• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ইউনাইটেডের হারে আরও এগিয়ে গেল সিটি

    হাডার্সফিল্ড টাউনের কাছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শেষ হারটা ছিল ৬৫ বছর আগে। ৮৪ মিনিটেও যখন এক গোলে পিছিয়ে থাকা ইউনাইটেডের আক্রমণের ঝড় সামলাতে ব্যস্ত ঘরের দল, তখন স্ট্যান্ডে উঠে দাঁড়ালেন ক্লাবের বর্তমান সভাপতিও। বাকি দর্শকের মতো দলকে উৎসাহ জুগিয়ে গেলেন শেষ পর্যন্ত। হাডার্সফিল্ডও আর খেই হারাল না। আর দুই ভুলের মাশুল গুণে হাডার্সফিল্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

    ইউনাইটেড পথ হারালেও ম্যানচেস্টার সিটির জয়রথ ছুটছেই। ইতিহাদে বার্নলিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে আছে পেপ গার্দিওলার দল। দুইয়ে থাকা হোসে মরিনহোর দল পিছিয়ে আছে ৫ পয়েন্টে।



    জন স্মিথ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য একটা সুযোগ পেয়েছিল ম্যান ইউনাইটেড। তবে রোমেলু লুকাকুর শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক। এরপর হাডার্সফিল্ড গোলরক্ষককে বিপদে ফেলতে ৭২ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে ইউনাইটেডকে, সে দফায় অ্যান্ডার হেরেরার হেড ঠেকিয়ে দেন জোনাস লসেল। এসবের অনেক আগেই অবশ্য প্রথমার্ধে দুবার ইউনাইটেডের জালে বল জড়িয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে হাডার্সফিল্ড।

    ২৩ মিনিটে ফিল জোন্স ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে তার জায়গায় নামেন ভিক্টর লিন্ডেলফ। ইউনাইটেডের রক্ষণে ভাঙনের শুরু তখনই। প্রথম গোলে অবশ্য হুয়ান মাতার দায়টাই বেশি। মাঝমাঠে বল হারিয়ে ফেলেছিলেন, সেখান থেকেই আক্রমণে যায় হাডার্সফিল্ড। প্রথমে ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি শটে আর রক্ষা করতে পারেননি ডেভিড ডি গিয়া। ২৮ মিনিটে অ্যারন মুইয়ের শট জালে জড়ালে এগিয়ে যায় হাডার্সফিল্ডের।   


    এর পাঁচ মিনিট পরই আরও একবার ভুল করে বসে ইউনাইটেড। হাডার্সফিল্ড গোলরক্ষকের উড়িয়ে মারা বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি লিন্ডেলফ। এবার তাকে শাস্তি দেন স্ট্রাইকার লরেন্ট ডেপয়েত্রে।

    বেলজিয়ান স্ট্রাইকারের গোলে লিড দ্বিগুণ করে হাডার্সফিল্ড। কিন্তু অন্যপাশে আরেক বেলজিয়ান লুকাকু তখনও নীরব দর্শক। মাঝমাঠে থেকে বলের যোগান পেতেই হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাকে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগেই তাই হেনরিখ মিখিতারিয়ান ও মার্কোস র‍্যাশফোর্ডকে নামিয়ে দেন হোসে মরিনহো।

    দুই গোলে পিছিয়ে থেকে প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নেই মরিনহোর। দুই বদলিও সেই ভাগ্য বদলাতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। অবশ্য র‍্যাশফোর্ড ৭৮ মিনিটে হেড দিয়ে এক গোল শোধ দিয়ে আশা দেখিয়েছিলেন। শেষদিকে ক্রিস স্মলিংও সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু হাডার্সফিল্ডের রক্ষণের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইউনাইটেড।  



    মরিনহো ব্যর্থ হলেও গার্দিওলা অবশ্য ঠিকই পেরেছেন আরও একটি জয় বাগিয়ে নিতে। ঘরের মাঠে সিটির হয়ে প্রথম গোলটা করেছেন সার্জিও আগুয়েরো। পেনাল্টি থেকে করা গোলে এরিক ব্রুকের পাশে নাম লিখিয়েছেন আগুয়েরো। ব্রুকের সমান ১৭৭ গোল নিয়ে আগুয়েরোও এখন সিটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। 

    প্রায় প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে গোলের বন্যা বয়ে দেয়া সিটিকে বার্নলির বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৭৩ মিনিট পর্যন্ত। হেড দিয়ে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আরেক আর্জেন্টাইন নিকোলাস অটামেন্ডি। এর দুই মিনিট পরই বার্নলির জালে আরও একবার বল ঢোকান লিরয় সানে।


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন