• " />

     

    বার্সা নয়, ন্যু ক্যাম্পে জিতল ফুটবল

    দুই দলের সবাই নিজ নিজ পজিশনে দাঁড়িয়ে গেছেন, রেফারিও খেলা শুরু করতে প্রস্তুত। সেন্টার করার জন্য শ্যাপোকোইন্সের পক্ষ থেকে সুযোগ করে দেওয়া হলো ফোলম্যান ও নেটোকে। ভয়াবহ সেই বিমান দুর্ঘটনায় অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যাওয়া দুই ফুটবলার বলে পা ছোঁয়ানো মাত্রই করতালিতে ফেটে পড়লো ন্যু ক্যাম্পের হাজারো দর্শক। দুজনই আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রয়াত সতীর্থদের উদ্দেশ্যে কিছু একটা বললেন। ওদিকে ফোলম্যান ও নেটোর মতো বেঁচে যাওয়া অ্যালান রুশেলের চোখেও অশ্রু। জন গ্যাম্পার ট্রফির বার্সেলোনা-শ্যাপোকোইন্স প্রীতি ম্যাচে তাই বিশ্ব দেখল ফুটবল ও জীবনের জয়গান।

     

    কয় গোল হলো, কে জিতল, কে হারল; এই ম্যাচে হয়তো এসব নিয়ে কেউ ভাবেনি। শ্যাপোকোইন্স ফুটবলারদের জার্সিতে ছিল ৭১ টি তারা, স্মরণ করেছেন দুর্ঘটনায় মৃত সেই ৭১ জনকে। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের ফুটবলাররা কুশল বিনিময় করেছেন। শ্যাপোকোইন্সের ফুটবলারদের কাঁধে কাধ মিলিয়ে ছবিও তুলেছেন। বার্সা কোচ ভালভের্দে শ্যাপোকোইন্সের ফুটবলার সাহস জুগিয়ে বলেছেন, দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন।

     

     

    হ্যাঁ, এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন। তাইতো এক পা হারানো ফোলম্যান, প্রায় অসম্ভব সার্জারি থেকে সুস্থ হয়ে ফেরা রুশেলও নামলেন মাঠে। ফোলম্যানের হয়তো কিপিং করা হয়নি, তাতে কী হয়েছে? সাইডলাইন থেকে পুরো ৯০ মিনিটই দলকে শক্তি জুগিয়েছেন নেটোর সাথে। ৩৫ মিনিট পর্যন্ত খেলেছেন রুশেলও। ম্যাচ শেষে মেসির সাথে জার্সিও বদল করেছেন।

     

     

    ম্যাচে গোল এসেছে পাঁচটি, সবকয়টিই করেছে বার্সা। জেরার্ড ডেলোফু ৬ মিনিটের মাথায় এগিয়ে দেন দলকে। এরপর ১১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বুসকেটস। ২৮ মিনিটে গোল আসে মেসির পা থেকে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে লুইস সুয়ায়রেজ ও ৭৪ মিনিটে ড্যানি সুয়ারেজের গোলে ৫-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করে বার্সা।

    গোলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। তবে ফরোয়ার্ডদের সুযোগ হাতছাড়া করা ও ৮৯ মিনিটে পাকো আলকাসাররের পেনাল্টি মিসে সেটা আর হয়ে ওঠেনি। তরুণ শ্যাপোকোইন্স পেরে ওঠেনি বার্সা ডিফেন্সের সাথে। গোলের সুযোগও তাই খুব একটা তৈরি হয়নি।

    ম্যাচ হারলেও ন্যু ক্যাম্পে ঠিকই হৃদয় জিতে নিয়েছে শ্যাপোকোইন্স। বার্সা নয়, ন্যু ক্যাম্পে তাই জিতল ফুটবলই। 

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন