• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ফ্যাক্সে দেরি, বিমানবন্দরে ঘুম, হেলিকপ্টার-কান্ড: ডেডলাইন ডের যত অদ্ভুত নাটক

    ফ্যাক্সে দেরি, বিমানবন্দরে ঘুম, হেলিকপ্টার-কান্ড: ডেডলাইন ডের যত অদ্ভুত নাটক    

    দলবদলের মৌসুমের শেষ দিনে যত উত্তেজনা নিয়ে ভক্তরা অপেক্ষা করে, এই  দিনটা যেরকম রোমাঞ্চকর কাহিনীর জন্ম দিয়েছে ফুটবল মাঠেও এরকম রোমাঞ্চের দেখা সচরাচর পাওয়া যায় না। শেষ দিনে বড় নামদের দলে ভিরিয়ে ক্লাব ভক্তদের আনন্দের উপলক্ষ তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকবার, সেই খেলোয়াড়েরা পরে শিরোপা উঁচিয়ে তাদের নামের প্রতি সুবিচারও করেছেন। তবে ডেডলাইন দিবস একই সাথে জন্ম দিয়েছে বেশ কিছু অদ্ভুত ঘটনারও, এমন সব ঘটনা যা সিনেমাকেও হার মানায়। ডেডলাইন দিবসে চলুন ফিরে দেখা যাক সেরকমই কিছু ঘটনা। 

     

    ব্যাবেলকপ্টার কান্ড

    লিভারপুলের ডাচ উইঙ্গার রায়ান ব্যাবেলের কথা মনে আছে? ২০১০ সালে তিনি লিভারপুল ছেড়ে যেতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। ৮ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব নিয়ে এর আগের দলবদলের মৌসুমেই লিভারপুলের দরজায় কড়াও নেড়েছিল বার্মিংহাম। লিভারপুল সেবার ফিরিয়ে দিয়েছিল তাদের। এবার শোনা গেল লন্ডনের দুই ক্লাব টটেনহাম হটস্পার্স ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেড তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী। তবে লিভারপুলের এবারও কোনও নড়চড় নেই। নাছোড়বান্দা ব্যাবেল ডেডলাইন দিবসে তাই নিজের হেলিকপ্টার নিয়েই উড়াল দিলেন লন্ডনের উদ্দেশ্যে। ওদিকে এই দুই ক্লাবের পক্ষ থেকেই আসেনি কোনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব। হেলিকপ্টার নিয়ে ব্যাবেল বেমালুম গায়েব! তাকে নাকি কেউ কোথাও অবতরণ করতেও দেখেনি। তবে লিভারপুলের সবাইকে অবাক করে সন্ধ্যা ৬টার সময় মারসিসাইডে ফিরে আসেন তিনি। আজ পর্যন্ত জানা যায়নি ডেডলাইন দিবসে তিনি আসলে হেলিকপ্টার নিয়ে কোথায় গিয়েছিলেন আর ততক্ষণ আসলে কী করেছিলেন। 

     

    ওয়েস্টব্রমের সাথে ওডেমওয়িঙ্গির রেষারেষি

    ওয়েস্টব্রমউইচ অ্যালবিয়নে বেশ ভাল দুই মৌসুম কাটানোর পর পিটার ওডেমওয়িঙ্গি সিদ্ধান্ত নিলেন দল পরিবর্তনের। শোনা গেল কিউপিআর তার জন্য বেশ ভালোভাবেই মাঠে নেমেছে। তবে বাধ সেধে বসে আছে ওয়েস্টব্রম। তাতেই যেন ক্ষেপে আগুন ওডেমওয়িঙ্গি। টুইটারে শুরু করলেন কাঁদা ছোড়াছুড়ি, এই দলে তিনি তার প্রাপ্য সম্মান পাননি বলেই দাবি করে বসলেন। ক্লাবকে টুইটারে ধুয়ে দেওয়ার পর ভাবলেন কাজ হয়ে যাবে। কিউপিআরও ততদিনে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তাই আর দেরি না করে নিজেই রওনা দিয়ে দিলেন। ১২৫ মাইল পাড়ি দিয়ে লন্ডনে লফটাস রোডে পৌঁছানোর পরে তাকে যে লজ্জার মুখে পড়তে হল সেটার জন্য অবশ্য তিনি মনে হয় না প্রস্তুত ছিলেন। ডেডলাইন দিবসের বাকি আছে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা কিন্তু কিউপিআরের স্টেডিয়ামের ত্রিসীমানায় তাকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ওয়েস্টব্রমের শর্ত ছিল কিউপিআর থেকে জুনিয়র হয়লেটকে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে হয়লেট সেবার কিউপিআরে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াতেই বিপদে পড়েন ওডেমওয়িঙ্গি। তিনি এসবের কিছুই শোনার আগেই লন্ডনের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে এখানে এসে দেখেন এই কাণ্ড!  সেদিন দুই কুল হারানোর অনুতাপেই বোধহয় পুড়েছিলেন ওডেমওয়িঙ্গি।

     

    বের হ বেনজানি! 

    ২০০৮ সালে পোর্টসমাউথ থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে পাড়ি জমান জিম্বাবুইয়ান স্ট্রাইকার বেনজানি মুয়ারুয়ারি। তবে মেডিকেলের জন্য সেবার তিনি ম্যানচেস্টারে পৌঁছিয়েছিলেন ডেডলাইনের মাত্র ৪৫ মিনিট আগে। কারণ বড়ই অদ্ভুত! তিনি নাকি এয়ারপোর্টে কখন বেঘোরে ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন সেটা টের পাননি। ফলাফল টানা দুই ফ্লাইট মিস! মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে এসেছিল তৃতীয় ফ্লাইট বাতিল হওয়া। পরের ফ্লাইটে তড়িঘড়ি করে উঠে কোনমতে ম্যানচেস্টারে পা রেখেছিলেন তিনি।

    তবে সেবার অনেকেরই ধারণা ছিল যে বেনজানি আসলে ক্লাব তো ছাড়তে চানই না, ছাড়লেও ম্যানচেস্টার সিটিতে যেতে চান না। তাই এতো বাহানা। চারদিকে সেবার রব উঠেছিল এসব তিনি ইচ্ছা করেই করেছিলেন। প্রায় এক দশক পরে পোর্টসমাউথ কোচ হ্যারি রেডন্যাপের কাছে ঘটনার সত্যতা জানতে চাওয়া হলে তিনি অকপটে সেটা স্বীকার করেন। সাথে এও বলেন যে বেনজানিকে নাকি তিনি রীতিমত ঘাড়ধাক্কা দিয়ে ঐ শেষ ফ্লাইটে উঠিয়েছিলেন। 

     

    ১৪ সেকেন্ডের বিড়ম্বনা

    ২০১৭ সালের আগস্টে স্পোর্টিং লিসবন থেকে লেস্টার সিটিতে পাড়ি জমান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন সিলভা। ২২ মিলিয়ন পাউন্ডে চুক্তিও সেবার পাকা। কিন্তু সকল কাগজপত্র আসতে নাকি ১৪ মিনিট দেরি হয়ে গেছে। বাধ সেধে বসল ফিফা, নিয়মের কোনও নড়চড় হবে না সাফ জানিয়ে দিলে তারা। সেই মৌসুমে সিলভার প্রিমিয়ার লিগে খেলা হবে না সাফসাফ জানিয়ে দিল তারা। লেস্টার সেবার কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এমনকি দেরি যে হয়নি সেটার ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যন্ত ফিফার দরবারে হাজির করেছিল তারা। তবে ফিফার তাতে কোনও ভ্রুক্ষেপ হয়নি। চার মাস কোনও ফুটবল ছাড়া থেকে অবশেষে ১৪ নম্বর জার্সি গায়ে চড়িয়ে ফক্সদের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন সিলভা।

     

    ফ্যাক্স বাহানা

    ২০১৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদকে দলবদলের মৌসুমে মাঠের বাইরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যেই ঘোল খাইয়েছিল সেটা বোধয় আপনার মনে আছে। কথা ছিল, থিয়েটার অফ ড্রিমস ছেড়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পাড়ি জমাচ্ছেন ডেভিড ডি গেয়া আর বিনিমিয়ে রেড ডেভিলসদের হয়ে নাম লেখাচ্ছেন কেইলর নাভাস। চুক্তি, মৌখিক কথাবার্তা সব পাকা। নাভাস বাক্স-পেটরা গুছিয়ে তৈরি, সতীর্থদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়াও সারা। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পরিচালকদের মনে যে ছিল অন্যকিছু। এইতো পাঠাচ্ছি সব কিছু বলে মাদ্রিদ বোর্ডকে আশ্বস্ত করল তারা। একবিংশ শতাব্দীতে তারা জানান দিলেন ফাক্স মেশিনে যাচ্ছে সব কাগজ। তাই হয়ত একটু দেরি হচ্ছে। ডেডলাইন পার হয়ে গেল কিন্তু ফ্যাক্স আর এলো না। যতক্ষণে এলো ততক্ষনে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। পরে কেইলর নাভাস নিজেই বলেছিলেন, এই দলবদল আর হচ্ছে না শুনে তিনি নাকি হুহু করে কেঁদেই দিয়েছিলেন।     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন