• " />

     

    ক্রিকেট ছেড়ে জীবনের পথে

    আইনপেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চান বলে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার জাফর আনসারি, মাত্র ২৫ বছর বয়সে। যে ক্রিকেটকেই ধ্যান-জ্ঞান মানেন অনেকেই, সেই ক্রিকেটকেই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ছেড়ে দিয়েছেন কেউ কেউ। তেমনই কয়েকজনের গল্প….


     

    রেকর্ডে কী এসে যায়!

    বারনি গিবসন, ১৯ বছর

    ইয়র্কশায়ার

    ইংলিশ ক্রিকেটেই ইতিহাস গড়েছিলেন। ইয়র্কশায়ারের উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে, গিবসনের বয়স তখন ১৫ বছর ২৭ দিন। ইংল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচটা খেলার জন্য স্কুল থেকে আলাদা করে অনুমতিও নিতে হয়েছিল তাঁকে। আজমল শেহজাদের মতো আন্তর্জাতিক বোলারদের বল সামলিয়েছিলেন, ক্যাচও নিয়েছিলেন ছয়টা। বয়সভিত্তিক দলে ফিরে যাওয়ার আগে ইয়র্কশায়ারের দ্বিতীয় একাদশের হয়েও কয়েকটা ম্যাচ খেলেছিলেন। তবে ১৯ বছর বয়সেই কাউন্টি চুক্তি থেকে তাঁকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন তিনি, ক্রিকেটে যে মন বসছিল না আর!


     

    উড়োজাহাজ উড়ো উড়ো

    ট্রাভিস ফ্রেন্ড, ২৪ বছর

    জিম্বাবুয়ে

    ২০০৫ সালে ১৫ ‘বিদ্রোহী’ ক্রিকেটারদের একজন ছিলেন ফ্রেন্ড। জিম্বাবুইয়ান বোর্ডের সাথে ঝামেলা করে যারা আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেননি। ফ্রেন্ড খেলেছিলেন ১৩টি টেস্ট, ৫১টি ওয়ানডে। বোলিংয়ে পেস ছিল, ব্যাট হাতেও কম যেতেন না। ডার্বিশায়ারের হয়ে কিছুদিন খেলা চালিয়ে গিয়েছিলেন, বাণিজ্যিক পাইলটের প্রশিক্ষণটা নেন এরপরই। ২০০৮ সাল থেকে ফ্লাইবি আর কাতার এয়ারওয়েজের পাইলটের কাজ করছেন ফ্রেন্ড, ক্রিকেট ছাড়ার পর এর চেয়ে রোমাঞ্চকর পেশা আর কিইবা হতে পারে! ফ্রেন্ড অবশ্য অফিশিয়ালি ক্রিকেট ছাড়েননি এখনও, বিমান ওড়ানোর রোমাঞ্চে সেসবের বোধহয় সময়ই মেলেনি!



    ভাইয়ের জন্য গান লিখি

    ফ্যাবিয়ান কাউড্রি, ২৪ বছর

    কেন্ট

    কাউড্রি। নামটাই যথেষ্ট, ক্রিকেটে এই পরিবারের আভিজাত্য বোঝাতে। কলিন কাউড্রি ছিলেন ইতিহাসের প্রথম ১০০ টেস্ট খেলা ক্রিকেটার, তাঁর এক ছেলে ক্রিস ছিলেন কেন্টের দীর্ঘদিনের অধিনায়ক, খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের হয়েও। আরেক ছেলে গ্রাহামও খেলতেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। বাপ-দাদার পথই অনুসরণ করেছিলেন ফ্যাবিয়ান, কেন্টের হয়ে খেলা শুরু করেছিলেন তিনিও। ২০১৩ থেকে ২০১৬, তিন ফরম্যাটেই কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ফ্যাবিয়ান। তবে ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসাটা ফুরিয়ে এলো, ফ্যাবিয়ান লেগে পড়লেন জমজ ভাই জুলিয়াসের জন্য গান লিখতে। ক্রিকেটের ২২ গজ নয়, ভাইয়ের জন্য গান লেখাতেই এখন জীবনকে খুঁজে পাচ্ছেন ফ্যাবিয়ান কাউড্রি!

     


     

    পরের জন্য বিলিয়ে প্রাণ

    হলি কলভিন, ২৬ বছর

    ইংল্যান্ড

    ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড মহিলা দলের হয়ে দুইটা অ্যাশেজ, একটা বিশ্বকাপ, দুইটা ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিও জিতেছেন। কলভিনের ক্রিকেট ক্যারিয়ার চলছিল অসাধারণভাবেই। ২০১৩ সালে একটু ছুটি নিলেন, ‘ক্রিকেট উইদাউট বাউন্ডারিস’ এর হয়ে সে সময়টাতেই আফ্রিকার দেশগুলোতে দাতব্য কাজ করতেন। এইডস নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রচারে নেমেছিলেন সেবার। ২০১৫ সালে স্বল্প সময়ের জন্য ক্রিকেটে ফিরেছিলেন কলভিন। তবে মন বসলো না আর, আইসিসিতে চাকরি নিয়ে নিলেন। ৫ টেস্ট, ৭২ ওয়ানডে, ৫০ টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়ে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মহিলা ক্রিকেটের সিনিয়র অফিসার এখন তিনি।


     

    বাণিজ্যেই মঙ্গল

    অ্যালেক্স লুডন, ২৭ বছর

    ইংল্যান্ড, কেন্ট, ওয়ারউইকশায়ার

    ২০০৫ সালে পাকিস্তান সফরের এক নেট অনুশীলনে মার্কাস ট্রেসকোথিককে দুসরা বোলিং করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন লুডন। হয়ে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ‘রহস্য-স্পিনার’। তবে সেই রহস্যটা বেশীদিন থাকেনি, একটা ওয়ানডে খেলার পরই নিয়ে নেন অবসর। ব্যবসায় মনোযোগ দেন, ক্যারিয়ারও গড়েন সেখানেই। অবসর নেয়ার এগারো বছর পর, লুডন এখন কর্পোরেট ফাইন্যান্স ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন!

     


    বিখ্যাত শল্যবিদ

    জর্জ থমস, ২৭ বছর

    ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া

    একটা টেস্ট খেলেই ক্রিকেটকে বিদায় বলেছিলেন থমস। হাতের চোট যে তাঁর ‘আসল’ পেশা, গাইনোকোলজিস্ট সার্জারির ক্যারিয়ারে ক্ষতি করতে পারে! অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত ‘সার্জন’ হয়েছিলেন থমস, সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনিই প্রথম চালু করেছিলেন ‘লেজার সার্জারি’। প্রথম শ্রেণিতে গড় ছিল ৩৫, ফাস্ট বোলিংয়ের স্বর্ণযুগে তিনটা সেঞ্চুরিও ছিল তাঁর। রিচি বেনো ও কলিন ম্যাকডোনাল্ডের সঙ্গে অভিষেক হয়েছিল, তবে থমস যে ক্রিকেটে জীবন নয়, জীবন বাঁচানোতেই জীবন খুঁজে নিয়েছিলেন!

     




    গান গাই আমার মনরে বুঝাই

    হেনরি ওলোংগা, ২৭ বছর

    জিম্বাবুয়ে

    ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে নিজদেশের গনতন্ত্র হত্যার প্রতিবাদে কালো আর্মব্যান্ড পরে নেমেছিলেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও হেনরি ওলোংগা। সেই টুর্নামেন্টের পর আর জিম্বাবুয়েতে থাকা হয়নি তাঁদের, চলে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডে। সেখানেই হাঁটুর চোটে পড়লেন ওলোংগা, সর্বনাশা হয়ে দাঁড়ালো সেটাই। ক্রিকেট ছেড়ে দিলেন ওলোংগা, ক্যারিয়ার গড়লেন সংগীতে। ওলোংগা অপেরা গান, টুকটাক কাজ করেন বিভিন্ন মিডিয়াতেও!


     

    চলি আলোর পথে

    টাটেন্ডা টাইবু, ২৯ বছর

    জিম্বাবুয়ে

    ২০১২ সালে সবধরনের ক্রিকেট ছেড়ে দিলেন সাবেক জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক। কারণ, চার্চের হয়ে কাজ করতে চান! ক্রিকেট ছেড়ে যেন আলোর পথে ছুটলেন, ঈশ্বরের আলো! ২৮ টেস্ট ও ১৫০ ওয়ানডে খেলার পর ক্যারিয়ারটা আর দীর্ঘায়িত করলেন না। তবে চার্চেও বোধহয় বেশীদিন মন টেকেনি, সম্প্রতি জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটে ফিরে এসেছেন প্রশাসক হয়ে! নিজ দেশের অন্ধকারাচ্ছন্ন ক্রিকেটে যদি একটু আলো ফেরাতে পারেন এবার!



    তথ্যসূত্রঃ ইএসপিএন ক্রিকইনফো 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন