• ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২
  • " />

     

    এনরিকের তরুণ স্পেনের ছন্দময় ফুটবলে ছত্রভঙ্গ কোস্টারিকা

    এনরিকের তরুণ স্পেনের ছন্দময় ফুটবলে ছত্রভঙ্গ কোস্টারিকা    

    স্পেন ৭:০ কোস্টারিকা


     


    সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের দল ঘোষণার পর লুইস এনরিকের দিকে আঙুল তোলার লোকের অভাব হয়নি। তবে নিভৃতেই নিজের কাজ সেরে যাওয়া এনরিকের মাথায় যে পরিকল্পনা কিলবিল করছিল তার প্রমাণ তার তরুণ শিষ্যরা দিলেন মাঠে। কোস্টারিকাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলে স্পেনের তরুণ তুর্কিরা বার্তা দিয়ে রাখলেন বিশ্ব জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তারা এবার এসেছেন।

    ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই মাঠে স্পেনের তারুণ্যের ছাপ ছিল স্পষ্ট। সেই সাথে যেন স্পেনের সেই ছন্দময় পাসিংটাও ফিরে এসেছিল। মাঝমাঠ পেদ্রি-গাভির দাপটে খাবি খেতে থাকা কোস্টারিকার জালে প্রথমবার বল জালে জড়ান দানি ওলমো। ১১ মিনিটের মাথায় ডি-বক্সের মাথায় দারুণ পাস দেওয়া নেওয়ার পর গাভির বাড়িয়ে দেওয়া বল কোস্টারিকা ডিফেন্ডার পা লাগিয়ে প্রতিহত করলেও দক্ষতার সাথে বল নামিয়ে দারুণ এক ফিনিশ করেন ওলমো। দশ মিনিটের মাথায় বাঁ প্রান্ত থেকে আলবার বাড়িয়ে দেওয়া নিচ ক্রস ঠাণ্ডা মাথায় জালে জড়ান মার্কো আসেনসিও। স্পেনের পাসিংয়ে জেরবার কোস্টারিকা এর দশ মিনিটের মাথায় আলবাকে বক্সে ফেলে দেওয়া হলে পেনাল্টি থেকে গোল পান ফেরান তরেস। প্রথমার্ধে ওই তিন গোলে এগিয়েই শেষ করে স্পেন।

     

    দ্বিতীয়ার্ধ থেকেও সাঁড়াশি আক্রমণ চালায় স্পেন। তারই পরিক্রমায় কোস্টারিকার রক্ষণাত্মক ভুলের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে ৫৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পান তরেস। গোল পাওয়ার পরেই তরেসকে উঠিয়ে মোরাতাকে নামানো হলে ডান প্রান্ত থেকে সেই মোরাতার বুদ্ধিদীপ্ত এক ক্রসে অসাধারণ কৌশলে নিখুঁত এক ভলি থেকে নিজের গোলের খাতা খোলেন ‘গোল্ডেন বয়’ গাভি। ১৮ বছর ১১০ দিন বয়সে এই গোল দিয়ে তিনি সেই সাথে হয়ে যান স্পেনের বিশ্বকাপ ইতিহাসের কনিষ্ঠতম গোলদাতা ও বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৩য় কনিষ্ঠতম।

    যোগ হওয়া সময়ে এরপর দুই বদলির সংযোগে স্পেন পায় তাদের ষষ্ঠ গোল। নিকো উইলিয়ামসের নিচু ক্রস সরিয়ে দিতে কেইলর নাভাস ব্যর্থ হলে সেখান থেকেই বল জালে জড়ান কার্লোস সোলের। তার দুই মিনিট পরেই ওলমোর ক্ষুরধার এক পাস থেকে স্পেনের সপ্তম গোল করেন মোরাতা। বিশ্বকাপের আগে বড় নামের অভাবের জন্য স্পেনের স্কোয়াড নিয়ে পরিহাস কম হয়নি, এনরিকের দিকে উঠেছিল পক্ষপাতের আঙুল। সেই স্পেনই নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকে যেন কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করল। স্পেনের তরুণ স্কোয়াড যেন বার্তা দিল বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দক্ষতা দেখাতে নয়, তারা এসেছেন বিশ্ব জয় করতেই।