• ফুটবল

শেষ মুহুর্তের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারাল ব্রাজিল

যে গতিতে চলছিল তাতে ড্রয়ের পথেই এগুচ্ছিল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ। প্রীতি ম্যাচ হলেও, আয়োজক কমিটির সিদ্ধান্তে খেলা ড্র হলে সরাসরি টাইব্রেকারে যাওয়ার কথা ছিল। তাতে ম্যাচের উত্তেজনা আরেক প্রস্থ বাড়তও। সেটা আর হয়নি, কিন্তু শেষ মুহুর্তের গোলে ফল নির্ধারণ হয়ে আবারও প্রমাণ হয়েছে এই দুই দলের কোনো ম্যাচই 'প্রীতি' নয়। ৯৩ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে করা মিরান্ডার গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ব্রাজিল।

সৌদি আরবের কিং ফাহাদ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধটা অবশ্য ছন্নছাড়া ফুটবলই খেলেছে দুইদল। জিওভানি লো সেলসো আর্জেন্টিনার হয়ে আক্রমণ শুরু করেছিলেন ডিবক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে, সেই শট দলে ফেরা অ্যালিসনের কোনো সমস্যার কারণ হয়নি। তবে ২৩ মিনিটে নিজেই দলকে বিপদে ফেলে দিতে পারতেন তিনি, বলের নিয়ন্ত্রণ প্রায় হারাতে বসেছিলেন এগিয়ে আসতে থাকা অ্যানহেল কোরেয়ার কাছে। ওই যাত্রায় অবশ্য বেঁচেই গেছেন অ্যালিসন, বেঁচে গেছে ব্রাজিলও। আধ ঘন্টা পেরুনোর কিছু সময় পর পাউলো দিবালার ফ্রি কিকও গেছে বাইরে দিয়ে, তখনও অ্যালিসনকে করতে হয়নি তেমন কিছুই। প্রথমার্ধে সেরা সুযোগটা অবশ্য পেয়েছিল ব্রাজিলই। লেফট উইং থেকে আসা ক্রস দারুণ দক্ষতায় নামিয়ে এনে আর্জেন্টিনার ডিবক্সের ভেতর থেকে কোণাকুণি ভলি করেছিলেন মিরান্ডা, গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোও হার মেনেছিলেন, কিন্তু লাইন থেকে দলকে বাঁচিয়েছেন নিকোলাস অটামেন্ডি।



দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে ধার বাড়ায় দুইদলই।  তবে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগই ছিল বেশি সপ্রতিভ। ৬০ মিনিটে ইকার্দির কাছ থেকে বল পেয়ে লো সেলসো ভালো একটা জায়গায় থেকে গোলে শট নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। পরের মিনিটেই আরেকবার লো সেলসোর পায়েই আসে সুযোগ, সে দফায়ও ব্যর্থ তিনি। হেসুস, নেইমার, ফিরমিনোদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন দিবালা, ইকার্দিরা- ব্রাজিলের দুশ্চিন্তার কারণও ছিল সেটাই। ৮০ মিনিটের আগ পর্যন্ত ব্রাজিলকে কিছুটা দিশেহারাই মনে হয়েছে। ওই সময়ের ভেতর মাউরো ইকার্দির একটা শট ব্লক করতে গিয়ে দানিলো মাঠ ছাড়েন। ব্রাজিল কোচ তিতে খেলোয়াড় বদলেছেন এরপর আর একবার। আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি অবশ্য ৫ টি বদল করেও ভাগ্য বদলাতে পারেননি। দিবালা উঠে গেছেন ৫৮ মিনিটেই, মার্টিনেজ, সালভিও, পেরেরারা পরে নেমেও খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি।

শেষ ১০ মিনিটে চাঙা হয়ে ওঠা ব্রাজিলের আক্রমণ গোলের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কাসেমিরোর একটা ফ্রি কিক অল্পের জন্য লক্ষ্যভেদ না করে চলে যায় বাইরে দিয়ে। ৯৩ মিনিটে অবশেষে ভাঙে ডেডলক, কর্নার থেকে মিরান্ডাকে ফাঁকায়ই থাকতে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডাররা। রোমেরোও এগিয়ে গিয়ে বল ধরতে গিয়ে ব্যর্থ, মিরান্ডার লাফিয়ে ওঠা হেড তাই খুঁজে পেল নিশানাও। ওই গোলেই নির্ধারিত হল সুপার ক্লাসিকোর ফল। 

আর্জেন্টিনা একাদশ
সার্জিও রোমেরো, নিকোলাস অটামেন্ডি, রেঞ্জো সারাভিয়া, রদ্রিগো আন্দ্রেস, নিকোলাস টালিয়াফিকো, জার্মান পেজ্জেলে, জিওভানি লো সেলসো, লেয়ান্দ্রো পারেদেস,   অ্যানহেল কোরেয়া, মাউরো ইকার্দি, পাউলো দিবালা 

ব্রাজিল একাদশ
অ্যালিসন বেকার, দানিলো, মিরান্ডা, মার্কিনহস, ফিলিপে লুইস, আর্থার, কাসেমিরো, ফিলিপ কৌতিনহো, নেইমার, গ্যাব্রিয়েল হেসুস, রবার্তো ফিরমিনো