ্নকে সত্যি করে সেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ফিরেছেন আরও একবার ম্যানচেস্টাররের লাল অর্ধে। প্রত্যাবর্তনের গল্পটা কেমন হবে সেটা সময়ই বলবে তবে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের তাতে আপাতত কোনও কমতি নেই। রোনালদোর মতই ঘরে ফিরেছিলেন আরও অনেক কিংবদন্তি। প্রিয় ক্লাবের ভক্তদের চির সমাদৃত এই খেলোয়াড়দের প্রত্যাবর্তনের গল্পগুলো ফিরে দেখা যাক।  


     

    কাকা (এসি মিলান)

     

    ১ম মেয়াদ: ২০০৩-২০০৯

    ২য় মেয়াদ: ২০১৩-২০১৪

     

    সাও পাওলো থেকে মিলানের লাল-কালো শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন ২০০৩ সালে। প্রথম মৌসুমেই করেছিলেন ১০ গোল, আন্দ্রে শেভচেঙ্কোর স্কুডেট্টো জয়ী গোলের ক্রসটাও এসেছিল তার পা থেকে। এরপর এসি মিলানের ভক্তদের উদযাপনের উপলক্ষ গড়ে দিয়েছেন অসংখ্য বার। শুধু তাই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসের বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত এসেছিল তার পা থেকে। ইস্তানবুল মিরাকলের সেই রাতে প্রথমার্ধে হার্নান ক্রেসপোর গোলে তার দেওয়া সেই রক্ষণচেরা পাস, ২০০৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী মৌসুমে সেমি ফাইনালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে গিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণ ছত্রভঙ্গ করে ঠাণ্ডা মাথায় এডউইন ভ্যান ডার সারকে ধোঁকা দিয়ে বল জালে জড়ানো, দুই লেগ মিলিয়ে রেড ডেভিলদের বিপক্ষে ৩ গোল- এসি মিলানের ভক্তদের স্মৃতির পাতায় আজও অমলিন এই মুহূর্তগুলো। ২০১৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে যখন আবারও সান সিরোতে সেই ২২ নম্বর জার্সিতে রসোনেরিদের হয়ে আলো ছড়াতে ফিরে এসেছিলেন মিলানিস্তাদের মাঝে আনন্দের সীমা ছিল না। ততদিনে ইনজুরি জর্জরিত কাকা তার সেরাটা ফেলে এসেছিলেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে এসে মিলানের হয়ে ৩০০তম ম্যাচে করেছেন দুই গোল, স্পর্শ করেছেন মিলানের হয়ে ১০০ গোলের মাইলফলক। এমএলএসের দল অর্ল্যান্ডো সিটির হয়ে নাম লেখানোর আগে এসি মিলানের কিংবদন্তি হিসেবে নিজের পদমর্যাদা সিলগালা করে তবেই ছেড়েছেন প্রিয় ক্লাব।

     

    রেকর্ড: 

    ম্যাচ: ৩০৭

    গোল: ১০৪

    অ্যাসিস্ট: ৮৫

     

    দিদিয়ের দ্রগবা (চেলসি)

     

    ১ম মেয়াদ: ২০০৪-২০১২

    ২য় মেয়াদ: ২০১৪-২০১৫

     

    মার্শেই থেকে চেলসিতে পাড়ি জমিয়ে জোসে মরিনহোর সাথে প্রথম দুই মৌসুমেই জিতেছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। স্ট্রাইকার  হিসেবে নিজের জাত চেনাতে শুরু করেন অবশ্য পরের মৌসুমে ১১ নম্বর জার্সি পাওয়ার পর, ২০ গোল করে সেবারই জিতে নেন প্রিমিয়ার লিগ গোল্ডেন বুট। এরপর ২০০৯-১০ মৌসুমে ২৯ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতার পথে ছুঁয়েছিলেন চেলসির হয়ে ১০০ গোলের মাইলফলক, জিতেছিলেন ৩য় প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। তবে চেলসির হয়ে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত এসেছিল ২০১২ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে, ১-০ তে পিছিয়ে থাকা চেলসিকে ৮৮ মিনিটে গোল দিয়ে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে নতুন আশার বীজ বপন করেছিলেন, আর সেই বীজকে বৃক্ষে রুপ দিয়েছিলেন টাইব্রেকারে ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফাঁকি দিয়ে শেষ পেনাল্টি জালে জড়িয়ে। ততদিনে নিজের সেরাটা পেছনে ফেলে এলেও শেষবারের মত ঐ মৌসুমে জন টেরির সাথে তুলেছিলেন প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।   

     

    রেকর্ড:

    ম্যাচ: ৩৮১

    গোল: ১৬৪

    অ্যাসিস্ট: ৮৭

     

    থিয়েরি অঁরি (আর্সেনাল)

     

    ১ম মেয়াদ: ১৯৯৯-২০০৭

    ২য় মেয়াদ: ২০১২(লোন)

     

    মোনাকোতে থাকার সময় আর্সেন ওয়েঙ্গারের নজর কেড়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে জুভেন্টাস ঘুরে সেই ওয়েঙ্গারের আর্সেনালেই যোগ দিলেন, পাকা জহুরী ওয়েঙ্গার যে হীরে চিনতে ভুল করেননি সেটার প্রমাণ দিতে তাকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। যেন স্ট্রাইকারের ভুমিকাই ভুলে গিয়েছিলেন। তবে পিতৃতুল্য ওয়েঙ্গার তাকে হাতে কলমে আবার সব ধরিয়ে দিয়েছেন, গুরুর পরশ পাথরের ছোঁয়ায় যেন নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করলেন। এরপর প্রিমিয়ার লিগে নিজেকে যেই উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন তা ছোঁয়ার স্বপ্নও বোধহয় অনেকেই দেখে না। প্রিমিয়ার লিগ নাম হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৪ বার জিতেছেন গোল্ডেন বুট, ২ বার জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ যার মধ্যে একবার ছিল সেই প্রখ্যাত “ইনভিন্সিবল” মৌসুম, হয়েছেন আর্সেনালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ২ বার হয়েছেন প্রিমিয়ার লিগ বর্ষসেরা, এমনকি ২০০৩-০৪ মৌসুমে ছিলেন সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট দাতা। গানারদের সর্বকালের সেরার খেতাবটা তাই তাকে অনায়াসেই দেওয়া যায়। বার্সা, নিউ ইয়র্ক রেড বুলস হয়ে লোনে ফিরেছিলেন আর্সেনালের হয়ে।  ১৪ নম্বর জার্সি সেবার থিও ওয়ালকটের দখলে থাকায় গায়ে চড়িয়েছিলেন ১২ নম্বর। নিজের শেষ ম্যাচেও আরও একবার দলকে এনে দিয়েছিলেন জয়, সান্ডারল্যান্ডের সাথে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে। কিংবদন্তির প্রস্থান ঘটেছিল কিংবদন্তির মতই।  

     

    রেকর্ড:

    ম্যাচ: ৩৭৬

    গোল: ২২৮

    অ্যাসিস্ট: ১০৫

     

    রবি ফাওলার (লিভারপুল)

     

    ১ম মেয়াদ: ১৯৯৩-২০০১

    ২য় মেয়াদ: ২০০৬-২০০৭

     

    শৈশবে ছিলেন মার্সিসাইডের অন্য পাড়ের ক্লাব এভারটন ভক্ত। তখন কি নিজেও ভেবেছিলেন যে অল রেডদের ভক্তদের মুখে মুখে উচ্চারিত হবে তার নাম! ডি-বক্সে রবি ফাওলারের উপস্থিতি ছিল ডিফেন্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্ন। গোল করার ঐশ্বরিক ক্ষমতার জন্য অ্যানফিল্ডে তার নামই হয়ে গিয়েছিলো “গড”। ১৯৯৫ সালে আর্সেনালের বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিকের গল্প তো এখনো লিভারপুদলিয়ানদের মুখে মুখে ঘোরে, ঐ সময়ে যেটা ছিল প্রিমিয়ার লিগের দ্রুততম হ্যাটট্রিক। টানা দুইবার সেবার জিতেছিলেন পিএফএ বর্ষসেরা তরুণের পুরস্কার। নিজের প্রথম তিন মৌসুমেই করেছিলেন ৩০+ গোল, যা এখনো রেকর্ড। ম্যাকনামান-ফাওলার জুটি তখন ছিল প্রিমিয়ার লিগের ডিফেন্ডারদের জন্য এক বিভীষিকার নাম। মাঠের বাইরের কীর্তির জন্য “দ্যা স্পাইস বয়েজ” (ফাওলার, ম্যাকনামান, কলিমোর, রেডন্যাপ) দের নেতা ২০০১ সালে কোচ জেরার্ড হুলিয়েরের সাথে বিবাদে জড়িয়ে লিডস ইউনাইটেডে নাম লেখিয়েছিলেন। তবে মন যে পড়েছিল অ্যানফিল্ডে, ২০০৬ সালে যখন আবার ফিরলেন তখন নিজের উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছিলেন, ক্রিসমাসের উপহার খোলার সময় একজন শিশুর মত আনন্দ অনুভব করছেন তিনি। কপাইটরা তাদের ‘গড’ এর প্রত্যাবর্তনে এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিল যে বার্মিংহাম সিটির বিপক্ষে ম্যাচে তারা ব্যানারে লিখে এনেছিল, “ঈশ্বর-নম্বর ১১- স্বর্গে তোমায় স্বাগতম”। শেষ মৌসুমে ইনজুরির কবলে পড়ে খুব একটা খেলা হয়নি তার তবুও ২০০৭ সালে চেলসির বিপক্ষে সেই শ্বাসরুদ্ধকর সেমিফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ডার্ক কাউটের গোল বানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। অ্যানফিল্ডের ঈশ্বর চার্লটন অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বিদায় নিয়েছিলেন অধিনায়কের বাহুবন্ধনি পরেই।    

     

    রেকর্ড:

    ম্যাচ: ৩৬৯

    গোল: ১৮৩

    অ্যাসিস্ট: ৫০


     

    ওয়েইন রুনি (এভারটন)

     

    ১ম মেয়াদ: ২০০২-২০০৪

    ২য় মেয়াদ: ২০১৭-২০১৮

     

    মার্সিসাইডের নীল শিবিরে মাত্র ৯ বছর বয়সে যোগ দিয়েছিলেন ওয়েইন রুনি, মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাদের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তার যা এভারটনের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম অভিষেকের রেকর্ড। নিজের ১৭তম জন্মদিনে আর্সেনালের সাথে ম্যাচজয়ী যেই গোলটা করেছিলেন প্রিমিয়ার লিগ অনুরাগীদের সেটা হয়ত বেশ ভালোভাবেই মনে আছে। সেই গোল দিয়েই ভেঙ্গেছিলেন আর্সেনালের টানা ৩০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড, হয়েছিলেন প্রিমিয়ার লিগের তৎকালীন কনিষ্ঠতম গোলদাতা। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে তো প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শৈশবের ক্লাবে ২০১৭ সালে ফিরে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ২০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের বিপক্ষে এভারটনের জার্সি গায়ে তার করা প্রথম হ্যাটট্রিকের তৃতীয় গোলটি আপনার নিশ্চয় মনে আছে। প্রায় ৬০ গজ দূর থেকে করা সেই গোল এভারটনের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা হিসেবে গণ্য। এমএলএসের ক্লাব ডিসি ইউনাইটেডের হয়ে নাম লেখানোর আগে শৈশবের ক্লাবকে তাই উপহার দিয়ে গিয়েছেন মনে রাখার মত অগণিত স্মৃতি। 

     

    রেকর্ড:

    ম্যাচ: ১১৭

    গোল: ২৮

    অ্যাসিস্ট: ৪


     

    কার্লোস তেভেজ (বোকা জুনিয়রস)

     

    ১ম মেয়াদ: ২০০১-২০০৪

    ২য় মেয়াদ: ২০১৫-২০১৬

    ৩য় মেয়াদ: ২০১৮-২০২১

     

    মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বোকা জুনিয়রসের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তেভেজের। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো তো তাকে ম্যারাডোনার যোগ্য উত্তরসূরির তকমাই দিয়ে দিয়েছিলেন। ম্যারাডোনার ১০ নম্বর জার্সির মান রাখতে কোনও ভুল করেননি কার্লিতোস। মাঠের খেলায় বোকাকে যেমন জিতিয়েছেন অসংখ্য ম্যাচ সেই সাথে বিতর্কে জড়িয়েও বোকার ভক্তদের হৃদয়ে করে নিয়েছেন জায়গা।  চিরশত্রু রিভারপ্লেটের বিপক্ষে একবার গোল করে ‘গালিনাস”(মুরগির দল) বলে চিৎকার করতে করতে রিভারপ্লেট সমর্থকদের সামনে গিয়ে মুরগি নাচ দিয়েছিলেন, দেখেছিলেন লাল কার্ড। তবে ঐ ঘটনার জন্য বোকার ভক্তদের লোকগাথায় জায়গা করে নিয়েছেন চিরতরে। ২০১৫ সালে ফিরে এসে প্রথমে সংবাদমাধ্যমের তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে জবাব দিতে সময় নেননি বেশি। ২০১২ সালের পর প্রথম কোপা লিবারতোদোরেসের সেমি ফাইনালে উঠেছিল বোকা তার কল্যাণে, যদিও সেবার বিদায় নিতে হয়েছিল সেমি ফাইনালেই। তবে এরপর সুপার ক্লাসিকোতে রিভারপ্লেটকে আরও একবার কাঁদিয়ে জোড়া গোল করে দলকে এনে দিয়েছিলেন জয়। চীনে এক বছর কাটিয়ে আবারও ফিরেছিলেন শৈশবের ক্লাবে। দুইটি আর্জেন্টাইন লিগ জিতে তবেই শেষবারের মত প্রিয় ক্লাবকে বিদায় বলেছেন “এল অ্যাপাচি”।    

     

    রেকর্ড:

    ম্যাচ: ১৯২

    গোল: ৬১

    অ্যাসিস্ট: ৩০

     

    আরিয়েন রবেন (গ্রোনিঙ্গেন)

     

    ১ম মেয়াদ: ২০০০-২০০২

    ২য় মেয়াদ: ২০২০-২০২১

     

    কোচ ইয়ান ভ্যান ডাইক শীর্ষ পর্যায়ে গ্রোনিঙ্গেনের হয়ে তাকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন ২০০০ সালে। বিদ্যুৎগতির দৌড়ে ডান উইং ছত্রভঙ্গ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন প্রথম মৌসুমেই, হয়েছিলেন ক্লাবের বর্ষসেরা খেলোয়াড়। সেই যে শুরু করেছিলেন এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। বায়ার্ন মিউনিখ আর নেদারল্যান্ডসের হয়ে তার ডান প্রান্ত থেকে চিরাচরিত দৌড়গুলো ভাবিয়েছে বহু রক্ষণভাগকে। খুব কম উইঙ্গারের কাছেই সম্পূর্ণ রক্ষণভাগকে এরকম অসহায় আত্মসমর্পণ করতে দেখা গেছে। প্রচণ্ড গতিতে ডান উইং ছত্রভঙ্গ করে প্রতিপক্ষের রক্ষনভাগে অতর্কিত আক্রমণ, সুকৌশলে বাঁ পায়ের আলতো ছোঁয়ায় ভেতরে ঢোকা, অতঃপর কাস্তে বাকা শট; কী হতে যাচ্ছে তার সবই জানা আছে আপনার কিন্তু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই। ক্লাব পর্যায়ে সব জিতে বুট জোড়া তুলে রেখেছিলেন। তবে করোনা মহামারীর কারণে শৈশবের ক্লাবকে যখন ধুঁকতে দেখলেন তখন আর পারেননি বসে থাকতে। অবসর ভেঙে ক্লাবকে সাহায্য করতে আরও একবার গায়ে চড়িয়েছিলেন ঐ সবুজ-কমলা জার্সি। সারা ক্যারিয়ার যেই ইনজুরি তাকে তাড়া করে ফিরেছে ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসেও রেহাই মেলেনি তা থেকে, অভিষেকের পর সাত মাস ছিলেন মাঠের বাইরে। ফিরে সেই চিরচেনা দৌড়ে করেছিলেন দুটো অ্যাসিস্ট। চোখের জলে ফুটবলকে শেষবারের মত বিদায় জানিয়েছেন এরপর, কাঁদিয়েছেন গ্রোনিঙ্গেন সমর্থকদেরও। 

     

    রেকর্ড:

    ম্যাচ: ৫৯

    গোল: ১২

    অ্যাসিস্ট: ৭

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন