• ফুটবল

২০২৬ সাল থেকে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ

৩২ দেশের ফুটবল বিশ্বকাপে আরও ১৬টি দেশ যুক্ত করে মোট ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ব্যাপারে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে এটি কার্যকর হবে। বিশ্বকাপের কাঠামো ঢেলে সাজাতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফানতিনোর আনা প্রস্তাব আজ মঙ্গলবার জুরিখের ফিফা সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন হয়। এর ফলে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলের কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

 

নতুন প্রস্তাবনা অনুসারে ৪৮টি দল ১৬টি গ্রুপে (প্রতি গ্রুপে ৩টি করে দল) ভাগ হয়ে প্রথম পর্বের খেলায় অংশ নেবে। প্রতি গ্রুপ থেকে শীর্ষ ২টি করে মোট ৩২টি দল যাবে নক-আউট পর্বে। এর ফলে বর্তমানের ৬৪ ম্যাচের কলেবর বেড়ে দাঁড়াবে ৮০ ম্যাচে। তবে পুরো আয়োজনটি বর্তমানের মতোই ৩২ দিনে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

বর্তমান কাঠামোর পক্ষে ভোট প্রদানের সুযোগ ছাড়াও প্রস্তাব ছিল আরও ৩ ধরণের কাঠামোর। ৪০ দলের অংশগ্রহণে ১০ গ্রুপে ৪টি করে দল বা ৮ গ্রুপে ৫টি করে দলের প্রথম পর্ব আয়োজনের প্রস্তাব ছিল। চতুর্থ বিকল্পে ছিল ৪৮ দলের অংশগ্রহণে ১৬ গ্রুপের শীর্ষ ১টি করে ১৬টি দল সরাসরি দ্বিতীয় পর্বে যাবে এবং বাকি ৩২টি দলের মধ্যে নক-আউট লড়াইয়ে আরও ১৬টি দল সরাসরি সুযোগ পাওয়া ১৬ দলের সাথে যোগ দেবে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতি গ্রুপ থেকে শীর্ষ ২টি করে দলের সরাসরি নক-আউটে যাবার প্রস্তাবই চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

 

ফিফা সভাপতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন কাঠামোয় গ্রুপ পর্বেও প্রতিটি ড্র হওয়া ম্যাচ মীমাংসার জন্য টাইব্রেকারের বিধান রাখা হতে পারে। এক ম্যাচ হাতে রেখেই পরের পর্ব নিশ্চিত করে ফেলা দলগুলো যেন নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাতানো খেলার সুযোগ না পায় সেজন্যই থাকতে পারে এমন ব্যবস্থা।

 

নতুন ফরম্যাটে ফিফার ছয়টি মহাদেশের কোনটি থেকে অতিরিক্ত আরও ক’টি করে দলের বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে সেটা জানা যাবে মে মাসের মধ্যেই।

 

এদিকে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইউরোপিয়ান ক্লাবস অ্যাসোসিয়েশন (ইসিএ)। আরো বেশী দেশকে বিশ্বকাপের স্বাদ দিতে ও ফুটবলের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতেই এ সিদ্ধান্ত- ফিফার এমন দাবী সঠিক নয় মন্তব্য করে সংস্থাটির দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফুটবলের স্বার্থে নয় বরং রাজনৈতিক চাপেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। ৩২ দলের বিশ্বকাপের পরীক্ষিত কাঠামোয় এতো বড় পরিবর্তন আনার আগে সংশ্লিষ্ট সবার সাথে পর্যাপ্ত আলোচনা না করে ৯ বছর বাকি থাকতে এমন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।