• বিশ্বকাপের ক্ল্যাসিক মুহুর্ত
  • " />

     

    • বিশ্বকাপের ক্ল্যাসিক মুহুর্ত

    ১৯৮৭ : লর্ডসের 'দায়' নাগপুরে মোচন গাভাস্কারের

    ১৯৭৫ সালে লর্ডসের ম্যাচটা ছিল সুনীল গাভাস্কারের তৃতীয় ওয়ানডে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তার অদ্ভুতুড়ে শম্বুকগতির ইনিংস যেন বুড়ো আঙুলই দেখিয়েছিল ওয়ানডে ক্রিকেটকে। তার ৩৬ রানের ইনিংস হয়ে আছে বিশ্বকাপের অন্যতম ‘বিতর্ক’ হয়ে। তবে ১২ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে বদলে গেলেন যেন গাভাস্কার, হয়তো ক্যারিয়ারের শেষবেলায় করলেন সেই ইনিংসটারই দায়মোচন। 

    সমীকরণটা জটিল ছিল না ভারতের জন্য। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নাগপুরে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২২২ রান। এর আগে বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন চেতন শর্মা, নিউজিল্যান্ড আটকে গিয়েছিল ২২১ রানেই। 

    তবে অস্ট্রেলিয়াকে টপকে গ্রুপে শীর্ষে থাকতে ভারতকে সে রানটা করতে হতো ৪২.২ ওভারের মাঝেই। এক নম্বরে থেকে ভারতের গ্রুপ শেষ করা মানে মুম্বাইয়ে সেমিফাইনালের হাতছানি। আর সেটা না হলে তাদেরকে সেমিফাইনাল খেলতে হতো সীমান্তের ওপারে লাহোরে গিয়ে, চির-প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে। ওভারপ্রতি ৫.২৫ হারে রান এ যুগে হয়তো কোনও ব্যাপারই না তেমন, তবে আশির দশকের শেষের দিকে তো খুব সহজ বা নিয়মিত ছিল না সেটা। 

    অবশ্য ওপেনিংয়ে ভারতের ছিলেন কৃষ্ণচামারি শ্রীকান্ত, ‘ড্যাশিং’ বলেই জানতেন তাকে সবাই। তার কাছ থেকে একটা ঝড়ো শুরু ভারত আশা করেছিল ঠিকই। তবে তার সঙ্গী যে সেদিন তাকেও ছাড়িয়ে যাবেন- সেটা হয়তো একটু অননুমেয়ই ছিল। 

     

     

    শ্রীকান্তের সঙ্গী গাভাস্কার নামটাই একটু খটকা জাগায়, তবে গাভাস্কার সেদিন যেন অন্যরকমের ব্যাটসম্যান। প্রথম দুই ওভারেই দুজন তুললেন ১৮ রান। এরপর এউইন চ্যাটফিল্ডের এক ওভারেই গাভাস্কার তুললেন ২১ রান। প্রথম চার বল ছিল এমন- চার, চার, ছয়, ছয়। 

    ৮ম ওভারেই ফিফটি হয়ে গেল ভারতের। পরের পঞ্চাশ করতে ভারত সময় নিল আরও কম- ছয় ওভার। ৫৮ বলে ৭৫ রান করে ফিরলেন শ্রীকান্ত, তিন ছয়ের সঙ্গে মারলেন ৯টি ছয়। গাভাস্কার অবশ্য থামলেন না। মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে নিয়ে চালিয়ে গেলেন ঝড়। 

    এর আগে ১০৫ ওয়ানডেতে কোনও সেঞ্চুরি ছিল না গাভাস্কারের, সে আক্ষেপটা দূর করলেন সেদিন। ড্যানি মরিসনের বলে ফ্লিক করে সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে লাগলো ৮৫ বল। ১০৪ ওয়ানডে আগে লর্ডসের সেই ইনিংসে ৩৬ রান করতেই গাভাস্কার খেলেছিলেন ১৭৪ বল! এদিন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেন ৮৮ বলে ১০৩ রানে। ৩ ছয়, ১০ চার। 

    আজহারউদ্দিন অপরাজিত ছিলেন ৫১ বলে ৪১ রান করে। ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে ভারতকে রান তুলতে হতো ৫.২৫ হারে, গাভাস্কারদের ঝড়ে ভারতের রানরেট ছিল ৬.৯৬। নির্ধারিত ওভারেরও দশ ওভার আগেই জিতে গিয়েছিল ভারত। 

     

     


    এরপর যা ঘটেছিল- 
    দিন পাঁচেক পর মুম্বাইয়ে গ্রাহাম গুচের ১১৫ রানের ইনিংসের পর ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তা পায়নি ভারত। ঘরের দর্শকদের সামনে গাভাস্কার করেছিলেন ৭ বলে ৪ রান। ওয়াঙ্খেড়ের সেই ম্যাচের পর আর ওয়ানডে খেলেননি গাভাস্কার।