• আইপিএল ২০২৪
  • " />

     

    গ্রিন-চমকের পর ভাগ্য বদলাতে কি প্রস্তুত বেঙ্গালুরু?

    গ্রিন-চমকের পর ভাগ্য বদলাতে কি প্রস্তুত বেঙ্গালুরু?    

    এলেন কারা, গেলেন কারা

    ছেড়ে দেওয়াদের তালিকা যখন প্রকাশ করে বেঙ্গালুরু, চমকের অভাব ছিল না। দীর্ঘদিন সার্ভিস দেওয়া হার্শাল প্যাটেলকে ধরে রাখেনি। মে মাসের আগে খেলতে না পারা হ্যাজলউডকেও না, রাখেনি ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার সঙ্গে আরেক অলরাউন্ডার মাইকেল ব্রেসওয়েলকে। দুই বাঁহাতি পেসার ওয়েইন পারনেল ও ডেভিড উইলিকেও ছেড়ে দেয়। রিলিজড ছয় বিদেশির আরেকজন ফিন অ্যালেন। দেশিদের মধ্যে কেদার যাদব, সিদ্ধার্থ কৌল, আভিনাশ সিং, সনু যাদবকে বিদায় বলে দেয় বেঙ্গালুরু। নিলামের মঞ্চে বসার আগেই অবশ্য ট্রেডে বাজিমাত করে ফেলে তারা। ক্যামেরন গ্রিনকে দলে ভেড়ায় অল-মানি ট্রেডে ১৫ কোটি রুপিতে। আরেক ট্রেডে শাহবাজ আহমদকে দিয়ে হায়দরবাদের কাছে থেকে আনে মায়াঙ্ক দাগারকে। নিলামে পরে পেসের পেছনেই অর্থ ঢেলেছে। আলজারি জোসফের সংযোজন ঘটিয়েছে ১১ কোটি ৫০ লাখে। লোকি ফার্গুসন, টম কারানের সঙ্গে ইয়াশ দায়ালও পেয়েছেন নতুন ঠিকানা। তাদের সাথে দেশি দুই আনকোরাকেও ক্রয় করেছে- অলরাউন্ডার স্বপ্নীল সিং, ব্যাটার সৌরভ চৌহান।

    সম্ভাব্য ১২

    উইল জ্যাকসের মতো প্রতিভাবান থাকবেন ব্যাকআপ ব্যাটার হিসেবে। ফার্গুসন, জোসেফ ও টপলি- তিনজনের একজন পাবেন জায়গা। বাড়তি স্পিন চাইলে বাঁহাতি স্পিনার মায়াঙ্ক দাগার কিংবা স্বপ্নীল সিংয়ের ডাক পড়তে পারে। লেগ স্পিনে কার্ন শর্মার বিকল্প আছেন হিমানশু শর্মা। বাঁহাতি পেসে অপশন ইয়াশ দায়াল ও আনকোরা রাজন কুমার।

    ১। কোহলি

    ২। ডু প্লেসি

    ৩। পাতিদার

    ৪। গ্রিন

    ৫। ম্যাক্সওয়েল

    ৬। লমরর

    ৭। কার্তিক

    ৮। সুয়াস প্রাভুদেসাই/আনুজ রাওয়াত

    ৯। বিজয়কুমার/ কার্ন

    ১০। সিরাজ

    ১১। ফার্গুসন/টপলি/জোসেফ

    ১২। আকাশ দীপ/ দায়াল

    ব্যাটিং- পাওয়ারফুল ব্যাটিংয়ে ঘাটতি লেট-মিডল অর্ডারে

    গেল আসরে ব্যাট হাতে এতটাই সফল ছিল কোহলি-ডু প্লেসির ওপেনিং জুটি, পাওয়ারপ্লের সব পরিসংখ্যানেই বেঙ্গালুরু থেকেছে এগিয়ে। পাওয়ারপ্লেতে একমাত্র তাদেরই স্ট্রাইক রেট ছিল দেড়শর উপরে। প্রতি ছয় বলে তাদের চেয়ে বেশি রান আনতেও পারেনি আর কোন দলই। ব্যাট থেকে প্রতি ছয় বলে বেঙ্গালুরু শুরুর ছয় ওভারে এনেছে ৯.০১ রান। দুই ওপেনারই রান দিয়েছেন ছয়শের বেশি। 

    ওপেনিংয়ের সেই সাফল্যের সিংহভাগ যদি এবারও অটুট থাকে, তাহলে বেঙ্গালুরুর মিডল অর্ডারের পাওয়ার তাদের আশা বাড়িয়ে দিবে অনেকটুকুই। কিন্তু টপ অর্ডারের সাতজনের মধ্যে ছয়জনই ডানহাতি বলে পিছিয়ে গেল তারা? বেরিয়ে যাওয়া স্পিনে কোহলি ও ডু প্লেসির রানের গতি কমে যেতে পারে কিছুটা ঠিক, কিন্তু তাদের স্পিন মোকাবেলা করতে হবে না খুব বেশি। গ্রিনের অন্তর্ভুক্তি শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে বেঙ্গালুরুর, পাতিদারের ফেরাও স্বস্তি দিবে তাদের। তাদের সঙ্গে গেল আসরে ১৮০ এর বেশি স্ট্রাইক রেটে চারশ রান করা ম্যাক্সওয়েলের দিকে তাকিয়ে থাকবে বেঙ্গালুরুর সমর্থকেরা। এই তিন ব্যাটারই স্পিনের বিপক্ষে বেশ সাবলীল, গ্রিন ও ম্যাক্সওয়েলের মতো স্পিন হিটিংয়ে দক্ষতা তো খুব কম লোকেরই আছে। 

    এই পাঁচ ব্যর্থ হলে পরে কী! সেই প্রশ্নটাই ঘুরছে বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে। লেট মিডল অর্ডার যে তাদের দুশ্চিন্তারই জায়গা। দীনেশ কার্তিক গেলবার ১৩ ম্যাচে ১২ এর কম গড়ে রান করেছিলেন মাত্র ১৪০। অভিজ্ঞ কার্তিক ফর্ম ফিরে পেলে তো হলোই। শেষে ঝড় তুলতে দেশি ব্যাটারের জায়গায় যারা খেলবেন, প্রয়োজন পড়বে তাদেরও অবদানের। অনুজ রাওয়াত, মাহিপাল লমরর, সুয়াস প্রাবুদেশাই- কয়েক মৌসুম ধরে তিনজনেই ভরসা রেখে আসছে বেঙ্গালুরু। কিন্তু কেউই আশানুরুপ ফল এনে দিতে পারেননি এখনও। 

    বোলিংয়ে- স্পিন সবল না হলেও দেশি পেসই প্রধান ফ্যাক্টর

    পাওয়ারপ্লেতে আর কোন দলের যেখানে বোলিং গড় থাকেনি ত্রিশের নিচে, সেখানে গেল আসরে বেঙ্গালুরুর গড় ছিল বিশের কম। ইকোনমি রেটটাও ছিল দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। পাওয়ারপ্লেতে দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনী দেখালে কী হবে, পরে যে হয়েছে সর্বনাশই! মিডল ওভারে যে দুটি দলের গড় ত্রিশ ও ইকোনমি ছিল নয়ের উপরে, তার একটি বেঙ্গালুরুই। গড়, ইকোনমি রেটের হিসেবে অবশ্য তাদের চেয়ে খারাপ করেনি আর কোন দলই। ডেথেও তারা তৃতীয় সর্বোচ্চ ইকোনমিতে রান বিলিয়েছে। তাইতো ১৮০ রানের বেশি পুঁজি নিয়ে নেমেছিল পাঁচ ম্যাচে, তার মধ্যে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি চার ম্যাচেই। 

    এই যখন অবস্থা, বেঙ্গালুরু ম্যানেজমেন্ট বোলিং আক্রমণের চিন্তাধারাই বদলে ফেলেছে। পারনেল, উইলি, হার্শালের মিডিয়াম পেস নয়- চাই এখন হাই-পেস! নিলামের টেবিলে লড়ল জোসেফকে দলে আনতে। তার সঙ্গে আরেক গতিশীল ফার্গুসন ও গেল আসরে প্রায় পুরো আসর মিস করে ফেলা টপলির বাঁহাতি পেস। মাঝের ওভারে উইকেট তুলে নিতে তাদের হাই-পেসেই ভরসা রাখবে বেঙ্গালুরু। আর স্লোয়ার নির্ভর বোলিংয়ে বৈচিত্র্য চাইলে আছেন টম কারান। এত বিদেশি পেসের মধ্যে একজনই খেলবেন বলে দেশিদের কাঁধেই ঘুরেফিরে আসে দায়িত্ব। 

    মোহাম্মদ সিরাজের সঙ্গে জ্বলে উঠতে হবে বাকিদের। বিজয়কুমার বিশাখ ৭ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন গেলবার দশের বেশি ইকোনমিতে। দুই ম্যাচ খেলা আকাশ দীপও ছিলেন খরুচে। সুযোগ পেলে নতুন সংযোজন দায়াল রাখতে পারেন অবদান। চিন্নাস্বামীতে পেসেই সাফল্যের ছবি দেখতে পাচ্ছে বেঙ্গালুরু। সে কারণেই হয়তো হাসারাঙ্গাকে বিদায় করে দিয়েও নতুন কোন লেগিকে দলে আনেনি। চাহাল, জ্যাম্পা, কিংবা হাসারাঙ্গা- তাদের দলে যেখানে লেগির উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। 

    এবারও স্কোয়াডে থাকা কার্ন শর্মা ৭ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন গেলবার ১০ এর বেশি ইকোনমিতে। তিনি কী করতে পারেন, তা নিয়ে সন্দেহ থাকে নিশ্চিতভাবেই। গেলবার এক ম্যাচ খেলা আরেক লেগি হিমানশু শর্মা পরীক্ষিত নয়। দাগারের বাঁহাতি স্পিন দরকার পড়লে হতে পারে কার্যকর। ৩৩ বছর বয়সী স্বপ্নীল সিংয়ের বাঁহাতি স্পিনও আছে। স্পিন বিভাগে ম্যাক্সওয়েলকেই রাখতে হবে বড় অবদান। বেঙ্গালুরু স্পিনে সবল নয় নিঃসন্দেহে। তবে দেশি পেসই হবে প্রধান ফ্যাক্টর। 

    কুঁড়ি থেকে ফুল হওয়ার পালা

    রজত পাতিদারের জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া ইতোমধ্যে সারা। কিন্তু আইপিএলের মঞ্চে ২০২২ সালের আইপিএলে যেভাবে আগমন ঘটেছিল তার, গেল আসরে চোটে পড়ে আর নিজের সাফল্যের বেলুনটাকে বড় করা হয়নি। ২০২২ সালে ৮ ম্যাচেই করেছিলেন দেড়শোর বেশি স্ট্রাইক রেটে ৩৩৩ রান। এমন পারফরম্যান্সের পরও ধারাবাহিক না হলে ‘এক মৌসুমের ক্রিকেটার’ তকমা লেগে যেতে পারে। তবে এই ডানহাতির আগেরবারের পারফরম্যান্সকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আছে নিশ্চিতভাবেই।

    গেলবারের অবস্থান

    সাতটি করে জয় ও হারে রাজস্থানের সমান ১৪ পয়েন্ট হলেও নেট রানরেটে পিছিয়ে থাকতে হয়েছে ষষ্ট স্থানে।