• বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা
  • " />

     

    বিস্মিত মাহমুদ, অপেশাদারি মনে হচ্ছে ফারুকের

    জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে ফারুক আহমেদ পদত্যাগ করেছিলেন গত বছরের জুন মাসে। নির্বাচক প্যানেল বর্ধিত করে প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান ও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, ফারুক মানতে পারেননি সেটাই। 

    চন্ডিকা হাথুরুসিংহে যখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মাঝেই পদত্যাগপত্র দেন, ফারুক তখন নির্বাচক নন, মাহমুদও ছিলেন না ম্যানেজার হিসেবে। হাথুরুসিংহের এভাবে চলে যাওয়াটাকে ‘একটু অপেশাদার’ মনে করছেন ফারুক, আর বিস্ময়ের ঘোরে আছেন মাহমুদ। বোর্ডে হাথুরুসিংহের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হিসেবে মনে করা হয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট ও মাহমুদকেই। সেই মাহমুদও জানতেন না কিছুই! 

    ম্যানেজার না হলেও দিন পাঁচেকের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিলেন মাহমুদ, দলের সঙ্গেও ছিলেন। হাথুরুর কাছ থেকে কোনোরকম ইঙ্গিত পাননি, এমনকি কথাবার্তা শুনেও মনে হয়নি, তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছেন, ‘আমি তার সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলাম। আড়াই বছর তিন বছর কাজ করার সুবাদে একটা ভাল সম্পর্ক ছিল আমাদের। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েও সে আমাকে কোনো  আভাস দেয়নি। বলেওনি। আমি আসলে বিস্মিত। কেন যাচ্ছে, সেটা তো জানি না। তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারবো। দেশের ক্রিকেটে আসলে তার অবদান অনেক এ তিন বছরে। যদি সে আসলেই চলে যায়, যোগাযোগ নাও হয়, অবশ্যই আমরা তাকে মিস করবো।’

    ‘ফোন করেছিলাম আমিও, কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম। ফোন বন্ধ ছিল। হয়তো সে তার সময় নিচ্ছে। হয়তো জানে, লোকে সবাই চেষ্টা করবে যোগাযোগ করতে। তবে আমি যতদূর জানি, চন্ডিকা খুবই সোজাসাপটা একজন মানুষ। ইতিবাচকও। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সাড়া পাব। কেউ চলে যেতে চাইলে, আটকাতে পারবো না তো, তাই না! কিন্তু কেন চলে যাচ্ছে, এটা জানতে হবে। এই সময় হঠাৎ করে চলে যাওয়াটা একটু হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ক্ষতি হলো।’


    আর ফারুকের কাছে ব্যাপারটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভাল বলে মনে হচ্ছে না, ‘বিদেশি কোচ আসবে, তারা সারা জীবন থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সে যেভাবে পদত্যাগ পত্র দিয়েছে এটা পেশাদার ছিলোনা। কারণ বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভালো করেছে। তার সঙ্গে যে চুক্তি, তার সুবিধা, পৃথিবীর অন্যতম সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত কোচ, এছাড়াও তার অনেক কর্তৃত্ব ছিল। তবে চুক্তির আগে এমন হঠাৎ করে, আগে জানালে আমাদের জন্য ভালো হতো। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এই প্রস্থানটা খুব একটা সুখকর না আমাদের জন্য।’

    ফারুকের মতো মাহমুদও বলছেন, হাথুরুর সুযোগ সুবিধা বা সমর্থন নিয়ে আপত্তি থাকার কথা নয়, ‘চন্ডিকার যতো সমর্থন দরকার ছিল, বোর্ডের তরফ থেকে বলতে পারি, সেগুলো সবই বোর্ড করেছে। আমার মনে হয় না, বিসিবির সম্পর্কে সে খারাপ কিছু বলবে, সামনে আশা করি তার কাছ থেকে আমরা শুনবো। তবে এটাই আসলে জীবন। কেউ চলে যাবে, কেউ আসবে। আমরা টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর অনেকেই আসছে গেছে। আমরা তো দিশে হারায়নি। আশা করি সামনেও ক্রিকেট এগিয়ে যাবে। আর ছেলেরাও অনেক পরিণত। সাকিবরা এখন অনেক অভিজ্ঞ। যেই আসুক, একটা অভিজ্ঞ দলকেই পাবে, আশা করি সমস্যা হবে না’, মাহমুদ বিস্মিত হলেও সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই শ্রেয় বলে মনে করছেন এখন। ফারুকও চান, বোর্ড এসব মেনে নিয়েই এগিয়ে যাক। 

    আর হাথুরুসিংহের সঙ্গে দল নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধটাও আরেকবার খোলাসা করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচক, ‘আমি আসলে কোচকে নির্বাচক কমিটিতে আনার বিরোধিতা করি নাই, করেছিলাম পদ্ধতিটার বিরোধিতা। আমি যখন প্রথমবার ২০০৩ থেকে ২০০৭-এ দায়িত্বে ছিলাম তখন কিন্তু আমার কমিটিতে ডেভ হোয়াটমোর ছিল। যখন কোনো বিদেশি সিরিজ থাকতো না তখন তাকে জাতীয় লিগের খেলা আমি দেখাতাম। একটা রোস্টারের মতো বানিয়ে আমি সিলেট, হোয়াটমোর চট্টগ্রাম, বা হোয়াটমোর ঢাকা, আমি খুলনা আর অন্য দুই নির্বাচক যারা ছিল তারা ঘুরে ঘুরে ম্যাচ দেখেছি। আমার প্রশ্ন ছিল (হাথুরুকে) ওইরকম, আপনি যদি নির্বাচক কমিটিতে থাকেন তবে নির্বাচক কমিটির যে কাজ তার কিছুটা অন্তত করা দরকার। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা দেখতে হবে, নাহলে খেলোয়াড় খুঁজে পাবেন কখন! ২৪ জনের যে খেলোয়াড় সেটা নির্বাচকরা বের করে নিয়ে আসে। এরপর ওইটা থেকে যদি আপনি খেলোয়াড় বেছে নেন, তার মানে কি অনুশীলন থেকে আপনি খেলোয়াড় বাছাই করছেন না?’

    নতুন পদ্ধতিতে খুব একটা সুফল বাংলাদেশ পায়নি বলেও ধারণা তার, ‘ফলাফল কিন্তু খুব একটা ভালো হবে না। এর আগে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে কিছু কাজ দেখেছি, অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডে প্রায় ২৩টা খেলোয়াড় গিয়েছিল তার সঙ্গে। অনেক খেলোয়াড়ের অভিষেকও হয়েছিল। আমি বলতে চেয়েছি কোচ যদি নির্বাচক কমিটিতে থাকে তাহলে এটা দলের জন্য ভালো হয়, আমি কখনোই বিরোধিতা করি নাই যে কোচ থাকতে পারবে না।’

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন